দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সফরে মুমিনের জন্য উত্তম আমল করা একান্ত অপরিহার্য। ফরজ বা আবশ্যকীয় কাজের পাশাপাশি উত্তম আমল মানুষকে আখিরাতে সফল হতে সহায়তা করবে। আর সফলতার জন্য বাহ্যিক আমলের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ শুদ্ধিও অপরিহার্য।
পবিত্র কুরআনে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘নিঃসন্দেহে সে সফলকাম হয়েছে, যে তাকে পরিশুদ্ধ করেছে এবং সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তার নাফসকে কলুষিত করেছে। (সুরা আশ-শামস, আয়াত: ৯-১০)
এ ক্ষেত্রে যারা পরকালে সফলকাম হবেন তারা অনন্তকালের জন্য চিরশান্তির জান্নাতে থাকবেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তাদের সুসংবাদ দাও, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৮২)
অন্যদিকে যারা আখিরাতে সফলকাম হতে পারবে না, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির জাহান্নাম। পবিত্র কুরআনে মহান রাব্বুল আলামিন বলেছেন, ‘আর যারা কুফরি করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারাই হবে আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৩৯)
এজন্য আখিরাতে সফল হতে বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) যেমন উম্মতদের নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন, তেমনি বাতলে দিয়েছেন মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের পথও। এরমধ্যে একটি হাদিসে ৩ শ্রেণির মানুষের কথা এসেছে, যারা মহান আল্লাহ তা’আলার কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত।
ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসটি হলো- রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন- আল্লাহর কাছে সবচাইতে ঘৃণিত ব্যক্তি হচ্ছে তিন জন। (১) যে ব্যক্তি হারাম শরিফে অন্যায় ও অপকর্মে লিপ্ত হয়। ২) যে ব্যক্তি ইসলামি যুগে জাহিলি যুগের প্রথা তালাশ (অনুসন্ধান) করে। ৩) যে ব্যক্তি যথার্থ কারণ ছাড়া কারও রক্তপাত দাবি করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৪১৬)