ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য নারীকে ইতালিতে পাঠানোর মতো মানবপাচারের অভিযোগে এক সংঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ছাড়াও চক্রটির বিরুদ্ধে ইতালিতে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং জালিয়াতির মাধ্যমে মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গতকাল সিআইডির মানবপাচার শাখার (টিএইচবি) একটি চৌকস দল তাৎক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর গুলশান থানাধীন গুলশান-১ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে গুলশান থানায় মামলা হয়েছে।
সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) পরিচালিত ওই অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের অফিস থেকে তিনটি সিপিইউ, একটি এইচপি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৫৬টি পাসপোর্ট, সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত ১৫৩টি সিল, ১টি লোহার তৈরি এম্বোস সিল এবং নগদ দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বেলায়েত হোসেন (৪০), মেহেদী হাসান (৩৭), সোলাইমান সুমন (৩২), ফজলে রাব্বী (২৭), তৌহিদুর রহমান (২৪) ও কাওসার হোসেন (৪২)।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী বাদীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন।
স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার আশায় বাদী দীর্ঘদিন ধরে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ইতালির দূতাবাস থেকে তাকে ফোন করে পাসপোর্ট নবায়নের বিষয়ে অবহিত করা হয়।
পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য তিনি দূতাবাসে গেলে সেখানে অত্র মামলার এজাহারনামীয় দুই নম্বর অভিযুক্ত নাজমুল হাসানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নাজমুল নিজেকে পাসপোর্ট নবায়নসহ ইতালির ভিসা করে দেওয়ার কাজে সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট নবায়ন করে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। পরবর্তীতে নাজমুল ওই নারীকে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকার একটি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যায় এবং সেখানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে অত্র মামলার এজাহারনামীয় এক নম্বর অভিযুক্ত মো. বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেয়।