কল্যাণ বড়ুয়া, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়ায় সাঙ্গু নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে একমাত্র শংখনদীর তৈলারদ্বীপ ব্রীজের পিলার ধসে পড়তে পারে এমন আশংকা সাধারন জনগনের!
বাঁশখালীর পুকুরিয়া ,বাহারছড়া ও খানখানাবাদ এলাকায় সাঙ্গু নদী ও বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করে চলেছে একটি চক্র। তাতে করে গুটি কয়েক ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থ রক্ষা হলে পরিবেশবিদ সহ সাধারন জনগন পরিবেশে বিপর্যয়ের আশংকা করছে। পাউবো থেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁশখালীর উপকুলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধের কাজ চলমান থাকলেও পুকুরিয়া ও খানখানাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্ট এলাকায় সাঙ্গু নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে বসতিও নদীভাঙন ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও শঙ্কা। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার ও মেশিন বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করলে ও কয়দিন রেখে পুনরায় চালিয়ে যায় ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তৈলারদ্বীপ সাঙ্গু ব্রীজের দক্ষিন পাশে পিএবি প্রধান সড়কের পাশে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের আদেশক্রমে "শিরোপা বিল্ডার্স" বালু বিক্রয়, সরবরাহকারী
ডলুখাল বালুমহাল, চন্দনাইশ সাানিবোর্ড লাগিয়ে খননযন্ত্র (ড্রেজার) মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন স্তূপ করে বিক্রয় করছে।
তৈলারদ্বীপ সাঙ্গু ব্রীজের দক্ষিন পাশে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে স্তূপ করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে "শিরোপা বিল্ডার্স" বালু বিক্রয় কেন্দ্রের সাকিব সিকদার শাহীন বলেন, আমরা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছি না, জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নিয়ে অন্যত্র থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু এনে আমরা বালু বিক্রি করছি। একই সাথে পুকুরিয়া তেচ্ছিপাড়া এলাকায় ও খানখানাবাদের বিভিন্ন পয়েন্টে কোনো প্রকার সরকারি অনুমোদন ছাড়াই প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু তুলে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
উপজেলার সাধনপুর মৌলভী ঘোনা পানি চড়া , কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের পূর্ব পাশে জঙ্গল কোকদন্ডী চড়া- ফকির মোহাম্মদ পাড়া এলাকার পর্ব দিকে পাহাড়ি চড়া , বৈলছড়ী ইউনিয়নের পূর্ব বৈলছড়ী, অভ্যারখীল, পূর্ব চেচুরিয়া খদুল্ল্যাহ পাড়া , জলদী চুম্মাপাড়া , কাজীর পাড়া, চাম্বল ইউপির পূর্ব চাম্বল মিয়ার দোকানের পূর্ব পাশে ধূল্লাজিরি, চাম্বল ফরেস্ট রোড, আর্দশ গ্রাম, পাতলা মার্কেট ও সোনারখীল, পূর্ব নাপোড়া মীরাপাড়া ও ভিলেজার পাড়া, পূর্ব পুইছুড়ি ও দক্ষিণ পুইছুড়ি পাহাড়ি চড়ায় মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট এবং ছড়াবেষ্টিত পাহাড়ি অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শত শত ফুট বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি সিন্ডিকেট। ইজারা ছাড়া বা নির্দিষ্ট শর্ত ভেঙে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে এই কার্যক্রম। অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে আশপাশের কৃষিজমি, বসতভিটা এবং বেড়িবাঁধ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন বলেন, সাঙ্গু ব্রীজের পশ্চিম পাশ থেকে বালু উত্তোলন করার কোন অনুমোদন নাই। তবে ডলু খাল থেকে এনে বিক্রি করার অনুমোদন আছে বলে জানান তিনি। তবে অন্যান্য ইউনিয়নে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কারিদের সুনিদিষ্ট তথ্য প্রশাসনকে দিয়ে সহযোগিতার আহবান জানান তিনি।