শিরোনাম
◈ ‘ক্রসফায়ার’ শব্দ ব্যবহারে আইজিপিকে সতর্ক করা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতা শুরু, উদ্বোধনী দিনেই ছয়টি নতুন রেকর্ড ◈ ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী ◈ জাতিসংঘে কিউবা-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, অধিবেশন স্থগিত করলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ মেয়াদ শেষের পথে গঙ্গা চুক্তি, সাড়া নেই ভারতের ◈ বাংলাদেশ-নেপালের পর ইউরোপজুড়ে জেন-জি আন্দোলন, ভবিষ্যৎ ও স্বপ্ন হারানোর ক্ষোভে রাজপথে তরুণেরা ◈ এবার এক নারীর সঙ্গে নাটোর-৪ আসনের এমপি আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল! ◈ অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপে সেশেলসকে হারালো বাংলাদেশ ◈ এশিয়া কাপ আর্চারিতে কাজাখস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্বর্ণজয় ◈ সেঞ্চুরির দুয়ারে সাদমান, দাপুটে দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩

প্রকাশিত : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৫ রাত
আপডেট : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দৃশ্যমান হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ, বদলে যাবে ২২ জেলার যোগাযোগব্যবস্থা

যমুনা সেতু পশ্চিম সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে নির্মিত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক ও নান্দনিক ‘হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ’। এরই মধ্যে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে চায়না রেলওয়ে ব্রিজ করপোরেশন নামক চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বাকি কাজ শেষ হলে উত্তর-দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২২ জেলার যাতায়াত ব্যবস্থায় কোনো প্রকার যানজট ও বিড়ম্বনা ছাড়াই নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন চালক ও যাত্রীরা।

এতে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পেও খুলবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।প্রকল্প বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাকি ২০ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ দ্রুত সময়ে শেষ হলে আগামী নতুন বছরের শুরুতেই চালুর অপেক্ষা ঘুচবে। আর দেশে প্রথমবারের মতো সড়ক অবকাঠামোতে আধুনিক প্রযুক্তি, সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর একটি ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম (আইটিএস) ব্যবহারের সুফল পাবে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ২২ জেলার মানুষ।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকায় মাটি ও বালু ভরাট, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, এসএমবিডি ব্রিজ ও সার্ভিস এরিয়ার সিংহভাগ কাজ শেষ হয়েছে। মূল ইন্টারচেঞ্জ ও র‍্যাম্পের ১ হাজার ৩০২টি পাইল, পাইল ক্যাপ, পিয়ার স্টেম এবং গার্ডার নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় দৃশ্যমান হয়ে উঠছে প্রকল্পের মূল অবকাঠামো।

প্রকল্প সূত্র জানায়, ‘সাউথ এশিয়া সাব-রিজিয়নাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক)-২ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প’ এর আওতায় ৭৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০২০ সালের এপ্রিলে প্রকল্পের ডিটেইল ডিজাইনে সম্মতি দেওয়ার পর একই বছরের ১৫ জুন ভূমি অধিগ্রহণ জরিপ প্রতিবেদন জমা দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটির পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে উল্লাপাড়া উপজেলার ধোপাকান্দি, চড়িয়াশিখর, হাসনপুর ও হাটিকুমরুল মৌজায় ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি অধিগ্রহণ শুরু করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা। কিন্তু অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানে আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রকল্পের ভূমি নির্দিষ্ট সময়ে বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হয় অধিগ্রহণ শাখা। এতে সড়কের কাজ চললেও মূল প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে গিয়ে শুরু হয়।প্রকল্পটির শুরুতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও সেটি হয়নি। পরে দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর করা হয়। তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকি ২০ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ শেষ হওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে দাবি করছেন প্রকল্পের কাজে নিয়োজিত একাধিক শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা।তারা নাম প্রকাশ না শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, নতুন বছরের এপ্রিল অথবা মে মাসের দিকে গিয়ে কাজ সম্পন্ন হবে। 

