শিরোনাম
◈ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পরিণতি কী, জানালেন তিন বিশেষজ্ঞ ◈ রাজধানীতে শিশু অপহরণের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল ◈ বিশ্বের নতুন মানচিত্র অনুমোদন দিলো জাতিসংঘ ◈ তিন দিনজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি-বজ্রপাত, কোথাও ভারী বর্ষণের আভাস ◈ নবম পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে শেষ মুহূর্তে জটিলতা ◈ 'দেশের মানুষের কোনো উপকারে আসেনি': ভারতীয় কোম্পানিকে ব্যবসা গোটানোর নির্দেশ কেনিয়ার প্রেসিডেন্টের ◈ 'I'm Sorry Sir' লিখে চীনা ব্যবসায়ীর কোটি টাকা নিয়ে গাড়িচালক উধাও! ◈ পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ জন নিহত, চলছে তল্লাশি ◈ জলবায়ু ও যুদ্ধের ধাক্কা, বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ: জাতিসংঘ ◈ সরকার একা নয়, অংশীদারত্বে হবে চট্টগ্রামের পানি সংকটের সমাধান: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:১১ রাত
আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:১১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পরিণতি কী, জানালেন তিন বিশেষজ্ঞ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত অবসানে দ্রুত কোনো চুক্তির সম্ভাবনা আবারও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। বিবদমান দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে এবং কেউ কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলছে না।

কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতের নতুন ধাপে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এর আওতায় তারা ইরান এবং দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর সর্বাত্মক অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে। এই ঘোষণার পরপরই নতুন করে হামলা শুরু হলো।

ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ছিল ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করা। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা বন্ধ করাও ছিল উদ্দেশ্য।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই সংঘাত শুরু করে। এর পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক নৌপথ কার্যত বন্ধ রয়েছে।

গত জুনে দুই পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও চুক্তিতে পৌঁছানো। তবে সেই সময়সীমা ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

সংঘাতটি এখন সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নিতে পারে, তা নিয়ে বিবিসি তিনজন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়েছে।

ইরানকে দুর্বল করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
জেসন ক্যাম্পবেল, সিনিয়র ফেলো, মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট, ওয়াশিংটন ডিসি

আসল সমস্যা হলো ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য ঠিক কী, তা আমরা এখনো স্পষ্টভাবে জানি না। রাজনৈতিক দিক থেকে কতটুকু ছাড় দেওয়া সম্ভব, হোয়াইট হাউস তা বারবার পর্যালোচনা করছে। শুরুতে ভাবা হয়েছিল, সামরিক শক্তি দিয়েই দ্রুত জয় পাওয়া যাবে; কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশিত ফল আসেনি।

এখন আমরা যা দেখছি, ওয়াশিংটন সামরিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন প্রভাব কাজে লাগিয়ে চাপ তৈরির চেষ্টা করছে।

এই মুহূর্তে মার্কিন প্রশাসন পরিস্থিতি একরকম স্থবির রাখতেই আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে। তারা অর্থনৈতিক অবরোধ বহাল রাখছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে বিঘ্ন সৃষ্টির মতো ইরানি সক্ষমতাগুলোতে মাঝেমধ্যে আক্রমণ চালিয়েই সন্তুষ্ট থাকছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের আশা, নতুন এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান দুর্বল হয়ে পড়বে। একপর্যায়ে নতি স্বীকার করে তারা দুর্বল অবস্থানে থেকে আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করতে পেরেছে। উদ্দেশ্য, বিশ্ববাজারে তেলের দামে যাতে বড় ধাক্কা না লাগে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়ানো। তবে যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কেবল এটুকুই ছিল না।

আমার ধারণা, সংকট সমাধানের বিনিময়ে ইরান বড় ধরনের সুবিধা দাবি করবে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রাজনৈতিকভাবে সেই দাবি মেনে নেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়ের অপেক্ষায় থাকবে ইরান
আনিসেহ বাসিরি তাবরিজি, অ্যাসোসিয়েট ফেলো, চ্যাথাম হাউস, লন্ডন

সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার ফলে যুদ্ধের ব্যাপারে ইরানের মূল কৌশলে কোনো পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি না। তেহরান তাদের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি গত কয়েক মাসের মতো বিচ্ছিন্ন হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতিও তাদের আছে। বড় ধরনের যুদ্ধ এড়াতে প্রতিটি হামলার আনুপাতিক জবাব দেওয়াটা হবে তাদের কৌশল।

অর্থনৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করলে, এসব নিষেধাজ্ঞা স্পষ্টত দেশটির অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যুদ্ধের কারণে তাদের অর্থনীতি আগে থেকেই বিপর্যস্ত। এ ছাড়া দেশটিতে কাঠামোগত দুর্বলতাও রয়েছে, যা আমরা গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারির বিক্ষোভের সময়ে দেখেছি।

অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে ইরান শিগগিরই তাদের অবস্থান বদলাবে কিংবা আলোচনার টেবিলে নতি স্বীকার করবে—এমন কোনো ইঙ্গিত আমি ইরানের দিক থেকে দেখছি না।

এর অর্থ এই নয় যে ইরান সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে না। আমার মতে, আমরা যেটা দেখছি, ইরান চায় যুক্তরাষ্ট্র আগের সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) ফিরে যাক অথবা কোনো ধরনের ছাড় দিক। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে রাজি নয়। নতুন নিষেধাজ্ঞা বা আরও বেশি হামলার মুখেও তারা নিজেদের নীতি বদলাবে না।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ফিরতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
নিকোলাস হপটন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও ইরানে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত

সাম্প্রতিক ইরানে হামলা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এভাবে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না। এটি আসলে চলমান সংকটের আরেকটি নতুন অধ্যায়মাত্র। অর্থনৈতিক চাপ কাজ করবে বলে মনে হয় না। কারণ, চীন, রাশিয়াসহ যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করবে না।

ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করা অব্যাহত রাখতে পারে। কারণ, তারা বিশ্ব অর্থনীতির মূল নাড়ি চেপে ধরে বসে আছে।

এই সংঘাত থেকে বের হতে হোয়াইট হাউসের কৌশল কী হতে পারে?
আসলে যুক্তরাষ্ট্র পথটি ইতিমধ্যে খুঁজে পেয়েছে। ট্রাম্প যদি গত জুনের সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে আলোচনার জন্য আন্তরিক উদ্যোগ নিতেন, তবে সেটাই হতো সংঘাত থেকে বের হওয়ার মোক্ষম উপায়।

এই চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্রের একরকম বিজয় অর্জিত হতো। একই সঙ্গে ইরানের ভেতরে কট্টরপন্থীরা দুর্বল হতো। পাশাপাশি ইরান যে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না, সেই নিশ্চয়তাও মিলত।

ওই সমঝোতা স্মারকে একটি বড় ধরনের জাদুকরি সমাধান ছিল। সেটি হলো ইরানের ওপর থেকে সব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।

নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে ধীরে ধীরে ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ক্ষমতা কমে যেত। বহির্বিশ্বের সঙ্গে ইরানের অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়লে দেশটিতে ধীরে ধীরে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তন আসত। ফলে ইরানে ইসলামি শাসনব্যবস্থা টিকে থাকলেও তার চরিত্র হতো সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ইরানের অর্থনীতিতে আইআরজিসির আধিপত্য অনেক বেশি। তাই বিষয়টি সহজে অর্জন করা যেত না। তবে পর্যাপ্ত সময় দিলে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা কৌশলগত ধৈর্য দেখালে এই কৌশল কাজ করত। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এই মুহূর্তে সেই ধৈর্যের বড়ই অভাব।

আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, আমরা একটি বিশৃঙ্খল ও অমীমাংসিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই চলব। আর এই পরিস্থিতি সবার জন্যই ক্ষতিকর। উৎস: বিবিসি

 

  • সর্বশেষ