কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছে ওমান। মাসকাটে ইরানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সময় ওমানের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব আনা হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি দুটি পৃথক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অবশ্য প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে চুক্তিটি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালির উত্তর ও দক্ষিণ, উভয় দিকের নৌপথই জাহাজ চলাচলের জন্য খোলা থাকবে।
ওমানের দেওয়া প্রস্তাবের আওতায়, দেশটির নিজস্ব জলসীমার মধ্যে থাকা দক্ষিণ করিডর দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো যুদ্ধ-পূর্ব পরিস্থিতির মতো সম্পূর্ণ অবাধে চলাচলের সুযোগ পাবে।
অন্যদিকে, ইরানের জলসীমার মধ্যে থাকা উত্তর করিডর দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে তেহরানের পূর্বানুমতি নিতে হবে। তবে এই বিশেষ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের শুল্ক বা টোল আরোপ করা হবে না।
এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ‘উপযুক্ত ব্যবস্থা’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শনিবার আরাগচি তার অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে জানান, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুদেশের মধ্যে ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াতের জন্য একটি ‘মধ্যবর্তী লেন’ চালুর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এই নৌপথটির অচলাবস্থা নিরসনে ওমানের এই নতুন প্রস্তাবকে বেশ ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধের জবাবে ইরান কার্যত এই কৌশলগত নৌপথটি বন্ধ করে দেয়।