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানায়, হাটিকুমরুল গোল চত্বর ঢাকা-বগুড়া, ঢাকা-রাজশাহী ও ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ স্থল। শুধু তাই নয়, অন্তত ১০টি স্থলবন্দরের সড়ক যোগাযোগের কেন্দ্রও এটি। আর এখানেই গড়ে উঠছে দেশের সবচেয়ে বড় ও আন্তর্জাতিক মানের ইন্টারচেঞ্জ। যেখানে আলাদা ছয়টি র‍্যাম্প ও একটি গ্রাউন্ড রোড থাকবে। ফলে ঢাকা ও উত্তর-দক্ষিণমুখী যান চলবে আলাদা র‍্যাম্প দিয়ে, আর ধীরগতির যান চলবে নিচের গ্রাউন্ড রোডে। এরই মধ্যে ছয়টি লেন চালু হওয়ায় যাত্রী ও চালকরা সুফল পেতে শুরু করেছেন।সূত্রটি আরও জানায়, আধুনিক নির্মাণশৈলীর এই ইন্টারচেঞ্জটি ঢাকা প্রান্তে ৭৫৫ মিটার, পাবনা প্রান্তে ৯৮০ মিটার, রাজশাহী প্রান্তে ৮০০ মিটার ও রংপুর প্রান্তে ৮১০ মিটারজুড়ে বিস্তৃত থাকবে।

Advertisement

চত্বরে এলেই যানজটের কবলে পড়তে হতো। কিন্তু নির্মাণাধীন ইন্টারচেঞ্জের ছয়টি লেন খুলে দেওয়ায় সেই ভোগান্তি দূর হয়েছে। এখন আমরা অনায়াসেই গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে পারি। পুরো কাজ শেষ হলে সব চালক ও যাত্রীদের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে।স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু হানিফ জাগো নিউজকে বলেন, যমুনা সেতু ১৯৯৮ সালে চালু হলেও তার পূর্ণাঙ্গ সুফল উত্তরাঞ্চলের মানুষ আজও পাইনি। তবে হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জ পুরোদমে চালু হলে সেই সুফল মিলবে। ফলে এ অঞ্চলের শিল্পায়ন ও অর্থনীতিতে মিলবে নতুন গতি।প্রকল্পের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সরফরাজ হোসাইন কাজের অগ্রগতি জানিয়ে জাগো নিউজকে বলেন, এরই মধ্যে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করা যায়, বাকি কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হলে নতুন বছরের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মানের এই ইন্টারচেঞ্জটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যে রাত-দিন দুই শিফটে কাজ করছেন তারা।প্রকল্পের বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে ব্যবস্থাপক আরও বলেন, এই ইন্টারচেঞ্জের প্রত্যেক লেনের নিচে ঝুঁকিমুক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী পট এবং রাবার বিয়ারিং রয়েছে। এতে যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকবে না। পুরো এলাকা হবে শতভাগ যানজটমুক্ত। সেই সঙ্গে মূল সড়কের পাশে মোটরসাইকেল ও সাইকেল চলাচলের জন্য রয়েছে পৃথক লেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা জানান, দিনে প্রাকৃতিক দৃশ্য আর রাতে আলোকোজ্জ্বল পরিবেশ পর্যটকদের কাছে এলাকাটিকে আকর্ষণীয় করে তুলবে।তারা বলছেন, কাজ শেষ হলে এখানে গড়ে উঠতে পারে রিসোর্ট, হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ। দূরপাল্লার যানবাহন ঘিরে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে।বুয়েট সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, প্রকল্পটি ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম (আইটিএস) হওয়ায় গাড়ি কখন কোথা দিয়ে যাবে, কোন লেনে যাবে, কোথায় থামবে এটা অটোমেটিক কাজ করবে। ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম হলো অটোমেটিক কন্ট্রোল করার সিস্টেম। আপনি ভুল লেনে গেলে অটো অ্যালার্ম বাজবে। আইটিএস এর ব্যবহারের ফলে যানজটের তীব্রতা কমে যাবে এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার হবে।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল জাগো নিউজকে বলেন, ওই প্রকল্পে যাত্রী ও চালকদের জন্য বিশ্রামাগার, ইনটেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেমসহ নানা সুবিধা থাকবে। ইন্টারচেঞ্জটি আলোকিত করবে নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এতে মাসে প্রায় ১৫ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হবে। তার মতে, আগামী ৪০ বছর পর্যন্ত এই ইন্টারচেঞ্জ দিয়ে নির্বিঘ্নে যান চলাচল সম্ভব হবে। বর্তমানে যেখানে দিনে গড়ে ১৮ হাজার যানবাহন চলে, কাজ শেষ হলে তা বাড়বে ৪০ হাজারে।

সূত্র : জাগো নিউস ২৪ 

  • সর্বশেষ