শিরোনাম
◈ লাগেজ চুরি ঠেকাতে লাইভ নজরদারি, কতটা স্বস্তিতে যাত্রীরা? ◈ এশিয়া কাপের জন‌্য অনূর্ধ্ব-১৯ স্কোয়াড ঘোষণা করলো বি‌সি‌বি ◈ চারদিনেই ও‌য়েস্ট ইন্ডি‌জের কা‌ছে টেস্ট হারলো বাংলাদেশ ◈ মাজার বস্তিতে যাওয়ার আগে ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার নেস্ট বারে দেড় ঘণ্টা ছিলেন নারীসহ তাহফিস সাউরি(ভিডিও) ◈ তাহসিফ হত্যা মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে দীপ, বললেন ‘আমি ফুললি স্ট্রং’ ◈ ১১ দলের লংমার্চে যাননি নাহিদ, জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে এনসিপির? ◈ ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদসহ ৭ কর্মকর্তা বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসরে ১ ◈ মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল ফি ৮ হাজার টাকার বেশি নয়, অতিরিক্ত নিলেই কঠোর ব্যবস্থা ◈ ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে মিরপুরে ফের সড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা ◈ ঢাকায় সাফ ফুটব‌লে অংশ নি‌তে দ্বিতীয় সারির দল ঘোষণা কর‌লো ভারত

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:৫৪ বিকাল
আপডেট : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:০৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল কুমিল্লা বোর্ডে, অর্ধেকে নেমেছে জিপিএ-৫

শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা : গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় বোর্ডটির পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বিশেষ করে গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে না পারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবং পরীক্ষায় বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।

বোর্ডের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র ৪৪২ জন এবং ছাত্রী ৮৭১ জন। গত বছর ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২ হাজার ৯০৯ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ হাজার ৫৯৬ জন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৯২২, ২০২৩ সালে ৫ হাজার ৬৫৫ এবং ২০২২ সালে ১৪ হাজার ৯৯১ জন। পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানে এবারই সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তির পাশাপাশি সামগ্রিক পাসের হারেও অবনতি হয়েছে। ২০২৪ সালে কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭১ দশমিক ১৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশে। চলতি বছর আরও কমে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই বোর্ডটির পাসের হার সর্বনিম্ন।

বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণেও বিজ্ঞান বিভাগের সঙ্গে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বড় ব্যবধান দেখা গেছে। এবার পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ। এ বিভাগে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৬১ দশমিক ০১ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬৬ শতাংশ।

Advertisement

অন্যদিকে মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৩৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৪৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার আরও কম, ৪০ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৩৫ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৪৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। তিনটি বিভাগেই ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের তুলনায় বেশি। তবে সামগ্রিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের তুলনায় মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফলও এবার উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। ২০২৬ সালে কুমিল্লা বোর্ডের অধীন মাত্র চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল পাঁচটি এবং ২০২৪ সালে ছিল ১০টি।

অন্যদিকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এবার কুমিল্লা বোর্ডের ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৯টি এবং ২০২৪ সালে ছিল চারটি। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় চার গুণ।

এদিকে পরীক্ষায় অনিয়ম ও বিভিন্ন অপরাধের কারণে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডে ৬৯ জন শিক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছে। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৬৬ এবং ২০২৪ সালে ছিল ৫৭ জন। গত তিন বছরের পরিসংখ্যানে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সার্বিক চিত্র হতাশাজনক। গত বছরের তুলনায় পাসের হার সামান্য কমার পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। একই সঙ্গে শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি, শতভাগ পাসের প্রতিষ্ঠান কমে যাওয়া এবং বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ার বিষয়গুলোও এবারের ফলাফলে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, ফলাফলের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব সূচকেই এবার সবচেয়ে পিছিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড।

এ বিষয়ে বোর্ড সচিব অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, কেন এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