ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান সংগঠক শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত ইনকিলাব মঞ্চ ও ছাত্র জনতার ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় ডাকসু ভবনের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খান, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক উম্মে সালমাসহ অন্যান্য সম্পাদক ও সদস্যরা।
সমাবেশে ডাকসুর এ সময় ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, “শহিদ ওসমান হাদি হত্যার এতদিন পার হওয়ার পরে যখন বিচারের দাবিতে আন্দোলন হচ্ছে, তখন আজকে স্বয়ং ডিএমপি কমিশনার উপস্থিত থেকে এই আন্দোলনকে মকারি করছে। তারা ওসমান হাদিকে নিয়ে মকারি করছে, আমাদের বোনদেরকে নিয়ে মকারি করছে।আমরা এই ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, “ইনকিলাব মঞ্চ আশঙ্কা করছে আজকের হামলায় আওয়ামী লীগের একটা অংশ জড়িত রয়েছে। পুলিশে গুপ্ত থাকা আওয়ামী লীগের একটা অংশ এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে ঢুকে পড়া আরেকটি অংশ আজকে উস্কানি দিয়েছে। আমরা কখনোই চাই না আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনে ঢুকে শহিদ ওসমান হাদিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করুক। তারা এই আন্দোলনকে নির্বাচনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”
তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমরা আপনাদের অনুরোধ করছিলাম আপনারা পুলিশকে সংস্কার করুন। কিন্তু আপনারা তা করতে পারেন নি। আমাদের ভয় হয়-আপনারা এই ক্ষুদ্র জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে যেভাবে আগ্রাসী হয়েছেন তাতে সামনে নির্বাচনে কিরূপ ভূমিকা পালন করেন।”
ডাকসুর এজিএস মু. মহিউদ্দিন খান বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে অনুশোচনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আজকে দেখছি তাদের মধ্যে তো কোন অনুশোচনা তৈরি হয়ই নাই, বরং তারা শহিদ ওসমান হাদিকে নিয়ে মকারি করছে। তারা বিনা উস্কানিতে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা করেছে। আমরা অবিলম্বে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি জানান, ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে ডাকসুর দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা অনুরোধ করায় আজকের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট