শিরোনাম
◈ ১৮ আগস্ট থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হচ্ছে এআই ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ ◈ ভারতীয় ক্রিকেট বো‌র্ডের প্রধান নির্বাচকের দৌড়ে জহির খান ◈ বিভ্রান্ত করবেন না, সঠিক পরিকল্পনা আনুন বাস্তবায়ন করব: বিরোধীদলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী ◈ শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে বাড়ছে সঞ্চয়, জুনে নতুন হিসাব ১ লাখ ১৮ হাজার ◈ শেখ মুজিবকে হত্যার আগে অস্থির ছিল বাংলাদেশ, ঘটেছিল যেসব ঘটনা ◈ গুলিভর্তি ব্যাগ নিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দর পার আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান, দায়িত্বে থাকা দুই স্ক্রিনারের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ ◈ বিএনপি ৩১ দফা দেয়, পূরণ করে ৩২ দফা পর্যন্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষা, আলোচনায় একাধিক নাম ◈ বিশেষ সতর্কবার্তা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ◈ শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে আজ ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৩৭ রাত
আপডেট : ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:১৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চলতি বছরের শুরু থেকে ৪১ জন নিহত, আহত ১২১ 

চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের বাড়ছে দুর্ঘটনা, ঝুঁকিতে পর্যটকদের চলাচল 

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক নানা কারণে দিন দিন পর্যটকদের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হচ্ছে। বেড়েই চলছে দুর্ঘটনা। ৭ মাসে মারা গেছে ৪১ জন। আহত হয়েছে ১২১ জন। দুর্ঘটনা ঘটেছে ২২৫টি। ফুটপাত দখল, রোড সাইন না থাকা, লাইসেন্স বিহীন চালক, বেপরোয়া যানবাহন চলাচল, পর্যটক বাহি বাহন গুলোর অপরিচিত সড়ক, আঁকাবাঁকা মোড় সহ নানা কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের কক্সবাজার অংশে দুর্ঘটনা প্রবন ৮ টি এলাকার রয়েছে। তারমধ্যে চারটি রয়েছে চকরিয়া তে। প্রতিনিয়ত চকরিয়ার এসব এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকাগুলো হচ্ছে, চকরিয়ার বানিয়ার ছড়া, বরইতলি, ফাঁসিয়াখালী, মেদাকচ্ছপিয়া, রামুর পানির ছড়া, রাবার বাগান এলাকা ও কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের উখিয়ার বালুখালী এবং উখিয়া বাজার অন্যতম। এছাড়াও আরও বেশ কিছু স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

বাংলাদেশের একমাত্র পর্যটন জেলা কক্সবাজার। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত দেখতে এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার দেশে-বিদেশি পর্যটক ছুটে আসে। আগত পর্যটকদের বেশিরভাগই কক্সবাজারে আসেন সড়ক পথে। রেল পথ চালু হবার পরেও সড়ক পথে চাপ আছে পর্যটক সহ যাত্রীদের। আকাশ পথে আসেন সামান্য যাত্রী ও পর্যটক। চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হলেও এখনো প্রশস্ত করণ হয়নি। এই সড়ক দিয়ে পর্যটকদের পাশাপাশি, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১৫ লাখ রোহিঙ্গার জন্য কাজ করা নানা উন্নয়ন সংস্থা, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, মাতারবাড়ির কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, এসপিএম প্রকল্পে কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং এসব প্রকল্প গুলোর সাথে সংশ্লিষ্টরা এ সড়ক ব্যবহার করে থাকে। ফলে এই সড়কেই যানবাহনের চাপ থাকে অতিরিক্ত। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সড়কের খুবই বেহাল দশা বলে জানিয়েছেন সড়ক ব্যবহারকারীরা। যানবাহনের চাপে, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত একাধিক স্থানে নিয়মিত জ্যাম লেগে থাকে।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা ) এর কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি জসিম উদ্দিন কিশোর বলেন, আমরা প্রতিবছর দিবস পালন করে ‌ সড়ক ব্যবহারকারীদের নানাভাবে সচেতন করে থাকি। প্রশাসনকে ও নানা দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিয়ে থাকি। কিন্তু এত বছরেও কোন কাজ হয়নি। চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক এখনও প্রশস্ত করণ করা হয়নি। প্রতিদিন এই সড়কেই যানবাহনের সংখ্যা বেড়েই চলছে। তিনি বলেন, সড়কের ফুটপাত দখল, বেপরোয়া যানবাহন চলাচল, চালকদের লাইসেন্স না থাকা, রোড সাইন না থাকার পাশাপাশি আঁকাবাঁকা সড়কের কারণে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা গুলো ঘটছে।

কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ.ন.ম. হেলাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেওয়ার পরেও এখনো চার লেনের কাজ শুরু হয়নি। অথচ এই সড়ক দিয়ে বেশিরভাগই পর্যটক যাতায়াত করে থাকে। পর্যটক বাহি যানবাহন গুলো নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যেসব চালকরা এই সড়কে আসেন, তাদের এই সরু সড়ক নিয়ে কোন অভিজ্ঞতা না থাকায় বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। চট্টগ্রাম পর্যন্ত বড় সড়কে আসার পর, হঠাৎ যখন ছোট সড়কে প্রবেশ করে তখন তাদের যানবাহন অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সেই সাথে আঁকাবাঁকা সড়ক গুলোর সাথে ভিন্ন জেলার চালকরা পরিচিত না থাকায় প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে এই সড়কে।

নাগরিক ফোরামের সভাপতি বলেন, পর্যটনসহ যেভাবে কক্সবাজারে উন্নয়ন প্রকল্প গুলো নেওয়া হচ্ছে, সেভাবেই এই সড়কের প্রতি নজর দেওয়া হচ্ছে না। উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার আগে এই সড়ক কে ৬ লাইনে উন্নত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক কে চার লেনে উন্নীতকরণের দাবি নিয়ে প্রথম আমি রাস্তায় নেমেছি। তাই আমরা চাই এই সড়ককে দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা হোক।

হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের এডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের কক্সবাজার এলাকায় ২২৫ টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাতে ৪১ জন নিহত ও ১২১ জন আহত হয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের কক্সবাজার অংশে দুর্ঘটনা প্রবন ৮ টি এলাকার রয়েছে। তারমধ্যে চারটি রয়েছে চকরিয়া তে। প্রতিনিয়ত চকরিয়ার এসব এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকাগুলো হচ্ছে, চকরিয়ার বানিয়ার ছড়া, বরইতলি, ফাঁসিয়াখালী, মেদাকচ্ছপিয়া, রামুর পানির ছড়া, রাবার বাগান এলাকা ও কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের উখিয়ার বালুখালী এবং উখিয়া বাজার অন্যতম। এছাড়াও আরও বেশ কিছু স্থানে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের এডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, আমরা চালকসহ সংশ্লিষ্টদের সড়ক দুর্ঘটনা রোধের ব্যাপারে সচেতন করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। চালকদেরকে নানাভাবে ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। তবে চালকদের পাশাপাশি যাত্রী ও পথচারীদের সচেতন হওয়ার উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়