আজিজুল ইসলামঃ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সেবা নিতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আশিকুজ্জামানের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের হয়রানি ও অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রশাসনিক ফাইল আটকে রেখে অর্থের বিনিময়ে দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন এই কর্মকর্তা।
২০২৪ সালের ৩ জুন অভয়নগর থেকে সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে বদলি হয়ে বাঘারপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে যোগ দেন আশিকুজ্জামান। এরপর থেকেই অফিসের কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, টাইম স্কেল, বিএড স্কেল, এমপিওভুক্তি ও বকেয়া বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফাইলের কাজ করাতে এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও অর্থ না দিলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়। আবার টাকা দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের অফিসে ডেকে নিয়ে অর্থ চাওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বন্ধ মাদ্রাসা চালু দেখানোর অভিযোগ
অভিযোগকারীদের দাবি, বাঘারপাড়া পৌরসভার একটি মাদ্রাসা প্রায় ২০ বছর ধরে বন্ধ থাকলেও সেটিকে সচল দেখিয়ে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন এই কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অফিসের কেনাকাটায় অনিয়ম এবং কর্মকর্তার নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশিকুজ্জামান বলেন, "আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।"
বাঘারপাড়া উপজেলায় ৪৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩২টি মাদ্রাসা ও ১৩টি কলেজসহ মোট ৯৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত প্রশাসনিক কাজের জন্য এই শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করেন।