গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের কামরাঙ্গীরচালা এলাকায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর শারীরিক পরিবর্তনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হরমোনজনিত কারণে শারীরিক পরিবর্তন আসায় এসএসসি পরীক্ষার্থী কেয়া আক্তার এখন কাবির নামে পুরুষ পরিচয়ে জীবনযাপন করছেন।
পরিবার জন্মনিবন্ধনও সংশোধন করে নতুন নাম নিবন্ধন করেছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে কাবিরকে একনজর দেখতে প্রতিদিন শতাধিক লোক বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক এলাকাবাসী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কাবির (১৬) কামরাঙ্গীরচালা এলাকার কাইয়ুম দেওয়ানের সন্তান। তিনি স্থানীয় ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। গত বছর ২০২৫ সাল থেকে তার শরীরে ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। প্রথমে বিষয়টি পরিবার স্বাভাবিক মনে করলেও পরিবর্তন স্পষ্ট হতে থাকলে তারা বিভিন্ন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিষয়টিকে হরমোনজনিত শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানান। পরবর্তীতে পরিবর্তন আরও প্রকট হওয়ায় কাবির নিজেই পুরুষ পরিচয়ে জীবনযাপনের সিদ্ধান্ত নেন। সম্প্রতি তার জন্মনিবন্ধন সংশোধন করে নতুন নাম 'কাবির' নিবন্ধন করা হয়েছে।
কাবিরের মা কনিকা ইসলাম বলেন, বিয়ের কথা বললে সে সবসময় আপত্তি করত। পরে আমাদের কাছে নিজের সমস্যার কথা খুলে বলে। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে পরীক্ষার পর জানানো হয়, তার শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন হচ্ছে। এরপর আমরা বাস্তবেও সেই পরিবর্তন দেখতে পাই। তাই কয়েক দিন আগে তার নাম পরিবর্তন করেছি।
কাবির নিজে বলেন, ২০২৫ সাল থেকে নিজের শরীরে পরিবর্তন লক্ষ্য করি। এবার এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিষয়টি পরিবারকে জানাই। আগে নিয়মিত মাসিক হতো, এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে। শরীরে ছেলেদের মতো পরিবর্তন হচ্ছে। আমি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী, তাই বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছি।
ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, কেয়া আমাদের স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী। আমরা এতদিন তাকে মেয়ে হিসেবেই জানতাম। পরে জানতে পারি, তার শারীরিক পরিবর্তন হয়েছে। আমরা বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। ১০ আগস্ট তার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন।
চিকিৎসকরা জানান, এটি একটি বিরল হরমোনজনিত শারীরিক অবস্থা। বয়ঃসন্ধিকালে কারো কারো শরীরে এমন পরিবর্তন আসতে পারে। এক্ষেত্রে সামাজিক ও মানসিক সহায়তা খুব জরুরি।
এই ঘটনার পর এলাকায় কৌতূহলের পাশাপাশি আলোচনা-সমালোচনাও চলছে। তবে পরিবার ও স্কুল কর্তৃপক্ষ কাবিরের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তা করার কথা জানিয়েছেন।
কালিয়াকৈরে হরমোনজনিত কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থী কেয়া আক্তারের শারীরিক পরিবর্তন। এখন তিনি কাবির নামে পুরুষ পরিচয়ে জীবনযাপন করছেন। জন্মনিবন্ধন সংশোধন করা হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য, পরিবার ও স্কুলের সহায়তার আশ্বাস।