শিরোনাম
◈ তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলে এবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ◈ গঙ্গা চুক্তিসহ নদী ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত আলোচনা চলছে: রণধীর জয়সওয়াল ◈ মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ২৫ বাংলাদেশি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ ◈ রাষ্ট্রপতি কার্যালয়সহ ৩ সচিব পদে রদবদল ◈ বিশ্বকাপ ফাইনালে মারামারি: ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ পারেদেস, আর ৭ ম্যাচ মোলিনা ◈ নতুন পাঁচজনকে নিয়ে মন্ত্রিসভায় রদবদল, কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন? ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব ◈ ইতালির তৃতীয় বিভাগ ক্লাব রাভেনা এফসির অংশীদার হলেন রোনালদিনহো ◈ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ◈ ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের শপথ আজ: বঙ্গভবনে অতিথিদের ভিড়, জোরদার নিরাপত্তা

প্রকাশিত : ৩০ জুন, ২০২৬, ০৮:৩১ রাত
আপডেট : ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

টবের সাধারণ গাছের পাতায় লুকিয়ে শহর পরিকল্পনার গাণিতিক নকশা

বাড়ির টবে রাখা ছোট্ট একটি গাছ। গোলাকার সবুজ পাতা। দেখতে সাধারণ। কিন্তু সেই পাতার ভেতরেই লুকিয়ে আছে এমন এক গাণিতিক নকশা, যা দিয়ে শহরের রাস্তা, স্কুল কিংবা হাসপাতালের অবস্থান কোথায় হবে ও কীভাবে হবে সেই নকশার পরিকল্পনা করা হয়! 

সম্প্রতি বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় এই বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, চাইনিজ মানি প্ল্যান্টের পাতার প্রধান শিরাগুলো ভোরোনয় ডায়াগ্রামের নকশার মতো। ভোরোনয় ডায়াগ্রাম হলো এক ধরনের গাণিতিক বিন্যাস, যা নগর পরিকল্পনাবিদরা ব্যবহার করেন।

এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে ন্যাচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে।

গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার কেবল উদ্ভিদবিজ্ঞান নয়, ভবিষ্যতে প্রকৌশল, নগর পরিকল্পনা এমনকি নতুন প্রযুক্তি তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

ভোরোনয় ডায়াগ্রাম কী

শুনতে জটিল মনে হলেও ধারণাটি খুব সহজ।

ধরুন, একটি শহরে কয়েকটি স্কুল আছে। এখন এমনভাবে পুরো শহরকে ভাগ করা হলো, যেন প্রতিটি এলাকার শিশুরা তাদের সবচেয়ে কাছের স্কুলেই যেতে পারে। অর্থাৎ, কোনো এলাকার মানুষকে যেন অযথা দূরের স্কুলে যেতে না হয়।

এভাবে একটি এলাকা বা জায়গাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করার গাণিতিক পদ্ধতিকেই বলা হয় ভোরোনয় ডায়াগ্রাম।

এই একই নকশা ব্যবহার করা হয় শহর পরিকল্পনা, মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক, আবহাওয়া বিশ্লেষণ, রোবটের চলাচল, এমনকি কম্পিউটার গ্রাফিক্সেও।

সেই নকশা মিলল গাছের পাতায়

কয়েক বছর আগে গবেষণার প্রধান লেখকদের একজন এলাইজা ব্লুম প্রথম বিষয়টি লক্ষ্য করেন। তখন তিনি নিজের বোনের চাইনিজ মানি প্ল্যান্টের যত্ন নিচ্ছিলেন।

পাতার শিরাগুলোর দিকে তাকিয়ে তার মনে হয়, এগুলো ভোরোনয় ডায়াগ্রামের মতো দেখাচ্ছে।

তখন তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরির একজন শিক্ষানবিশ। বিষয়টি তিনি জানান তার তত্ত্বাবধায়ক কম্পিউটার বিজ্ঞানী সাকেত নাভলাখাকে।

এরপর শুরু হয় বিস্তারিত গবেষণা।

তারপর গবেষকরা পাতার শিরা ও হাইডাথোড নামে ক্ষুদ্র ছিদ্রগুলোর সম্পর্ক পরীক্ষা করেন।

হাইডাথোড হলো পাতার এমন ক্ষুদ্র ছিদ্র, যেখান দিয়ে গাছ অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়।

কম্পিউটার মডেল দেখায়, পাতা বড় হওয়ার সময় অক্সিন নামে একটি উদ্ভিদ হরমোন প্রতিটি হাইডাথোড থেকে চারদিকে ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

একটি ঢেউ আরেকটির সঙ্গে মিলিত হলে মাঝখানে একটি সীমারেখা তৈরি হয়। পরে সেই সীমারেখাই ধীরে ধীরে পাতার প্রধান শিরায় পরিণত হয়।

অর্থাৎ, পাতার শিরাগুলো যেন নিজে নিজেই এক ধরনের গাণিতিক মানচিত্র এঁকে ফেলে।

বহু বছর ধরেই বিজ্ঞানীরা ভাবছিলেন, অনেক গাছের পাতায় জালের মতো শিরার নকশা কীভাবে তৈরি হয়।

এই গবেষণা সেই দীর্ঘদিনের রহস্যের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছে।

গবেষকদের দাবি, এটাই প্রথম গবেষণা যেখানে উদ্ভিদের পাতায় ভোরোনয় ডায়াগ্রামের উপস্থিতি কেবল শনাক্তই করা হয়নি, বরং সেটি কীভাবে তৈরি হয়, তারও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

উদ্ভিদের পাতা শুধু গাছের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়। প্রকৌশলীরাও এখান থেকে নতুন ধারণা পান।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞানী লরেন স্যাক বলেন, পাতার শিরা নিয়ে আগের গবেষণাগুলো সৌর প্যানেল, ইলেকট্রনিক সার্কিটসহ নানা ধরনের বিতরণব্যবস্থা আরও দক্ষভাবে নকশা করতে সাহায্য করেছে।

তার ভাষায়, পাতার শিরা সম্পর্কে আমরা যত বেশি জানব, ততই আমাদের চারপাশের প্রযুক্তি আরও কার্যকর এবং আরও সুন্দরভাবে তৈরি করা সম্ভব হবে।

চাইনিজ মানি প্ল্যান্টকে অনেকে কয়েন প্ল্যান্ট বা প্যানকেক প্ল্যান্ট নামেও চেনেন। দক্ষিণ চীনের ইউনান ও সিচুয়ান অঞ্চলের এই গাছটি এখন বিশ্বের অসংখ্য বাড়ির অন্দরের শোভা বাড়াচ্ছে।

সেই পরিচিত গাছটিই এবার বিজ্ঞানীদের মনে করিয়ে দিল, প্রকৃতি কেবল সুন্দরই নয়, তার কাছে আছে অসাধারণ গাণিতিক ব্যাখ্যা।

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়