শিরোনাম
◈ তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলে এবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ◈ গঙ্গা চুক্তিসহ নদী ইস্যুতে বাংলাদেশ-ভারত আলোচনা চলছে: রণধীর জয়সওয়াল ◈ মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ২৫ বাংলাদেশি এজেন্সির তালিকা প্রকাশ ◈ রাষ্ট্রপতি কার্যালয়সহ ৩ সচিব পদে রদবদল ◈ বিশ্বকাপ ফাইনালে মারামারি: ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ পারেদেস, আর ৭ ম্যাচ মোলিনা ◈ নতুন পাঁচজনকে নিয়ে মন্ত্রিসভায় রদবদল, কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন? ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব ◈ ইতালির তৃতীয় বিভাগ ক্লাব রাভেনা এফসির অংশীদার হলেন রোনালদিনহো ◈ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ◈ ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের শপথ আজ: বঙ্গভবনে অতিথিদের ভিড়, জোরদার নিরাপত্তা

প্রকাশিত : ৩০ জুন, ২০২৬, ০৭:৪৪ বিকাল
আপডেট : ১১ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

রাণীশংকৈলে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ, ১১ বছর পর যুবকের যাবজ্জীবন

আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ১১ বছর আগে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। প্রয়োজনে দণ্ডিতের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক আলী মনসুর আসামির উপস্থিতিতে এ রায় দেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক।

দণ্ডিত মো. আব্দুল মমিন (৪২( রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী (বগুড়াপাড়া) গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামাণিকের ছেলে।

এই ধর্ষণ মামলার আরেক আসামি আব্দুল মমিনের ভাই এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করে আদালত।

মামলার বরাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বলেন, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে ১৪ বছর বয়সি মেয়েকে ঘরে একা রেখে বাড়ির পাশের দোকানে গিয়েছিলেন তার মা।

বাকপ্রতিবন্ধী ওই কিশোরীকে ঘরে একা পেয়ে তখন ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী আব্দুল মমিন। বাড়িতে ফিরে কিশোরীর মা ঘটনাটি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে মমিন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ঘটনার পর শিশুটির পরিবার মমিনের বাড়িতে গিয়ে বিচারের দাবি জানালে তার ভাই এরশাদ বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকি দেন এবং আব্দুল মমিনকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন।

পরে ২৩ অক্টোবর ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে আব্দুল মমিন ও তার ভাই এরশাদকে আসামি করে রাণীশংকৈল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষীদের সাক্ষ্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায়  দীর্ঘ ১১ বছর পর মামলা স্বাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের আসামি আব্দুল মমিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

পাশাপাশি আব্দুল মমিনকে দুই লক্ষ টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন বিচারক আলী মনসুর।

মামলার এ রায়ে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীর মা ও মামলার বাদি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলেও জানিয়েছেন এ আইনজীবী।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়