শিরোনাম
◈ সিগারেট-ওষুধ-মোবাইলসহ ১১ খাতের জন্য এনবিআরের নতুন আদেশ  ◈ সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮১ কোটি ডলার ◈ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-ভারত বিটুবি টাস্কফোর্সের তাগিদ ◈ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও সা‌বেক ভি‌সি  মাকসুদ কামালসহ ৫ জ‌নের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ◈ এশিয়ান গেমস ম‌হিলা ক্রিকে‌টে স্বর্ণ-রৌপ্যের সুযোগ শেষ, এবার ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পা‌কিস্তান ◈ রাজধানীতে বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টার সময় যুবক আটক ◈ আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হামের উপসর্গে, মোট ১০৫৭ ◈ আরও ৬ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে, হাসপাতালে ১৫৯৩ ◈ জাল টাকার বস্তা ময়লার ভাগাড়ে, আসল ভেবে হুলস্থুল কাণ্ড ◈ বাংলাদেশ-পাকিস্তানকে একই চোখে দেখলে ভারতের কৌশলগত ক্ষতি: শেখর গুপ্ত

প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৭ সকাল
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:২৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৯৭ শতাংশ খাদ্যবর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে দক্ষিণ কোরিয়া, যেভাবে সম্ভব হলো

খাদ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ কোরিয়ার সাফল্য এখন নজর কাড়ছে বিশ্বজুড়ে। দেশটিতে গৃহস্থালির খাদ্য বর্জ্য ল্যান্ডফিলে যাওয়ার হার প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এবার সেই মডেল অনুসরণ করে খাদ্য বর্জ্য আলাদাভাবে সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি।

advertisement

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের ইয়েওইদো এলাকায় বাসিন্দা সেউংহোয়ান হং প্রতি সপ্তাহের সবজির খোসা, পড়ে থাকা ভাত ও ফলের খোসা নিয়ে যান আবাসিক ভবনের খাদ্য বর্জ্য ফেলার স্মার্ট বিনে। সেখানে কার্ড স্ক্যান করলেই বিনের ঢাকনা খুলে যায়। বর্জ্যের ওজন পর্দায় দেখা যায় এবং সেই অনুযায়ী বাসিন্দার হিসাবে নির্দিষ্ট ফি যোগ হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে এক মিনিটেরও কম।

১৯৯০-এর দশক থেকে খাদ্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনে দক্ষিণ কোরিয়া। ১৯৯৬ সালে দেশটির খাদ্য বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা বেড়ে প্রায় ৯৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

advertisement

এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় কারণ স্মার্ট বিন। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব বিনে বর্জ্যের ওজন ও ফি নির্ধারণ করা হয়। ২০২৫ সালের সরকারি হিসাবে, দেশজুড়ে প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার স্মার্ট বিন চালু রয়েছে, যা ৮৬ লাখের বেশি পরিবারকে সেবা দিচ্ছে।

সংগৃহীত খাদ্য বর্জ্যের একটি বড় অংশ বায়োএনার্জি কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। মধ্যাঞ্চলের দেজন বায়ো এনার্জি সেন্টার তার গ্রহণ করা বর্জ্যের ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত পুনর্ব্যবহার করে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রায় ৬ হাজার পরিবারের দৈনিক চাহিদা মেটাতে পারে।

advertisement

এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার এই মডেল অনুসরণে ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে বাসিন্দাদের খাদ্য বর্জ্য আলাদা করে রাখার নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রায় ৩৪ লাখ পরিবারকে আওতাভুক্ত করা এই কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অর্গানিক বর্জ্য পুনরুদ্ধার উদ্যোগ।

তবে নিউইয়র্কে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাসিন্দাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। নিয়ম না মানায় ৬৩ হাজারের বেশি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহরজুড়ে ৪০০টির বেশি স্মার্ট কম্পোস্টিং বিন বসানো হয়েছে।

২০২৫ সালে নিউইয়র্কের আবাসিক এলাকা থেকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টন অর্গানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে। তবে এটি বছরে উৎপন্ন মোট আবাসিক খাদ্য বর্জ্যের মাত্র ৯ শতাংশ। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ৯৭ শতাংশ পুনর্ব্যবহারের লক্ষ্যে পৌঁছাতে নিউইয়র্ককে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

সূত্র: বিবিসি

  • সর্বশেষ