দেশে গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সক্ষমতা অব্যবহৃত থাকছে। পেট্রোবাংলার সর্বশেষ দৈনিক গ্যাস ও কনডেনসেট উৎপাদন এবং বিতরণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৮-১৯ সেপ্টেম্বর ২৪ ঘণ্টায় দেশের ১১৯টি উৎপাদনশীল কূপ থেকে গ্যাসের উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৬০৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)।
বিপরীতে এসব কূপ ও এলএনজি সরবরাহ মিলিয়ে মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৩ হাজার ৮৫৪ এমএমসিএফডি। অর্থাৎ সক্ষমতার ৬৭ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) ৪৪টি কূপের উৎপাদন সক্ষমতা ৮৫১ এমএমসিএফডি। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৪৮৩ দশমিক ২ এমএমসিএফডি। প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতার প্রায় ৫৭ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ১৭টি উৎপাদনশীল কূপের সক্ষমতা ১৪৩ এমএমসিএফডি। এসব কূপ থেকে উৎপাদন হয়েছে ১৩৯ দশমিক ৯ এমএমসিএফডি, যা সক্ষমতার ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ১৫টি কূপের সক্ষমতা ১৪৫ এমএমসিএফডি। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১০১ দশমিক ৮ এমএমসিএফডি। অর্থাৎ সক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে।
তিন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মোট ৭৬টি উৎপাদনশীল কূপের সক্ষমতা ১ হাজার ১৩৯ এমএমসিএফডি। এসব কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন হয়েছে ৭২৪ দশমিক ৯ এমএমসিএফডি। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় কূপগুলোর সক্ষমতার প্রায় ৬৪ শতাংশ কাজে লাগছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর (আইওসি) ৪৩টি উৎপাদনশীল কূপের মোট সক্ষমতা ১ হাজার ৬১৫ এমএমসিএফডি। এসব কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন হয়েছে ৯০০ দশমিক ৬ এমএমসিএফডি। এর মধ্যে শেভরনের বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে সর্বোচ্চ ৭৩২ দশমিক ৩ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদন হয়েছে। জালালাবাদ থেকে ১২২ দশমিক ৯ এবং মৌলভীবাজার থেকে ১৫ দশমিক ৮ এমএমসিএফডি উৎপাদন হয়েছে। তাল্লোর বাঙ্গোরা গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন হয়েছে ২৯ দশমিক ৬ এমএমসিএফডি।
এছাড়া আরপিজিসিএল-এর আর-এলএনজি অংশে সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডি থাকলেও সরবরাহ হয়েছে ৯৮২ দশমিক ৯ এমএমসিএফডি।
সব মিলিয়ে প্রতিবেদনের হিসাব মতে, দেশের গ্যাস উৎপাদন ও এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতা ৩ হাজার ৮৫৪ এমএমসিএফডি। এর বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ২ হাজার ৬০৮ দশমিক ৪ এমএমসিএফডি।
সূত্র: জাগো নিউস ২৪