জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট প্রতিনিটি : লালমনিরহাটের বহুল আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মাত্র ৬ কার্যদিবসে ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ হায়দার আলী এই ঐতিহাসিক রায় দেন।
রোববার (২৩ আগষ্ট) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোঃ হায়দার আলী লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার আলোচিত শিশু নন্দিনী হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর ও ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র রায়কে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধ গোপন ও লাশ গুমের চেষ্টার দায়ে তাকে আরও ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া অপরাধে সহায়তার দায়ে প্রধান আসামির বাবা রনজিৎ কুমার ও মা মমতা রানীকে ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
পুলিশ ও আদালত সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৫ জুন আদিতমারীর ফলিমারী গ্রামে শিশু নন্দিনী নিখোঁজ হয়। এর পরদিন ১৬ জুন বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর নিহতের বাবা নলিনী মোহন বাদী হয়ে আদিতমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দ্রুততম সময়ে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।
পরবর্তীতে আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন প্রধান আসামি বিধান চন্দ্র। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আদালত চত্বরে জোরদার ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হুমায়ুন রেজা স্বপন জানান, রাষ্ট্রপক্ষ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মামলাটি পরিচালনা করেছে এবং নজিরবিহীন দ্রুততম সময়ে এই বিচার কাজ শেষ করে আদালত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান রিপন আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত নন্দিনীর বাবা-মা। দ্রুত এই রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা। বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ে ঘোষিত এই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।