শিরোনাম
◈ সিগারেট-ওষুধ-মোবাইলসহ ১১ খাতের জন্য এনবিআরের নতুন আদেশ  ◈ সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮১ কোটি ডলার ◈ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-ভারত বিটুবি টাস্কফোর্সের তাগিদ ◈ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও সা‌বেক ভি‌সি  মাকসুদ কামালসহ ৫ জ‌নের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ◈ এশিয়ান গেমস ম‌হিলা ক্রিকে‌টে স্বর্ণ-রৌপ্যের সুযোগ শেষ, এবার ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পা‌কিস্তান ◈ রাজধানীতে বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টার সময় যুবক আটক ◈ আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হামের উপসর্গে, মোট ১০৫৭ ◈ আরও ৬ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে, হাসপাতালে ১৫৯৩ ◈ জাল টাকার বস্তা ময়লার ভাগাড়ে, আসল ভেবে হুলস্থুল কাণ্ড ◈ বাংলাদেশ-পাকিস্তানকে একই চোখে দেখলে ভারতের কৌশলগত ক্ষতি: শেখর গুপ্ত

প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:২২ রাত
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:২২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চিকিৎসার অভাবে এক সন্তানের মৃত্যু, দু’জনকে বাঁচাতে বাবা-মায়ের আকুতি

মোহাম্মদ সোহেল, নোয়াখালী : নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চাকলা গ্রামের দিনমজুর ইউছুফ মিয়া ও আমেনা বেগমের তিন সন্তানই গুরুতর শারীরিক ও বিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে প্রায় দুই মাস আগে মারা গেছে তাঁদের বড় ছেলে দিদার হোসেন মামুন। এখন বাকি দুই সন্তান শারমিন আক্তার আঁখি ও ইয়াছিন হোসেনকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে এই দম্পতির।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে বিয়ে হয় ইউছুফ মিয়া ও আমেনা বেগমের। বিয়ের দুই বছর পর তাঁদের প্রথম সন্তান দিদার হোসেন মামুনের জন্ম হয়। দুই বছর বয়সের পর থেকেই তার শারীরিক ও বিকাশজনিত নানা সমস্যা দেখা দেয়। সে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে ও কথা বলতে পারত না।

advertisement

সন্তানের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছুটেছেন ইউছুফ-আমেনা দম্পতি। কিন্তু দিনমজুরের সামান্য আয় দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে তাঁদের মেয়ে শারমিন আক্তার আঁখি ও ছেলে ইয়াছিন হোসেনের জন্ম হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের মধ্যেও বড় ভাইয়ের মতো শারীরিক ও বিকাশজনিত সমস্যা দেখা দেয়। বর্তমানে দুই সন্তানই স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও কথা বলতে পারে না এবং তাঁদের দৈনন্দিন কাজের জন্য বাবা-মায়ের সহায়তার প্রয়োজন হয়।

advertisement

পরিবারের দাবি, তিন সন্তানের চিকিৎসা ও পরিচর্যার পেছনে নিজেদের জমানো অর্থ ব্যয় করার পাশাপাশি ধারদেনাও করেছেন ইউছুফ মিয়া। একপর্যায়ে সহায়-সম্বল হারিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ইউছুফ মিয়া বলেন, আমার সামর্থ্য যতটুকু ছিল, সন্তানদের চিকিৎসার জন্য সব করেছি। এখন আর পারছি না। এক ছেলেকে চিকিৎসার অভাবে হারিয়েছি। বাকি দুই সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। সরকার ও বিত্তবান মানুষ সহযোগিতা করলে সন্তান দুটির চিকিৎসা করাতে পারতাম।

advertisement

পরিবার জানায়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসা ও নিয়মিত পরিচর্যার প্রয়োজন ছিল সন্তানদের। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসা করাতে পারেননি তাঁরা। প্রায় দুই মাস আগে চিকিৎসার অভাবে বড় ছেলে মামুনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই বাকি দুই সন্তানকে নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন বাবা-মা।

মা আমেনা বেগম বলেন, আমার সন্তান দুটি খুব কষ্টে আছে। আমি মা হয়ে চোখের সামনে এই কষ্ট দেখতে পারি না। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। সবাই যদি একটু সহযোগিতা করেন, আমার সন্তানগুলোর চিকিৎসা করাতে চাই।

প্রতিবেশীরা জানান, অভাব-অনটনের সংসার হলেও সন্তানদের চিকিৎসা ও পরিচর্যায় কখনো অবহেলা করেননি ইউছুফ ও আমেনা। নিজেদের সামর্থ্যের শেষটুকু দিয়ে সন্তানদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। এখন তাঁদের প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা।

পরিবারের দাবি, বড় ছেলে মামুন সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় ছিল। তবে বাকি দুই সন্তান আঁখি ও ইয়াছিন এখনো কোনো সরকারি ভাতা বা অনুদানের আওতায় আসেনি।

এ বিষয়ে এওজবালিয়া ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইব্রাহিম খলিল কাজল বলেন, ইউছুপ মিয়া প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছেন। আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার বড় ছেলে মামুনকে ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কিন্তু চিকিৎসার অভাবে দুই মাস আগে মারা যায় মামুন।

তিনি বলেন, ইউছুপ মিয়ার বাকি দুই সন্তান আঁখি ও ইয়াসিনের প্রতিবন্ধী কার্ডের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। তাদের প্রতিবন্ধী কার্ডের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সরকারি ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার ও বৃত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই জনপ্রতিনিধ। 

  • সর্বশেষ