পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের অন্যতম হলো ফজরের নামাজ। হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করে, সে সরাসরি আল্লাহর জিম্মায় বা নিরাপত্তায় থাকে। (সহিহ মুসলিম: ৬৫৭)
নামাজের সময় মূলত সূর্যের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় এবং ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী তা পরিবর্তিত হয়। সহিহ মুসলিমের ৬১২ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, সুবহে সাদিক অর্থাৎ ভোরের প্রথম আলো যখন পূর্ব দিগন্তে সাদা রেখার মতো ছড়িয়ে পড়ে, তখনই ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়। এটি সাধারণত সূর্যোদয়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে হয়ে থাকে।
ফজরের নামাজের সময় শেষ হয় সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে। সহিহ বুখারির ৫৭৯ নম্বর হাদিসের নির্দেশনা অনুসারে, যদি কেউ সময়ের মধ্যে নামাজ শুরু করে সূর্যোদয়ের আগে শেষ করতে পারে, তবেই তা গ্রহণযোগ্য হবে। তবে সূর্যোদয়ের ঠিক কাছাকাছি সময়ে নামাজ আদায় করা মাকরুহ, কারণ নবীজি (সা.) ওয়াক্তের যথেষ্ট সময় থাকাকালীন নামাজ আদায় করতে বলেছেন। (জামে তিরমিজি: ১৭০)
ফজরের কাজা নামাজের বিধান
ফজরের নামাজ অবশ্যই সূর্যোদয়ের আগে পড়তে হবে, নতুবা তা কাজা হয়ে যায়। যদি কোনো কারণে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে যায়, তাহলে ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ আদায় করে নিতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজ আদায় করতে ভুলে যায় বা ঘুমের কারণে ছুটে যায়, তার কাফফারা হলো যখনই মনে পড়বে, তখনই তা আদায় করে নেওয়া। (সহিহ মুসলিম: ৬৮৪)
তবে মনে রাখতে হবে যে সূর্যোদয়ের সময় নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ নিষেধ। যদি ঘুম ভাঙার পর দেখা যায় সূর্যোদয়ের শুরু হয়েছে, তাহলে সূর্য পুরোপুরি উঁচু না হওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করা যাবে না। অর্থাৎ সূর্যোদয় শুরু হওয়ার পর ১৫-২০ মিনিট সময় অতিবাহিত হতে হবে। এরপর ওই নামাজ কাজা হিসেবে আদায় করতে হবে। (সহিহ মুসলিম: ১৩৭৩)
সূত্র: আজকের পত্রিকা