তিস্তা, উত্তরের ৫ জেলার মানুষের এক দীর্ঘশ্বাসের নাম। অতি বর্ষায় বন্যা আর শুকনো মৌসুমে খড়া— প্রতি বছরেই যেন অভিশাপ নিয়ে আসে তিস্তাপারের মানুষের জীবনে। এর থেকে রক্ষা পেতে বর্ষাকালের উদ্ধৃত্ত পানি ধরে রেখে প্রয়োজনে ব্যবহারে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা চীন-ভারত কূটনীতির বেড়াজালে আটকে আছে দীর্ঘদিন।
তবে, আশার কথা বিএনপি সরকার চীন-ভারত ভূরাজনৈতিক দ্বন্ধ পাশ কাটিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে ঝুলে থাকা তিস্তা প্রকল্প। এক্ষেত্রে নকশা, কারিগরি সম্ভাব্যতা ও অর্থায়নে পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক পরামর্শকদের।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৪-১৫ হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে এটা এক বছরের জন্য হবে না। পদ্মা ব্যারেজ যেমন প্রথম পর্যায়ে ৭-৮ বছর মেয়াদী, তেমনি তিস্তায়ও ৭-৮ বছর লাগবে। অর্থাৎ প্রতি বছর দুই হাজার কোটি টাকা হলে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটা বাস্তবায়ন করতে পারবো।
নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পের উদ্যোগে ভারতের কোনো বিরোধিতা নেই বলেও জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী। অন্যদিকে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক তিস্তা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনেও কোনো রাজনীতি দেখেন না তিনি।
প্রস্তাবিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১০ কিলোমিটার নদীর তীর রক্ষা করা হবে। নির্মাণ করা হবে ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ও স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা হবে। ধরে রাখা হবে বর্ষার পানি। কৃষি ও শিল্পের কাজে ব্যবহারের জন্য নদী শাসন করে নতুন জমি পুনরুদ্ধার করা হবে।
এ নিয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ বললেন, এখানে আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, পানিটা আমরা সংরক্ষণ করতে চাই এবং ওই অঞ্চলের মানুষ যেন শুকনা মৌসুমে সে সুবিধা পায় এবং ওই অঞ্চলের মানুষ যেন ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পায়।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ তিস্তা প্রকল্প উদ্বোধন করা হবে। এর পাশাপাশি তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে চুক্তি করতে চায় সরকার।
এদিকে, তিস্তা চুক্তির ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। সেখানে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হওয়ায় ভারতের সাথে চুক্তির ক্ষেত্রে নতুন করে আশাবাদী বাংলাদেশ।