শিরোনাম
◈ পাহাড়ি আম-আনারসসহ কৃষিপণ্য রপ্তানিতে বড় সম্ভাবনা, চাঁদাবাজি বন্ধে গুরুত্ব সরকারের ◈ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট স্থগিত করল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ◈ ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানাল আরব আমিরাত ◈ দিল্লি পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্ত কেজরিওয়াল-মমতা, আটককে ‘অপহরণ’ বললেন তৃণমূল নেত্রী ◈ সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আহত বহু যাত্রী; বাতিল বহু ফ্লাইট ◈ আবুধাবি টেস্ট, বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে লড়‌ছে আফগা‌নিস্তান, এখ‌নো ১৩৫ রানে পিছিয়ে ◈ যুক্তরাষ্ট্রে পেনসিলভানিয়ায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলি, শিশুসহ নিহত ৯ ◈ ফেসবুকে পরিচয় কে এই রাজু, ১৭ দিনের সম্পর্কের পর কক্সবাজার থেকে ফেরার পথে কী ঘটেছিল স্কুলছাত্রীর সঙ্গে ◈ চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি চুক্তি: বাংলাদেশের লাভ কতটা, ঝুঁকি কোথায়? ◈ কোনো দেশের মুখাপেক্ষী নয়, সমমর্যাদার অংশীদার হতে চায় বাংলাদেশ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৮:২২ রাত
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অস্ত্র, ডগ স্কোয়াডসহ নতুন সক্ষমতা পাচ্ছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযানে যেতে হলে এত দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা দরকার হতো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। কারণ, তাদের কাছে কোনো অস্ত্র থাকত না। অভিযানে গিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মারধরের শিকার হওয়ার নজিরও রয়েছে। তবে এখন আর সেই সীমাবদ্ধতা থাকছে না। আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল, অস্ত্রাগার, ডগ স্কোয়াডের মতো নানা ধরনের সুবিধা যুক্ত হচ্ছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে।

মাদক চোরাচালানকারীসহ এ–সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার সুযোগও পাচ্ছে অধিদপ্তর। বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা এখন থেকে নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরে আগ্নেয়াস্ত্র ও ডগ স্কোয়াড নিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে অভিযান চালাবেন। সংস্থাটি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এ–সংক্রান্ত মামলার দ্রুত বিচারও করতে পারবে।

সংশোধিত আইনে একদিকে যেমন মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে বিশেষ তল্লাশি ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং নতুন ধরনের মাদক মোকাবিলায় একাধিক বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন-২০২৬–এ এসব ক্ষমতা ও সুবিধা দেওয়া হয়েছে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে। বৃহস্পতিবার আইনটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। সংশোধিত আইনে একদিকে যেমন মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে বিশেষ তল্লাশি ব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং নতুন ধরনের মাদক মোকাবিলায় একাধিক বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

Advertisement

আইনটি সংশোধনের ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ। তাঁর মতে, মাদক শনাক্তে ডগ স্কোয়াড ব্যবহার, উদ্ধার করা আলামত রাখার জন্য মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়গুলোতে মালখানা স্থাপন এবং ট্রাইব্যুনাল গঠন করে মাদক মামলার বিচার সম্পন্ন করাটা সার্বিক কার্যক্রমকে অনেক বেশি গতিশীল করবে।

মাদক মামলার বিচার নিশ্চিত করা, মামলা পরিচালনা, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে সহায়তা ও সমন্বয় এবং আদালতকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সরবরাহের উদ্দেশ্যে অধিদপ্তর প্রতি জেলার আদালত ভবনে প্রসিকিউশন শাখা স্থাপন করবে। মাদক অপরাধের মামলা দ্রুততম সময়ের মধ্যে করার সুবিধার জন্য প্রতিটি থানায় একটি বিশেষ সেল থাকবে।

সংশোধিত আইনে যা আছে

সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পোশাক ও আগ্নেয়াস্ত্রসজ্জিত জনবলসংবলিত একটি বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে গণ্য হবে। অধিদপ্তরের আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সরকার নির্ধারিত পদ্ধতিতে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ বহন, ব্যবহার ও সংরক্ষণ করবেন। অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়সহ সব অফিস ভবনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ করে নিজস্ব অস্ত্রাগার নির্মাণ করা হবে। অধিদপ্তরের অধীন সব কার্যালয়ে হাজতখানা স্থাপন এবং আদালতে তোলার আগে সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধিতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আটক রাখা যাবে। পুরুষ ও নারীর জন্য হাজতখানায় পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। শিশুদের জন্য শিশু আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদক মামলার বিচার নিশ্চিত করা, মামলা পরিচালনা, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে সহায়তা ও সমন্বয় এবং আদালতকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সরবরাহের উদ্দেশ্যে অধিদপ্তর প্রতি জেলার আদালত ভবনে প্রসিকিউশন শাখা স্থাপন করবে। মাদক অপরাধের মামলা দ্রুততম সময়ের মধ্যে করার সুবিধার জন্য প্রতিটি থানায় একটি বিশেষ সেল থাকবে।

আন্তর্জাতিকভাবে বা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

সাইবার স্পেস ব্যবহার করে মাদক কারবারে মৃত্যুদণ্ড

ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন বা এ–সংক্রান্ত কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা বা করার চেষ্টা করলে তারা এই আইনে অপরাধী হবে। এই আইনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধ করলে তিনি যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডে এবং অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে বা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

মাদক বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হয়ে ওঠে। সে কারণে আগে অভিযান চালাতে গিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা হামলার শিকার হতেন। এখন তাঁরা সুসংগঠিত হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মাদক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে পারবেন - পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আবদুল কাইয়ুম

ট্রাইব্যুনাল গঠন

এই আইনের অধীনে পাঁচ বছর বা ততোধিক মেয়াদের কারাদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ আমলে নেওয়া ও বিচারের জন্য সরকার প্রতিটি জেলা বা মহানগর এলাকার জন্য ভৌগোলিক সীমা নির্ধারণ করে এক বা একাধিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করবে। এগুলো মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল নামে অভিহিত হবে। অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এই ট্রাইব্যুনালের বিচারক হবেন। কোনো জেলা বা মহানগর এলাকার জন্য মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হলে ওই এলাকায় অপরাধ আমলে নেওয়া ও বিচার করার ক্ষেত্রে আদালতের এখতিয়ার বিলুপ্ত হবে এবং এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে বিচারাধীন এসব মামলা ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হবে।

আইন সংশোধনের মধ্য দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আধুনিকায়ন ও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে মনে করছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আবদুল কাইয়ুম। তিনি গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, মাদক বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হয়ে ওঠে। সে কারণে আগে অভিযান চালাতে গিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা হামলার শিকার হতেন। এখন তাঁরা সুসংগঠিত হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মাদক সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে পারবেন। আর ডগ স্কোয়াড মাদক শনাক্তে তাঁদের সহায়তা করবে। অভিযানগুলো সফলতার সঙ্গে করতে পারলে এবং অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হলে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে।

  • সর্বশেষ