সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে বসত ভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনকালে মাটির নিচ থেকে উদগীরিত গ্যাসে সৃষ্ট আগুন দুদিনেও বন্ধ করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা। মংগলবার সকাল থেকে আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের আগুন সমানে জলছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল আটটার দিকে উখিয়ার ইনানী ছোট খালের উত্তর পাশে একটি বাড়ির আঙিনায় নলকূপের পাইপ বসানোর সময় হঠাৎ উচ্চ চাপে গ্যাস বের হয়ে এই আগুনের সুত্রপাত হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট এবং সেনাবাহিনীর একটি দল দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। তবে মাটির নিচ থেকে অবিরাম গ্যাস ও প্রচণ্ড চাপ নির্গত হতে থাকায় আগুন নেভানো যাচ্ছে না।
বড়ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং আগুনের তীব্রতার কারণে ঘটনাস্থলের চারপাশে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ মিটার এলাকা পর্যন্ত সাধারণ মানুষের চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আগুনের শিখা কাছাকাছি উচ্চ ভোল্টেজের (৩৩ কেভি) বৈদ্যুতিক লাইনে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে উখিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল গতকাল মংগলবার রাত ১১ টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাপেক্সের ব্যবস্থাপক ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম জানিয়েছেন ভূগর্ভের যে স্তর থেকে গ্যাস বেরিয়ে আসছে, সেই স্তরের গ্যাস শেষ হয়ে গেলে আগুন স্বাভাবিকভাবেই নিভে যাবে। এর আগে জোর করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলে ভূগর্ভে আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তবে ঘটনাস্থল থেকে দুইশো মিটার এলাকা আইসোলেটেড রাখতে হবে তথা বসতি আর জনসমাগম থাকতে পারবে না। আগুনের নিভে যাওয়ার পার বাকী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বাপেক্সের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইনানী গ্রামের ছোট ইনানী এলাকায় স্থানীয় জনৈক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ’র বসত ভিটায় গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য শ্রমিকরা কাজ করছিল। এক পর্যায়ে আকস্মিক নলকূপ থেকে গন্ধযুক্ত গ্যাস বের হওয়ার সাথে সাথেই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠে। আগুনের বিস্তার বেশি থাকায় স্থানীয়দের মাঝে আতংক দেখা দেয়।