শিরোনাম
◈ বিএনপির সরকারকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ভারত, তবে কৌশলগত উদ্বেগ চীনকে ঘিরে ◈ প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে রাতের ঢাকায় পরিচ্ছন্নতা ও নগরসেবা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ জিয়াউর রহমানের নামে কোনো ব্যবসা হতে দেবো না: নাহিদ ইসলাম (ভিডিও) ◈ এনআইডি সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবার ফি বাড়াল ইসি ◈ বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণায় টাকা খরচ ক‌রে‌ছে ব্রাজিলসহ ৩ দেশ: রাস্ট্রপ‌তি হাভিয়ের মিলেই ◈ প্রশাসনে বড় রদবদল, সচিবালয়ে নতুন মুখের অপেক্ষা ◈ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে ‘মোদির পদত্যাগপত্র’, যা জানা যাচ্ছে ◈ রাবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর: জিএস আম্মারসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ◈ খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ, ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’র কথা জানালেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত সার্জিও গোর ◈ টেকসই কৃষি-সবুজ শিল্পে ঋণ কমেছে, বেড়েছে টেকসই অর্থায়ন

প্রকাশিত : ৩১ জুলাই, ২০২৬, ০২:৩০ রাত
আপডেট : ৩১ জুলাই, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইসলামে বিয়ে: ‘কবুল’ ছাড়াও যেসব শব্দে বিয়ে হয়ে যায়

বিয়ে ইসলামে নারী-পুরুষের মাঝে বৈধ ও পবিত্র সম্পর্ক স্থাপনের অন্যতম মাধ্যম। এটি শুধু সামাজিক বন্ধন নয়, বরং দ্বীনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিয়ে করল, সে তার অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করল। অতএব, বাকি অর্ধেকের ব্যাপারে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।’ (বায়হাকি, শুআবুল ঈমান)।

অন্য এক হাদিসে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) ইরশাদ করেন, ‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি বিয়ের দায়িত্ব পালনে সক্ষম, সে যেন বিয়ে করে। কারণ, বিয়ে দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে। কেননা, রোজা তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।’ (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)।

‘কবুল’ না বললেও কি বিয়ে হবে?

অনেকের ধারণা, ইজাব (বিয়ের প্রস্তাব) দেওয়ার পর বর যদি ‘কবুল’ শব্দটি উচ্চারণ না করেন, তাহলে বিয়ে সহিহ হবে না। এ ধারণা সঠিক নয়। শরিয়তের মূল বিষয় হলো—উভয় পক্ষের স্পষ্ট সম্মতি। তাই ‘কবুল’ শব্দের পরিবর্তে এমন কোনো শব্দ বা বাক্য বলা হলে, যা পরিষ্কারভাবে সম্মতি প্রকাশ করে, তাহলেও বিয়ে সহিহ হয়ে যাবে।

যেমন—
১. قَبِلْتُ (ক্ববিলতু)— অর্থ : আমি গ্রহণ করলাম। ইজাবের জবাবে এই শব্দ বললে তা পূর্ণাঙ্গ কবুল হিসেবে গণ্য হবে।

২. رَضِيتُ (রদ্বিতু)— অর্থ : আমি রাজি হলাম বা আমি সন্তুষ্ট। এটিও স্পষ্ট সম্মতির প্রকাশ। তাই ইজাবের পর এ শব্দ বললেও বিয়ে সহিহ হবে।

৩. تَزَوَّجْتُهَا (তাজাওয়াজতুহা)— অর্থ : আমি তাকে বিবাহ করলাম। বর এভাবে বললেও তা বিয়ের গ্রহণযোগ্য স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে।

৪. أَنْكَحْتُ نَفْسِي إِيَّاهُ (আনকাহতু নাফসি ইয়্যাহু)— অর্থ : আমি নিজেকে তার সঙ্গে বিবাহ দিলাম। এ ধরনের শব্দেও বিবাহের সম্মতি স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।

৫. أَجَزْتُهُ (আজাযতুহু)— অর্থ : আমি অনুমোদন করলাম। বিশেষ করে প্রতিনিধি (ওকিল)-এর মাধ্যমে ইজাব সম্পন্ন হলে মূল ব্যক্তি এভাবে অনুমোদন দিলেও বিয়ে সহিহ হবে।

পাত্রী নির্বাচনে যেসব গুণ দেখতে বলেছেন মহানবী

ফিকহের গ্রন্থে যা বলা হয়েছে, ফতোয়ায়ে হিন্দিয়াতে বলা হয়েছে, বিয়ে এমন সব স্পষ্ট শব্দের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যা বিবাহকে পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করে। যেমন—أَنْكَحْتُ, تَزَوَّجْتُ, قَبِلْتُ, رَضِيتُ ইত্যাদি।

এ ছাড়া আল-হিদায়া (দ্বিতীয় খণ্ড)-এ উল্লেখ রয়েছে, ইজাব ও কবুল এমন শব্দে হতে হবে, যা দ্বারা স্পষ্টভাবে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার অর্থ বোঝা যায়।

মোটকথা হলো, বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু ‘কবুল’ শব্দ উচ্চারণ করাই শর্ত নয়। বরং যে কোনো স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন শব্দ বা বাক্য, যা বিয়েতে সম্মতি প্রকাশ করে, তা দ্বারা শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়