শিরোনাম
◈ এনআইডি সংশোধনে মাঠ পর্যায়ে নিষ্পত্তি, অনলাইনে হবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন ◈ পূর্বশত্রুতার জেরে রাজধানীতে বিএনপি কর্মী খুন ◈ ঘুষিকাণ্ডে বিতর্কে জড়ানোর পর প্রথমবার মুখ খুললেন পারেদেস ◈ গোপন ফুটেজে উন্মোচিত কেলেঙ্কারি, পদ হারান যেসব বিশ্বনেতা ◈ বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব ◈ বেনজীর আহমেদকে ফেরাতে দুবাইয়ের প্রশ্নের জবাব প্রস্তুত করছে দুদক ◈ যে কারণে ভিসা চালু হলেও ভারতে যাচ্ছেন না বাংলাদেশিরা ◈ যে দিন ৬ মিনিট অন্ধকারে ডুবে থাকবে পৃথিবী! ◈ বিশ্বকাপ ফাইনাল : আ‌র্জেন্টিনার পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা চান প্রাক্তন ফিফা রেফারি ◈ মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ থেকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটক

প্রকাশিত : ২১ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৫০ রাত
আপডেট : ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ব্যথা কমাতে বরফের সেঁক নাকি গরম সেঁক? জেনে নিন সঠিক উপায়

হঠাৎ গোড়ালি মচকে যাওয়া, খেলাধুলার সময় আঘাত পাওয়া, পিঠ বা ঘাড়ে ব্যথা কিংবা শরীরচর্চার পর পেশিতে টান— এমন সমস্যায় অনেকেই বুঝতে পারেন না, বরফের সেঁক দেবেন, নাকি গরম সেঁক? অথচ ব্যথা কমাতে সঠিক সময়ে সঠিক থেরাপি ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল পদ্ধতি প্রয়োগ করলে ব্যথা ও ফোলাভাব কমার বদলে আরও বাড়তে পারে। তাই কোন ধরনের ব্যথায় কোল্ড থেরাপি (Cold Therapy) এবং কোন ক্ষেত্রে হিট থেরাপি (Heat Therapy) সবচেয়ে কার্যকর, তা জেনে নেওয়া জরুরি।

কোল্ড থেরাপি কী?

কোল্ড থেরাপি বা ক্রায়োথেরাপি (Cryotherapy) হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে আইস প্যাক, ঠান্ডা কম্প্রেস বা ঠান্ডা পানির সেঁক দেওয়া হয়। ঠান্ডার প্রভাবে রক্তনালি সাময়িকভাবে সংকুচিত হয়, ফলে আক্রান্ত স্থানে রক্তপ্রবাহ কমে এবং ফোলাভাব, প্রদাহ ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

যেসব ক্ষেত্রে বরফের সেঁক সবচেয়ে কার্যকর

  • সদ্য আঘাত পাওয়া স্থানে
  • গোড়ালি মচকে গেলে
  • পেশিতে টান বা লিগামেন্টে আঘাত লাগলে
  • খেলাধুলাজনিত আঘাতে
  • ফোলাভাব ও প্রদাহ কমাতে
  • বরফের সেঁক দেওয়ার নিয়ম
  • বরফ কখনোই সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না।
  • একটি পাতলা তোয়ালে বা কাপড়ে বরফ মুড়িয়ে ব্যবহার করুন।
  • একটানা ১০–১৫ মিনিটের বেশি বরফের সেঁক দেবেন না।
  • প্রয়োজনে প্রতি ১–২ ঘণ্টা পরপর পুনরায় সেঁক দেওয়া যেতে পারে।

হিট থেরাপি কী?

হিট থেরাপিতে ব্যথার জায়গায় হিটিং প্যাড, গরম পানির ব্যাগ, উষ্ণ তোয়ালে বা গরম পানির সেঁক ব্যবহার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে গরম পানিতে গোসলও উপকারী হতে পারে। তাপ রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে পেশিকে শিথিল করে এবং আড়ষ্টতা কমাতে সাহায্য করে। তাই এটি মূলত দীর্ঘদিনের ব্যথা বা পেশির শক্তভাব দূর করতে বেশি কার্যকর।

যেসব ক্ষেত্রে গরম সেঁক ব্যবহার করবেন

  • দীর্ঘদিনের পিঠ, কোমর বা ঘাড়ের ব্যথা
  • পেশির আড়ষ্টতা ও শক্তভাব দূর করতে
  • কাঁধ বা কোমরের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায়
  • আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত জড়তা কমাতে

হিট থেরাপির ক্ষেত্রে সতর্কতা

  • সদ্য আঘাত পাওয়া বা ফুলে থাকা স্থানে গরম সেঁক দেবেন না।
  • অতিরিক্ত গরম হিটিং প্যাড বা গরম পানির ব্যাগ ব্যবহার করলে ত্বক পুড়ে যেতে পারে।

ডায়াবেটিসজনিত অনুভূতিশক্তি কম থাকলে বা রক্তসঞ্চালনের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গরম সেঁক ব্যবহার না করাই ভালো।

কোনটি বেছে নেবেন?

সহজভাবে মনে রাখতে পারেন—

✔ নতুন আঘাত, ফোলাভাব বা প্রদাহ = বরফের সেঁক

✔ পুরোনো ব্যথা, পেশির আড়ষ্টতা বা জড়তা = গরম সেঁক

অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ঠান্ডা ও গরম—উভয় থেরাপিও ব্যবহার করা হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

শুধু সেঁকের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন যদি—

  • ব্যথা অত্যন্ত তীব্র হয়।
  • আঘাতের পর হাত বা পা নড়াতে না পারেন।
  • ফোলাভাব দ্রুত বাড়তে থাকে।
  • কয়েকদিন সেঁক দেওয়ার পরও ব্যথা না কমে।
  • আঘাতের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত না থাকেন।

ব্যথা কমাতে বরফের সেঁক ও গরম সেঁক—দুটিই কার্যকর, তবে সঠিক সময়ে সঠিকটি ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ নিয়ম হলো— নতুন আঘাত ও ফোলাভাবের জন্য ঠান্ডা সেঁক, আর দীর্ঘদিনের ব্যথা ও পেশির আড়ষ্টতার জন্য গরম সেঁক। তবে ব্যথা যদি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে বা স্বাভাবিক না হয়, তাহলে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

সূত্র: যুগান্তর 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়