শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ০৪ মে, ২০২৬, ০৭:০৩ বিকাল
আপডেট : ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৪৯ বছরের রাজনৈতিক ধারায় ভাঙন, ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে বিজয়

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর (থালাপতি বিজয়) চলতি বিধানসভা নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে জয়ী হলে প্রায় ৪৯ বছরের রাজনৈতিক ধারার অবসান ঘটাতে পারেন। কারণ, ১৯৭৭ সালের পর আর কোনো চলচ্চিত্র তারকা সরাসরি জনগণের ভোটে এই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি। খবর এনডিটিভির।

১৯৭৭ সালে কিংবদন্তি অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ এম.জি. রামচন্দ্রন তামিলনাড়ুর ক্ষমতায় আসেন এবং টানা এক দশকের বেশি সময় রাজ্য পরিচালনা করেন। তিনি তার বিপুল জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করে জনকল্যাণমূলক রাজনীতির এক নতুন ধারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে জয়ললিতা মুখ্যমন্ত্রী হলেও তিনি নিজস্ব নতুন দল গড়ে নয়, বরং তার রাজনৈতিক গুরু এম.জি. রামচন্দ্রনের প্রতিষ্ঠিত এআইএডিএমকে-এর নেতৃত্ব নিয়েই ক্ষমতায় আসেন।

advertisement

বর্তমান নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে সোমবার (৪ মে) দেখা যাচ্ছে, বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজগম (টিভিকে) ১০৮টি আসনের মধ্যে এগিয়ে রয়েছে। তামিলনাড়ুর ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য ১১৮টি আসন প্রয়োজন, ফলে বিজয় এখন সংখ্যাগরিষ্ঠতার একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করছেন।

বিজয়ের এই উত্থান হঠাৎ করে হয়নি, বরং এটি দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত প্রস্তুতির ফল। ২০০৯ সালে তিনি তার ভক্তদের সংগঠনকে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কম’ হিসেবে সংগঠিত করেন, যা শুরুতে একটি সামাজিক ও সেবামূলক প্ল্যাটফর্ম ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংগঠনটি তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত হয়ে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক নেটওয়ার্কে পরিণত হয়।

advertisement


২০১১ সালে তিনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এআইএডিএমকে-নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন দেন। এরপর ধীরে ধীরে তার জনসভা, চলচ্চিত্র-সংক্রান্ত অনুষ্ঠান এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে রাজনৈতিক বক্তব্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তিনি বেকারত্ব, শিক্ষা, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার মতো বিষয়গুলো সামনে আনতে শুরু করেন, যা বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলে।

২০২১ সালের স্থানীয় নির্বাচনে তার সংগঠনের প্রার্থীরা ভালো ফলাফল করলে প্রমাণ হয় যে তার জনপ্রিয়তা বাস্তব ভোটে রূপান্তরিত হতে পারে। এরপর ২০২৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তামিলাগা ভেট্রি কাজগম দল গঠন করেন এবং ঘোষণা দেন যে তিনি কোনো জোট ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে তিনি প্রায় তিন দশকের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার থেকে সরে এসে পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোনিবেশ করেন।

advertisement

তবে এই পথ একেবারে মসৃণ ছিল না। ২০২৫ সালে করুরে একটি অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা তার নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি প্রকাশ্যে দায় স্বীকার করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন, যা তার রাজনৈতিক দায়িত্ববোধের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে, এআইএডিএমকে এবং বিজয়ের টিভিকে—এই তিনটি শক্তির মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে নতুন সমীকরণ গড়ে উঠতে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এমজিআরের উত্থান যেখানে জনকল্যাণমূলক রাজনীতি ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল, সেখানে বিজয়ের জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে নতুন প্রজন্মের উদ্বেগ, শাসনব্যবস্থার ক্লান্তি এবং স্বচ্ছ পরিবর্তনের প্রত্যাশা থেকে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন তামিলনাড়ুর রাজনীতিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। বিজয় যদি সরকার গঠন করতে পারেন, তবে তিনি প্রায় পাঁচ দশক পর প্রথম অভিনেতা-রাজনীতিবিদ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত হবেন। আর যদি তা না-ও হয়, তবুও তিনি প্রমাণ করেছেন যে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একটি নতুন শক্তির উত্থান এখন আর অসম্ভব নয়।

  • সর্বশেষ