শিরোনাম
◈ চীন-ভারতের দ্বন্দ্ব এড়িয়ে নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ◈ জাপানে তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি সফর : বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে জোরদার ◈ প‌্যা‌রি‌সে বিক্ষোভের উত্তাপ, সোমবার রাতে পিএসজির ম্যাচ ◈ ইসলামবিদ্বেষের ছায়ায় ইউরোপ, কতটা নিরাপদ মুসলিমরা? : আল-জাজিরার বিশ্লেষণ ◈ বাস-ট্রেনে হেডফোন ছাড়া গান শুনলে ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করলে কোন দেশে কত জরিমানা? ◈ প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় রাখার সিদ্ধান্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের: শামা ওবায়েদ ◈ বলপ্রয়োগ করলে ফ্যাসিবাদী, না করলে দুর্বল ভাবে মানুষ: আইজিপি ◈ মাদরাসায় বলাৎকার: কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার ◈ কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে ১০০ কোটি ডলারের নয়, ১০ কোটি ডলারে ক্যান কারখানা গড়ছে চীনা প্রতিষ্ঠান ◈ গাজীপুরে সুপ্রিম গার্মেন্টসের কার্টন গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৮ ইউনিট

প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:১৫ রাত
আপডেট : ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অবশেষে সুফল মিলছে চট্টগ্রামের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের, কমছে যানজট

অবশেষে চট্টগ্রামের প্রথম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সুফল মিলতে শুরু করেছে। যানবাহন চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়ার প্রায় তিন বছর পর ছয়টি ওঠানামার পথ (র‌্যাম্প) চালু হওয়ায় এক্সপ্রেসওয়েতে গতি বাড়ছে। মোট নয়টি র‌্যাম্পের মধ্যে বাকি তিনটির নির্মাণ কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ডিসেম্বরের মধ্যে সবকটি র‌্যাম্প চালু হলে একপ্রেসওয়ে পুরোদমে গতিশীল হয়ে উঠবে। তাতে নগরীতে যানজটের কিছুটা হলেও অবসান হবে। যানবাহনের সংখ্যা বাড়লে টোল আদায়ও বাড়বে।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারি সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএ’র দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি তিনটি র‌্যাম্প চালু করা যাবে। তখন এক্সপ্রেওয়েতে যানবাহনের সংখ্যা আরো বাড়বে, নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে যানজট কমবে।

দেশে বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত বন্দরনগরীর যান চলাচলে প্রত্যাশিত গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে চার হাজার ২৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর ওয়াসা মোড় থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়। দুই দফা ব্যয় বৃদ্ধির পর এখন খরচ হচ্ছে চার হাজার ৩১৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটির পুরো অর্থায়ন করে সরকার। এরমধ্যে তিন হাজার ৭শ’ কোটি টাকা সরকার অনুদান এবং ৫২৪ কোটি ঋণ হিসেবে প্রদান করে। ঋণের টাকা সিডিএ নির্ধারিত মেয়াদ শেষে সরকারকে পরিশোধ করার কথা রয়েছে। ঋণের এই টাকার সংস্থানের জন্য এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে টোল নেয়া হচ্ছে। কিন্তু যত সংখ্যক গাড়ি চলাচল করবে বলে শুরুতে প্রত্যাশা করা হয়েছিল বাস্তবে তা চলছে না। কারণ র‌্যাম্প না থাকায় এক্সপ্রেসওয়ের সাথে অন্যান্য সড়কের সংযোগ করা যায়নি। তাতে গাড়ি চলাচল বাড়েনি। এতে করে ঋণ পরিশোধে সিডিএকে বেকায়দায় পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে র‌্যাম্প চালুর পর গাড়ির সাথে সাথে টোল আদায়ও বাড়বে বলে প্রত্যাশা কর্মকর্তাদের।

শুরুতে এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠানামার জন্য ১৫টি র‌্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল সিডিএর। এ প্রকল্প থেকে ইতোমধ্যে ছয়টি র‌্যাম্প বাদ দেওয়া হয়। নগরীর টাইগারপাস এলাকায় একটি র‌্যাম্প নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে তাতে পরিবেশবাদি সংগঠনগুলো বাধা দেয়। কারণ ওই র‌্যাম্প নির্মাণের জন্য শতবর্ষি শতাধিক বৃক্ষ কাটার পরিকল্পনা ছিলো সিডিএর। এছাড়া নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতল মোড়ে একটি ওঠার আর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের মুখে একটি নামার র‌্যাম্প নির্মাণ পরিকল্পনাও পরে বাদ দেয়া হয়। আবার টাইগারপাস অংশে নামার একটি র‌্যাম্প নির্মাণ শেষ হলেও রেলওয়ের সাথে জমি নিয়ে জটিলতার কারণে সেটি চালু করা যায়নি।

