স্পোর্টস ডেস্ক : বয়স মাত্র ১৫। এরই মধ্যে আইপিএলে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে ক্রিকেটবিশ্বের নজর কেড়েছেন ভারতের তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। জাতীয় দলের হয়ে এখনও পর্যন্ত শুধু টি-টোয়েন্টিতে খেলার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তবে টেস্ট ক্রিকেটে বৈভবকে দেখার অপেক্ষায় এরই মধ্যে অনেকেই।
যদিও সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার মন্টি পানেসর মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের জন্য এখনও প্রস্তুত নন বৈভব। তাঁর মতে, লাল বলের ক্রিকেটে সফল হওয়ার মতো প্রয়োজনীয় টেকনিক ও অভিজ্ঞতা এখনও তৈরি হয়নি এই তরুণের।
মাইকেল ক্লার্কের আয়োজিত এক পডকাস্টে পানেসর বলেন, এত সহজে বৈভব টেস্ট ক্রিকেটে খেলতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। হ্যারি ব্রুক এখন একমাত্র ব্যাটার, যে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি—দুই ফরম্যাটের র্যাঙ্কিংয়েই সেরা দশে রয়েছে। আমার মনে হয় না, বৈভবের মধ্যে এখনও সেই টেকনিক রয়েছে।
বৈভবের ব্যাটিংয়ের ধরনও পানেসরের এমন মতের অন্যতম কারণ। ক্রিজে দীর্ঘ সময় কাটানোর চেয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই তরুণ। ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলতে গিয়ে মাঝেমধ্যে উইকেটও হারাতে হয় তাঁকে। তার ওপর লাল বলের ক্রিকেটে এখনও খুব বেশি অভিজ্ঞতা হয়নি বৈভবের।
তবে পানেসরের সঙ্গে একমত নন মাইকেল ক্লার্ক। তিন ফরম্যাটে সফল হওয়া বিরাট কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের উদাহরণ টেনে বৈভবের টেস্ট সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক।
ক্লার্কের মতে, “তিন ফরম্যাটেই আপনি খেলতে পারেন। কোহলি বা ডি ভিলিয়ার্স সেটা দেখিয়ে দিয়েছে। ওরা অসাধারণ টেস্ট ক্রিকেটার ছিল। আবার টি-টোয়েন্টিতেও দাপিয়ে খেলেছে। বৈভবের মতো এই প্রজন্মের কোনো ক্রিকেটার যদি টেস্টেও খেলে, তাহলে সেটি দেখার মতো একটা বিষয় হবে।
বৈভবের ব্যাটিংয়ের দুটি দিক বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন ক্লার্ক—তাঁর শক্তি এবং বলের চরিত্র দ্রুত বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা।
“এই মুহূর্তে শক্তিই ওর আসল অস্ত্র। অনুমানক্ষমতাও অসাধারণ। ওর বয়সী তরুণ ক্রিকেটারদের তুলনায় বলটা অনেক ভালোভাবে খেলে। ভারত যে পরিমাণে সফর করে, তাতে বৈভবের উন্নতিই হবে, বলেন ক্লার্ক।
অর্থাৎ বৈভবকে এখনই টেস্টে খেলানোর পক্ষে নন পানেসর, অন্যদিকে ক্লার্ক দেখছেন তাঁর মধ্যে তিন ফরম্যাটে সফল হওয়ার সম্ভাবনা। শেষ পর্যন্ত লাল বলের ক্রিকেটে বৈভব কতটা দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।