শিরোনাম
◈ সিগারেট-ওষুধ-মোবাইলসহ ১১ খাতের জন্য এনবিআরের নতুন আদেশ  ◈ সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮১ কোটি ডলার ◈ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-ভারত বিটুবি টাস্কফোর্সের তাগিদ ◈ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও সা‌বেক ভি‌সি  মাকসুদ কামালসহ ৫ জ‌নের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ◈ এশিয়ান গেমস ম‌হিলা ক্রিকে‌টে স্বর্ণ-রৌপ্যের সুযোগ শেষ, এবার ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ পা‌কিস্তান ◈ রাজধানীতে বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টার সময় যুবক আটক ◈ আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হামের উপসর্গে, মোট ১০৫৭ ◈ আরও ৬ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে, হাসপাতালে ১৫৯৩ ◈ জাল টাকার বস্তা ময়লার ভাগাড়ে, আসল ভেবে হুলস্থুল কাণ্ড ◈ বাংলাদেশ-পাকিস্তানকে একই চোখে দেখলে ভারতের কৌশলগত ক্ষতি: শেখর গুপ্ত

প্রকাশিত : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৫৯ বিকাল
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:০৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মধুমতির পেটে আশ্রয়ণের ঘর: নদীতীরে ঝুপড়িতে মাখন-হাসিনাদের মানবেতর জীবন

হারুন-অর-রশীদ, ​ফরিদপুর প্রতিনিধি: দূর থেকে দেখলে মনে হবে ফেলে রাখা কোনো পরিত্যক্ত কুঁড়েঘর। কিন্তু কাছে পৌঁছাতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে রূঢ় বাস্তবতা। ঝুপড়ির ভেতরে মানুষের হাঁসফাঁস লড়াই, টিকে থাকার আকুতি। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চাপুলিয়া আশ্রায়ণ প্রকল্পে মধুমতি নদীর পাড়ে এখন এমনই এক করুণ চিত্র। নদীভাঙনে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে নদীতীরেই ঝুপড়ি বেঁধে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন নিঃস্ব দুটি পরিবার।

​চাপুলিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পটি মধুমতি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর বাসিন্দাদের অধিকাংশ অন্যত্র চলে গেছেন। কিন্তু আশ্রয় খোঁজার সামর্থ্য না থাকায় নদীপাড়েই পলিথিন ও ছন দিয়ে তৈরি ছোট ঝুপড়িতে স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছেন দিনমজুর মাখন রবি দাস।

advertisement

​হতাশা আর কষ্টের কথা জানাতে গিয়ে মাখন রবি দাস বলেন, "একসময় আলফাডাঙ্গা বারাশিয়া নদীর শ্মশান ঘাটে থাকতাম। পরে ২০১২ সালে সরকার এইখানে থাকার জায়গা দেয়। ভালোই চলছিল দিন। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে আমাদের ঘরটা নদীতে চলে গেল! এই দুনিয়ায় আমার আর কোনো জায়গা নেই। তাই পরিবার নিয়ে নদীর পাড়েই রাত কাটাচ্ছি।"

​পাশে দাঁড়িয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে তাঁর স্ত্রী রিতা দাস বলেন, "অন্যের বাড়িতে কাজ করে সন্তানদের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিই। রাতে ঠিকমতো ঘুম হয় না, মনে হয় এই বুঝি নদীতে ভেসে গেলাম!"

advertisement

​একই চিত্র ধরা পড়ে পাশের চাপুলিয়া গুচ্ছগ্রাম এলাকাতেও। ভাঙনের মুখে পড়ে সবাই সরে গেলেও অসুস্থ স্বামী, বৃদ্ধা মা ও চার সন্তানকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে সামান্য ছাউনি টাঙিয়ে দিন পার করছেন হাসিনা বেগম।

​আবেগাপ্লুত হয়ে হাসিনা বলেন, "আমার স্বামীর নিজের কোনো জমিজমা নেই। সরকার গুচ্ছগ্রামে ঠাঁই দিলে এখানে এসেছিলাম। কিন্তু কয়েকদিন আগে আমাদের সেই শেষ সম্বলটুকুও নদী গিলে খেয়েছে। স্বামী খুব অসুস্থ, কাজ করতে পারেন না। ঘরে বৃদ্ধা মা আর চার ছোট সন্তান। নিজে মানুষের বাড়ি কাজ করে যা পাই, তা দিয়েই কোনোমতে সবার পেট চালাই।"

advertisement

​স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাহিদ বলেন, "নদীতে সব হারিয়ে পরিবার দুটো আজ পুরোপুরি নিঃস্ব। তাদের কোথাও যাওয়ার বিন্দুমাত্র জায়গা নেই।"

​বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম কালু বলেন, "বিত্তবানদের উচিত এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো। দ্রুত তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।"

​টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সাহায্যের ব্যবস্থা করতে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হচ্ছে।

​এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ,কে,এম রায়হানুর রহমান বলেন, "আশ্রয়ণ প্রকল্পের কোনো ঘর ফাঁকা আছে কি না তা খুঁজে বের করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি সরকারি কোনো খাস জমিতে তাঁদের ঘর তৈরি করে দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।"