Advertisement

এর আগে কোন র‌্যাম্প নির্মাণ ছাড়াই ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করা হয়েছিল। তবে মূল অংশে পরীক্ষামূলকভাবে গাড়ি চলাচল শুরু হয় ২০২৪ সালের আগস্টের শেষ সপ্তাহে। আনুষ্ঠানিকভাবে টোল পরিশোধের মাধ্যমে গাড়ি চলাচল করছে গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে। তখন শুধু মাত্র পতেঙ্গা প্রান্ত থেকে ওঠার আর লালখান বাজারে নামার ব্যবস্থা ছিলো। আর কোন এলাকায় ওঠানামার সুযোগ ছিলো না। এর ফলে এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহন চলেছে লক্ষ্যমাত্রার দশ ভাগের একভাগ।

তবে এখন একের পর এক র‌্যাম্প চালু হওয়ায় যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত। নগরীর বন্দর নিমতলা অংশে ওঠা-নামার দুটি র‌্যাম্প নির্মাণ শেষে চালু করা হয়েছে। পতেঙ্গা থেকে আসা যানবাহন নিমতলার নামার র‌্যাম্প হয়ে পোর্ট কানেকটিং রোড ধরে নগরীর পাহাড়তলী, হালিশহর অংশ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচল করছে। আবার ওঠার র‌্যাম্প হয়ে একই এলাকার যানবাহন খুব কম সময়ে লালখান বাজার বা মুরাদপুর হয়ে নগরীর উত্তর অংশে চলাচল করছে। চট্টগ্রাম বন্দর তিন নম্বর ফকিরহাট এলাকায় নামার র‌্যাম্প ও চালু হয়েছে। এতে করে নগরীর উত্তরপ্রান্তের যানবাহন লালখান বাজার আগ্রাবাদ হয়ে দ্রুত ফকির হাট দিয়ে নেমে চট্টগ্রাম বন্দর, ইপিজেড এলাকায় চলাচল করছে। চট্টগ্রাম ইপিজেড এলাকায় নামার র‌্যাম্পটি চালু হয়েছে। এরফলে নগরীর উত্তরপ্রান্ত থেকে ইপিজেডমুখি যানবাহনগুলো যানজট এড়িয়ে সহজে গন্তব্যে যেতে পারছে। ইপিজেডের ভেতর থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠার আরো একটি র‌্যাম্প নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। খুব সহসা সেটি খুলে দেওয়া হলে ইপিজেড থেকে সহজে যানবাহন বিশেষ করে পণ্যবাহী ভারী যানবাহন এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে নগরীর যেকোন সড়কে চলাচল করতে পারবে। স্টিল মিল এলাকায় নামার র‌্যাম্পটিও কাজ শেষ পর্যায়ে।

আগ্রাবাদ থেকে পতেঙ্গামুখি ওঠার র‌্যাম্প নির্মাণও এগিয়ে চলছে। আগেই চালু হয়েছে লালখান বাজার থেকে ওঠার র‌্যাম্প। জিইসির মোড় থেকে আরো একটি র‌্যাম্প চালু করা হয়েছে। এক্সপ্রেসওয়ের সাথে লালখান বাজার হয়ে মুরাদপুর ফ্লাইওভার, বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের সংযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার গিয়ে মিলেছে কর্ণফুলী সেতুমুখি ছয়লেন সড়কের সাথে ওই সড়টিকে রয়েছে ওভারপাস। এরফলে শাহ আমানত বিমানবন্দর ও পতেঙ্গার সাথে উড়াল পথে সরাসরি কর্ণফুলী সেতুর সংযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আবার এই উড়াল পথের সাথে দেশের প্রথম সুরঙ্গপথ কর্ণফুলী টানেলের সংযোগ হয়েছে। এতে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো সহজতর হয়েছে।

সিডিএর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পটি র‌্যাম্পের অভাবে পুরোদমে সচল করা যাচ্ছিল না। আমরা দ্রুত সময়ে র‌্যাম্প নির্মাণের কাজ এগিয়ে নিয়েছি। এখন আর মাত্র তিনটি র‌্যাম্পের কাজ চলমান আছে। খুব কম সময়ের মধ্যে এই তিনটি চালু করা হলে এক্সপ্রেসওয়ের সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে। তাতে নগরীতে যানজট কমবে। বিশেষ করে নগরীর উত্তর প্রান্তের সাথে পতেঙ্গাপ্রান্তের যোগাযোগ সহজতর হবে।

সূত্র: ইনকিলাব 

  • সর্বশেষ