স্নাইপার রাইফেলের মতো অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র এখন উপজাতি সন্ত্রাসীদের হাতে। এ ছাড়াও যুক্ত হয়েছে নাইট ভিশন ক্যামেরা। এর বাইরে সক্রিয় উপজাতি সন্ত্রাসীদের হাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মরণঘাতী অস্ত্র, বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র এবং রকেট লঞ্চার, গ্রেনেড, একে-৪৭, ম্যাগাজিন, এম-৪ কার্বাইন, ৪০ এমএম গ্রেনেড লঞ্চার, চায়না রাইফেল, নাইন এমএম পিস্তল, এসএলআর, এসএমজি, এলজি, বিমান বিধ্বংসী রিমোট কন্ট্রোল বোমা, গ্রেনেড, হেভি মেশিনগান, জি-৩ রাইফেল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা এবং স্থানীয় নানা সূত্র এসব তথ্য দিয়েছে। তাদের তথ্যানুযায়ী, অত্যাধুনিক প্রাণঘাতী অস্ত্রের মজুত রয়েছে দেশের তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটিতে থাকা পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের হাতে। জেএসএস (মূল), জেএসএস (সংস্কার), ইউপিডিএফ (মূল) ও ইউপিডিএফ (সংস্কার)-এর পাশাপাশি কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)-এর মতো সশস্ত্র সংগঠনগুলো এখন আর শুধু সাধারণ দেশীয় অস্ত্র বা পিস্তলে সীমাবদ্ধ নেই। তাদের হাতে এখন শোভা পাচ্ছে এ ধরনের অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় সন্ত্রাসীদের আস্তানা থেকে স্নাইপার রাইফেল এবং স্নাইপার অস্ত্রের আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের হাতে স্নাইপার রাইফেল আসার কারণে নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য ঝুঁকি বেড়েছে।
তারা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, স্নাইপারের সাহায্যে অনেক দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত করা সম্ভব হওয়ায় এটি পাহাড়ি অঞ্চলের গভীর জঙ্গল ও পাহাড়ের চূড়া থেকে গেরিলা আক্রমণের ক্ষেত্রে সন্ত্রাসীদের নতুন শক্তির জোগান দিচ্ছে। এসব রাইফেলের সঙ্গে ব্যবহারের জন্য সন্ত্রাসীদের হাতে রয়েছে নাইট ভিশন ক্যামেরা। মূলত আধিপত্য বিস্তারে রাতে অভিযান চালানোর জন্যই এসব মারণাস্ত্রের মজুত। স্নাইপার রাইফেল ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন উচ্চতর প্রশিক্ষণ। যে কেউ এই অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন না। উপজাতি সন্ত্রাসীদের হাতে এসব অস্ত্রের মজুত প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, উপজাতি সন্ত্রাসীরা তিন পার্বত্য জেলায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে তৎপর। অতীতে নানা অভিযানে তাদের কাছ থেকে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র নিয়ে তাদের তৎপরতা পার্বত্য জেলাগুলোকে অশান্ত করে তুলছে, তৈরি করছে ভীতিকর পরিস্থিতি।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবসময় এ নিয়ে তৎপর রয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে সেখানে অপারেশন চালানো হয়। তিন জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্র্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, খুন, গুম, চাঁদাবাজি, অপহরণ আর আধিপত্য বিস্তারে ব্যবহার করা হচ্ছে এসব অস্ত্র। এতে অশান্ত হয়ে উঠছে পাহাড়। বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের মজুত, চাঁদাবাজি আর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সন্ত্রাসীরা এখন স্বপ্ন দেখছে তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে স্বাধীন জুম্মল্যান্ড প্রতিষ্ঠার। সম্প্রতি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা সাজেককে ঘিরে অস্ত্রধারী দুই উপজাতি সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ ও জেএসএস এসব অস্ত্রের ব্যবহার করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। টানা দুই দিন তারা দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা গোলাগুলি করেছে। এতে পাহাড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। পার্বত্য এলাকায় কাজ করা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পার্বত্য অঞ্চল হতে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রতি বছর প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে থাকে। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ টাকার মাধ্যমে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদ কেনে। তারা জানান, গত বছরের ফেব্রুয়ারি হতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেএসএস (সন্তু) এর সশস্ত্র দল ১৯টি অস্ত্র, ২,৫৮০ রাউন্ড অ্যামোনিশন এবং ২০টি হ্যান্ড গ্রেনেড সংগ্রহ করে।
এ ছাড়া, ইউপিডিএফ (প্রসীত) এর সশস্ত্র দল একই সময়ে ৬০টি অস্ত্র, ৮,৮৫০ রাউন্ড অ্যামোনিশন, ১০টি হ্যান্ড গ্রেনেড সংগ্রহ করেছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সশস্ত্র দলগুলো প্রতিবেশী দুটি দেশ হতে অস্ত্র-গোলাবারুদ সংগ্রহ করে থাকে। এসব ব্যবহার করে তারা গত এক বছরে ৫২টি হত্যা, ১০৩টির বেশি অপহরণ এবং অন্যান্য সশস্ত্র কার্যক্রমে জড়িত ছিল। তারা আরও জানান, পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা পাহাড়িদের সঙ্গে মিশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে করে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ভয়-আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন