শিরোনাম
◈ ৯ বছরেও প্রত্যাবাসন হয়নি, রোহিঙ্গা সংকটে নতুন কৌশলের আহ্বান ◈ কোচিং সেন্টারে জড়াতে পারবেন না জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা: সুপ্রিম কোর্টের পরিপত্র জারি ◈ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ◈ সম্পাদকদের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক, যা নিয়ে আলোচনা হলো ◈ ইরানের সব ‘অর্থনৈতিক লাইফলাইন’ ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ◈ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি, দেশে প্রভাব পড়ার শঙ্কা কতটা? ◈ যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসার ফি বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করার প্রস্তাব ◈ এশিয়ার যে দেশ সন্তান জন্ম দিলেই ৬৭ লাখ টাকা দেবে! ◈ প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রীরা অনুপস্থিত থাকলে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যারা থাকবেন ◈ এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দিয়ে আইনের খসড়া অনুমোদন

প্রকাশিত : ০৬ মে, ২০২৬, ০৬:২৫ বিকাল
আপডেট : ০৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

লালন শাহ সেতু সরানোর খবরটি গুজব

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : দীর্ঘ এক দশকের অবকাঠামো নির্মাণ ও জটিল কারিগরি প্রস্তুতির পর
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্য
দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ; শুরু হলো দেশের জ্বালানি খাতে
নতুন অধ্যায়।

তবে এই অগ্রগতির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রূপপুর প্রকল্পের কারণে লালন শাহ সেতু সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে’—এমন একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, লালন শাহ সেতু সরানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। পদ্মা নদীর ওপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছেই নির্মিত লালন শাহ সেতু কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও পাবনার ঈশ্বরদীকে (পাকশী) যুক্ত করেছে। এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সেতুটি।

সূত্র জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল প্রকল্প। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মার তীরে নির্মিত এই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা)। রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই কেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে রূপপুর ও আশপাশের এলাকায় রেল ও সড়কসহ নানা অবকাঠামো উন্নয়ন চলছে। ঢাকা–এলেঙ্গা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পর এখন এলেঙ্গা–হাটিকুমরুল–রংপুর মহাসড়ক চার লেনে বাড়ানোর কাজ চলছে। ভবিষ্যতে ঝিনাইদহ থেকে রূপপুর হয়ে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সওজ জানিয়েছে, এসব পরিকল্পনা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ব্যয় ও অর্থায়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ শাখা) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, লালন শাহ সেতু সরানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি আগের জায়গাতেই থাকবে। তিনি আরও জানান, ঝিনাইদহ–ঈশ্বরদী–রূপপুর–নাটোর–বনপাড়া হয়ে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে।২০০৪ সালের ১৮ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া লালন শাহ সেতু উদ্বোধন করেন। প্রায় ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৮ দশমিক ১০ মিটার প্রশস্ত এই সেতুটি ১৭টি পিলারের (স্প্যান) ওপর নির্মিত। চীনা প্রতিষ্ঠান মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো এটি নির্মাণ করে।

সেতুটি চালুর পর কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে
বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

  • সর্বশেষ