শিরোনাম
◈ আইনি জটিলতায় এমবাপ্পে, হতে পারে তিন বছরের কারাদণ্ড ◈ ছয় মাসের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা: দায়িত্ব কমতে পারে কয়েকজন মন্ত্রীর, নতুন মুখ আসতে পারেন মন্ত্রিসভায় ◈ বাংলাদেশিদের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের কারণ জানাল মার্কিন দূতাবাস ◈ রাজস্ব ও ব্যাংকিং সংস্কারে জোর, নতুন ঋণ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা শুরু ◈ বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৭ দফা নির্দেশনা, প্রয়োজনে ছুটি বাতিল ◈ বন্যা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সমন্বিত পরিকল্পনা, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন ◈ মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলসেতু ২৪ ঘণ্টায় সচল করল ইরান ◈ সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর, রেশন সুবিধার আওতায় আসছেন যাঁরা ◈ চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত ◈ স্বাস্থ্যখাতে বড় নিয়োগের ঘোষণা, দেশেই উন্নত চিকিৎসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১১ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৩৭ রাত
আপডেট : ১১ জুলাই, ২০২৬, ০৯:১৬ রাত

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

ছয় মাসের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা: দায়িত্ব কমতে পারে কয়েকজন মন্ত্রীর, নতুন মুখ আসতে পারেন মন্ত্রিসভায়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পাঁচ মাস পার হতে চলেছে। আগস্টে সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হবে। এই সময়ে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন ও রদবদল আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। সূত্র বলছে, একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের কাজের চাপ কমাতে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হতে পারে। অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকা এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা থাকা মন্ত্রণালয়গুলোতেও রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। আবার মন্ত্রিসভার আকার কিছুটা বাড়তে পারে। সূত্র: দেশরুপান্তর প্রতিবেদন

বিষয়টি নিয়ে সরকারের একাধিক মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তারা বলছেন, মন্ত্রিসভায় রদবদল কিংবা দপ্তর পুনর্বণ্টনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেখছেন। এ বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই।

জাতীয় নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে নতুন সরকার। মন্ত্রিসভার এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের দায়িত্বের প্রাথমিক মেয়াদ ছয় মাস। সব মন্ত্রীর কর্মকাণ্ড লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। ছয় মাস পর এটি পর্যালোচনা করা হবে। এতে বাদ পড়তে পারেন মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য। যুক্ত হতে পারে নতুন মুখ।’

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানান, বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং কাজের ধীরগতির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে নানা ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তার দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়া হতে পারেÑ এমন আলোচনাও চলছে। এ ছাড়া কর্মদক্ষতা ও আঞ্চলিক ভারসাম্য বিবেচনায় কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তর বদল বা দায়িত্ব কমানো হতে পারে। বিশেষ করে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকা এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা থাকা মন্ত্রণালয়গুলোতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন মন্ত্রী হিসেবে মাহিদুর রহমান, এরশাদ উল্লাহ, এবিএম মোশাররফ হোসেন এবং সেলিমা রহমানের নাম আলোচনায় রয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বৃহত্তর নোয়াখালী থেকে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বরকত উল্লা বুলু, জয়নুল আবদিন ফারুক আসতে পারেন মন্ত্রিসভায়। টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেলের নামও আছে আলোচনায়।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ওই সূত্রটি জানায়, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রী পদমর্যাদায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট নন বিএনপিপন্থি আমলারা। তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ আমলাদের প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সারোয়ারকে। ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি করার নির্দেশ দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তালিকায় তার নাম রয়েছে। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতির প্রোটোকল অফিসার এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সমালোচনার মুখে পরে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। বিশেষ করে গত ২১ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর গত ২৮ জুন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হয়। তবে তিনি ১১ দিনেও নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি। এর মধ্যেই তাকে কার্যত বাদ দিয়ে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে রেজা হাসানকে অন্য কোনো পদে পদায়ন করে এখন পর্যন্ত আলাদা কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।

কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে অবহেলার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বরখাস্ত হওয়া ছাদেকুর রহমান সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়েছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের তদন্ত চলছিল। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার তিনি যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বর্জ্য অপসারণে ছাদেকুরের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এখনো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত আছেন। এভাবে সমন্বয়হীনভাবে চলছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সূত্র আরও জানায়, বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার মন্ত্রণালয় নিয়ে সন্তুষ্ট নন। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় তিনি ছাড়তে চান। শেখ রবিউল আলম সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নতুন মন্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। বিভিন্ন ভুলভ্রান্তি নিয়ে গণমাধ্যমে মাঝেমধ্যে সমালোচনা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। সব মিলিয়ে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন করা দরকার।

বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন, জনআকাক্সক্ষা পূরণ ও প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনেও মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর পাশাপাশি রদবদল দরকার। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেওয়ার পর তার নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় ২৫ মন্ত্রী এবং ২৪ প্রতিমন্ত্রী জায়গা পান। এর বাইরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা আছেন।

গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে। এদিন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমকে স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। পরে তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানকে। এ ছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে সংসদের ডেপুটি স্পিকার করা হয়। তার পরিবর্তে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মীর হেলাল উদ্দিন।

এর পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আগে থেকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন মীর হেলাল উদ্দিন। এরপর গত ১ জুন পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তার পদত্যাগের পর এই মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে মন্ত্রী করা হয়নি।

এদিকে দিল্লি, নিউইয়র্ক, লন্ডন ও জেনেভাসহ বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনগুলোতে বড় ধরনের রদবদলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিশনে রাজনৈতিক বিবেচনায় এবং কিছু ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ কূটনৈতিকদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত বুধবার মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তাকে প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগেই তিনি নিউইয়র্কে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। সরকারের চলমান কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে এ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়