কাজী রাশেদ, চান্দিনা (কুমিল্লা): সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ অনুযায়ী নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গঠিত হয়েছিল তথ্য কমিশন। তবে জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের পদ বিলুপ্ত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তথ্য অধিকার কর্মীরা। বর্তমানে কমিশনে কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ না থাকায় আবেদন এবং আপিল করেও কাঙ্ক্ষিত তথ্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা।
এমনই এক পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার এক বাসিন্দা। জুলাই অভ্যুত্থানের পর পৌরসভার সার্বিক আয়-ব্যয়ের হিসাব জানতে চেয়ে গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে চান্দিনা পৌরসভার তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা বরাবর একটি আবেদনপত্র জমা দেন কাজী রাশেদ নামে স্থানীয় এক নাগরিক।
আবেদনে তিনি মূলত দুটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চান:
ক) চান্দিনা পৌরসভার ২০২৩-২০২৪, ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ (মার্চ পর্যন্ত) অর্থ বছরে পৌরসভার কোন কোন খাত থেকে কী পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে, তার তালিকাসহ মোট পরিমাণ।
খ) উক্ত আদায়কৃত অর্থ থেকে কোন কোন খাতে এবং পৌরবাসীর কী কী কল্যাণে কত টাকা ব্যয় করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তালিকা।
তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এই আবেদনের কোনো জবাব দেয়নি। ফলে আইন মেনে গত ২৪ মে ২০২৬ তারিখে চান্দিনা পৌরসভার মেয়র তথা আপিল কর্মকর্তা বরাবর আপিল আবেদন করেন তিনি।
আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখে চান্দিনা পৌর কর্তৃপক্ষ একটি জবাব পাঠায়। তবে সেখানে কোনো বিস্তারিত খাতের উল্লেখ না করে অত্যন্ত সাদামাটা ও দায়সারাভাবে একটি সংক্ষিপ্ত হিসাব দেওয়া হয়।
পৌরসভা থেকে সরবরাহকৃত তথ্যে দেখা যায়:
২০২৩-২০২৪ অর্থ বছর: রাজস্ব আয় ৪,৮৩,৯৬,৬২৪ (চার কোটি তিরাশি লাখ ছিয়ানব্বই হাজার ছয়শত চব্বিশ) টাকা এবং রাজস্ব ব্যয় ৫,৮৮,১২,৭৪৫ (পাঁচ কোটি আটাশি লাখ বারো হাজার সাতশত পঁয়তাল্লিশ) টাকা।
২০২৪-২০২৫ অর্থ বছর: রাজস্ব আয় ৬,৪৮,৯৭,৬০৪ (ছয় কোটি আটচল্লিশ লাখ সাতানব্বই হাজার ছয়শত চার) টাকা এবং রাজস্ব ব্যয় ৫,৭১,২৮,৬০৩ (পাঁচ কোটি একাত্তর লাখ আঠাশ হাজার ছয়শত তিন) টাকা। এই সংক্ষিপ্ত তথ্যে কোনো নির্দিষ্ট খাতের উল্লেখ না থাকায় এবং পৌরবাসীর কল্যাণে ঠিক কোথায় কত টাকা ব্যয় হয়েছে তার কোনো বিবরণ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আবেদনকারী।
তথ্যের এই অসম্পূর্ণতার বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার পেতে গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে তিনি তথ্য
কমিশন (প্রধান তথ্য কমিশনার) বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের মতে, তথ্য কমিশনে বর্তমানে প্রধান তথ্য কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারদের পদ শূন্য থাকায় এই অভিযোগের শুনানি বা নিষ্পত্তি কবে হবে, তা সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। তথ্য কমিশন পুনর্গঠন বা নতুন কমিশনার নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত পৌরবাসী তথা সাধারণ নাগরিকদের তথ্যের অধিকার এভাবে উপেক্ষিতই থেকে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে এক তথ্যে জানা যায়, শীঘ্রই প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই জন তথ্য কমিশনার নিয়োগের
সুপারিশ করার লক্ষ্যে ৫ সদস্যের বাছাই কমিটি পুনর্গঠন করেছে সরকার।