শিরোনাম
◈ তিস্তায় নৌকাডু‌বিতে শিশু নিহত ◈ নৌকাডুবিতে নিখোঁজ অভিবাসীর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে ইতালির কোস্টগার্ড ◈ উড়তে থাকা যুক্তরাষ্ট্রকে মাটিতে নামিয়ে আনলো দক্ষিণ আফ্রিকা ◈ ১৪ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৬৪ কোটি ডলার ◈ শরীয়তপুরে চেম্বার থেকে আইনজীবীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ◈ বিশ্বকাপের সুপার এইট শুরু, শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ   ◈ সেনাবাহিনী প্রধানের ৯, ১৭ ও ৩৩ পদাতিক ডিভিশনে বিদায়ী দরবার ◈ নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা শুক্রবার দিল্লি যাচ্ছেন, ২২ জুন শীর্ষ বৈঠক ◈ দেশ ছাড়িনি, চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে আছি: আছাদুজ্জামান মিয়া  ◈ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়া-রাশিয়া একে অপরকে সাহায্য করবে, কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই

প্রকাশিত : ১১ জুন, ২০২৪, ০১:১৮ দুপুর
আপডেট : ১১ জুন, ২০২৪, ০১:১৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইউপি নির্বাচনে বারবার পরাজয়ের কারণে নড়াইলের আনিচুরকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১০

সুজন কৈরী: [২] গ্রেপ্তাকৃতরা হ‌লেন-হ‌ত‌্যাকা‌ণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও অন্যতম প্রধান আসামি জাহিদুল শেখ (৫০), শামীম শেখ (২৫), হাছানুর রহমান রিপন (৫০), জুলফিকার (৪৫), রাশিদুল শেখ (২৪), লিটু (২৮), হিটু (২৫), আজিজ শেখ (২৫), হানিফ শেখ (২৮), মুশফিকুর রহিম (২২), তৈয়েবুর রহমান (৫৫), শরিফুল শেখ (৩৮) ও সাইফুল শেখ (৪০)।

[৩] সোমবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় র‍্যাব-৩ ও র‍্যাব-৬ এর যৌথ অভিযানে প্রধান আসামিসহ ১৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

[৪] মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফিরোজ কবীর বলেন, গত ৩১ মে নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার কলাবাড়িয়া এলাকায় শেখ আনিচুর রহমানকে আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ধাওয়া করে ইট-ভাটায় নিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২ জুন ভিকটিমের ভাই শেখ সোহেল রানা বাদী হয়ে নড়াগাতী থানায় ৩১ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডটি দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়।

[৫] গ্রেপ্তার এড়াতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিরা নিজ এলাকা ছেড়ে রাজধানীতে আত্মগোপন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাব-৩ এর গোয়েন্দা দল পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে র‍্যাব-৩ এর ও র‍্যাব-৬ এর যৌথ অভিযানে সোমবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট ১৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

[৬] র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক মো. ফিরোজ কবীর বলেন, ভিকটিমের ভাই ও মামলার বাদী শেখ সোহেল রানা কলাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। আসামি জুলফিকার তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। শেখ আনিচুর রহমানের ভাই শেখ সোহেল রানার কাছে বারবার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনে পরাজিত হয়ে আসছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী জুলফিকার। নির্বাচন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তাদের দুই পক্ষের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক ছিল। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ভিকটিম আনিচুরকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার জাহিদুল তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদুল তার সহযোগী হাছানুর রহমান রিপন এবং মঞ্জুর শিকদারের সহায়তায় সুপরিকল্পিতভাবে গত ৩১ মে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে ভিকটিমকে নিজ বাড়ি থেকে ডেকে টুকু মোল্লার ফোর ব্রাদার্স নামের ইটভাটার ভেতরে নিয়ে যান। 

[৭] ইটভাটার ভেতরে ভিকটিম গ্রেপ্তার শামীম শেখ ও জুলফিকারের নেতৃত্বে রাশিদুল, রহিম, লিটু, হিটু, আজিজ, শহীদ শেখ, ইরফান শেখসহ ১২-১৩ জনের একটি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত দলকে দেখে প্রাণের ভয়ে দৌড়ে ভাটার পাশে বাঁশের বেড়া দেওয়া একটি ঘরে আশ্রয় নেন। যেখানে ওৎ পেতে ছিল গ্রেপ্তার হানিফের নেতৃত্বে মনিরুজ্জামান, সেকন শেখ, নাইম শেখসহ ৪-৫ জনের একটি দল। তারা তাকে ধরতে গেলে ভিকটিম বেড়া ভেঙে পাশের জমিতে পড়ে যান। তখন ওসিকুর রহমানের নির্দেশে ও মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদুলের নেতৃত্বে হাছানুর, শামীম শেখ, জুলফিকার, রাশিদুল ও শিহাব শেখ চাপাতি ও রামদা দিয়ে নৃশংসভাবে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।

[৮] হত্যার পরিকল্পনার বিষয়ে লে. কর্নেল ফিরোজ বলেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল ছয় মাস আগে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন গ্রেপ্তার জাহিদুল ও নির্দেশদাতা ছিলেন ওসিকুর। ছলেবলে পরিকল্পিতভাবে সুবিধাজনক স্থানে নেওয়ার দায়িত্ব ছিল হাছানুর এবং মঞ্জুরের। ইটভাটায় হত্যার প্রথম প্রচেষ্টা ছিল শামীম শেখ ও জুলফিকারের নেতৃত্বাধীন ১২-১৩ জনের একটি দলের, দ্বিতীয় প্রচেষ্টা বাস্তবায়নের নেতৃত্বে ছিল গ্রেপ্তার হানিফের নেতৃত্বাধীন ৪-৫ জনের একটি দল।  শেষে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করে মূল পরিকল্পনাকারী জাহিদুল ও তার সহযোগী হাছানুর, শামীম শেখ, জুলফিকার, রাশিদুল ও শিহাব শেখসহ অন্য আসামিরা।

[৯] গ্রেপ্তার আসামিদের বিষয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, আসামি জাহিদুল আনিচুর হত্যা মামলা ছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দলের খেলোয়াড় কাইয়ুম শিকদার হত্যাসহ ধর্ষণ মামলা ও যৌতুকের মামলার আসামি। জাহিদুল শেখ পেশায় একজন খাবার হোটেল ব্যবসায়ী। আসামি শামীম শেখও জাতীয় কাবাডি দলের খেলোয়াড় হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী সহিংসতাকে কেন্দ্র করে নড়াগাতী থানায় চারটি মামলা রয়েছে। আসামি শামীম পেশায় স্থানীয় একটি স্কুলের অফিস সহায়ক। আসামি জুলফিকারও বাংলাদেশ জাতীয় কাবাডি দলের খেলোয়াড় কাইয়ুম শিকদার হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। তার বিরুদ্ধে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াগাতী থানায় দুটি মামলা আছে, তিনি পেশায় একজন কৃষক। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানান র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক।

[১০] সাংবাদিকদের এক প্রশ্ন জবাবে ফিরোজ কবীর বলেন, আসামিরা পেশাদার খুনি। তারা বিভিন্ন এলাকায় টাকার বিনিময় হত্যাকাণ্ড চালিয়ে থাকেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়