মিজান লিটন : চাঁদপুর সরকারি প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে বিনামূল্যে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত বিড়াল, কুকুরের ভ্যাকসিন টাকার বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সরকারি এই সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে সাধারণ পশু পালনকারীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
স্থানীয় পশু প্রেমিদের অভিযোগ বিড়াল কুকুরের হাত থেকে রক্ষা পেতে ভ্যাকসিন দিতে হয়। আমরা বাসা বাড়িতে যারা এই সমস্ত বিড়াল কুকুর শখের বসে পালন করে থাকি তারাই এই পশুদের হাত থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে এই ভ্যাকসিনগুলো আমরা নিয়মিত পশুদের দিয়ে থাকি। এ সমস্ত ভ্যাকসিন সরকারিভাবেই হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়ে থাকে। বিগত দিনও আমরা সরকারি ভাবে পশু হাসপাতালে গিয়ে দিয়ে এসেছি। কিন্তু বর্তমানে বেশ কিছুদিন ধরে চাঁদপুর পশু হাসপাতালের উপ সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামীম তালুকদার, নিজ চেম্বারে বসেই এসকল ভ্যাকসিন নিজে কিনে এনে মানুষের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে তাদের পশুদের কে দিয়ে থাকে।এতে করে প্রতিদিন তিনি মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারি এই হাসপাতালের চেয়ারে বসেই। এভাবেই চলছে তার হাসপাতালে বসেই রমরমা বাণিজ্য। এতে করে স্থায়ী পশুপ্রেমীরা ক্ষুদ্ধ। খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে আরো জানাযায়, যে এই কর্মকর্তা তার নিজ এলাকায় বিশাল অট্টালিকা তৈরি করেছেন এভাবেই দুর্নীতির মাধ্যমে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে সেবা নিতে আসা খামারিদের সাথে খারাপ আচরণ করার অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়,শহরের দেলোয়ার আহমেদ সরকার নামে এক পশুপ্রেমী জানান,আমি আমার পোষা বিড়ালটি নিয়ে এই হাসপাতলে ভ্যাকসিন দিতে আসি। তখন এই কর্মকর্তা সরকারিভাবে ভ্যকসিনের সাপ্লাই নেই অজুহাত দেখায়।২৫০ টাকা দিলে তিনি সংগ্রহ করে দিতে পারবে একথা বলেন, তখন আমি বাধ্য হয়ে তার কথা অনুযায়ী ২৫০ টাকা টাকা দিলে তিনি তার ড্রয়ার খুলে এই ভ্যাকসিনটি আমার পশুটিকে নিজেই পুশ করে দেয়।এভাবেই তিনি প্রতিনিয়ত তার চেম্বারে বসেই মানুষের কাছ থেকে টাকার নিয়ে এই ভ্যাকসিন গুলো দিয়ে থাকে। ডেস্কে বসেই টাকার বিনিময়ে তা পুশ করা হচ্ছে। টাকা দিতে না চাইলে ভ্যাকসিন নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগী আরো কয়েকজন কুকুর বিড়াল প্রেমী বলেন, সরকারিভাবে বিনামূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও এই কর্মকর্তা বলেন, ভ্যাকসিন শেষ,তবে আলাদা টাকা দিলে ব্যবস্থা করা যাবে। বাধ্য হয়ে পশুর সুরক্ষার কথা চিন্তা করে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন নিতে হয়েছে।"
বিষয়টি সম্পর্কে উক্ত উক্ত কর্মকর্তার সাথে আলাপ কালে তিনি তার প্রতিক্রিয়ার এক পর্যায়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন,বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের এই পশু হাসপাতালে বিড়াল কুকুরের জন্য দেওয়া রেবিস ভ্যাকসিন,ফ্লু-ভ্যাকসিন গুলো সরকারিভাবে আসছে না। তাই আমি একটি কোম্পানি থেকে টাকার বিনিময় এগুলো এনে রাখি। যাতে মানুষের দুর্ভোগ লাগব করা যায়,আমি সেবার জন্য এগুলি এনে রাখি। অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার জ্যোতির্ময় ভৌমিকের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য বা বিন্যামূল্যে নির্ধারিত নিয়মেই পশুর টিকা প্রদান করার নিয়ম। যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ব্যক্তিস্বার্থে টাকার বিনিময়ে সরকারি হাসপাতালে বসে বাইরের কোম্পানি থেকে এনে এসকল টিকা বিক্রি করে থাকেন তবে তা সম্পূর্ণ বেআইনি।
তিনি আরও বলেন, "এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" সুশীল সমাজের দাবি স্থানীয় বাসিন্দারা ও সচেতন মহল মনে করছেন, চাঁদপুর একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। সরকারের গৃহীত নানামুখী উদ্যোগ সত্ত্বেও দু একজন কর্মকর্তার দুর্নীতি কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে করে পশুপ্রেমীদের নিরুৎসাহিত করছে। এ বিষয়ে দ্রুগ উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে অনিয়মের অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন বহু পশুপ্রেমী।