রাজধানীর বনশ্রী ও আফতাবনগরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া রামপুরা (বেগুনবাড়ী) খালের ওপর নির্মিত ৪২ মিটার দীর্ঘ পদচারী সেতুটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সেতুটি নির্মাণে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ব্যয় হয়েছে ১৩ কোটি ২৮ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। এর ফলে দুই এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় বাঁচবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আফতাবনগরে পদচারী সেতুটি উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
ডেমরাগামী রামপুরা-বনশ্রী সড়কের ফরাজী হাসপাতালের পাশে নির্মিত সেতুটির প্রস্থ ৩ দশমিক ৮০ মিটার। স্টিলের কাঠামোর ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব ও টাইলস বসিয়ে হাঁটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতদিন এই এলাকার বাসিন্দাদের খাল পার হতে বাঁশের সাঁকো কিংবা নৌকার ওপর নির্ভর করতে হতো।
কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতিদিন এই পথে চলাচল করতে হয়। সেতুটি চালু হলে তাদের খাল পারাপারের ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, আফতাবনগর এবং বনশ্রী আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সংযোগ স্থাপন। এই সেতু নির্মাণের ফলে এখন থেকে নাগরিকদের যাতায়াতে সময় বাঁচবে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। এতে নগরবাসীর মূল্যবান সময় বাঁচবে। তিনি বলেন, কেবল এই ফুটওভার ব্রিজটিই নয়, এর পাশাপাশি আরও দুটি স্টিল ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, যা দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে। আগামীতে এমআরটি’র কাজ শুরু হলে প্রধান সড়কগুলোতে চাপ কমাতে এই ব্রিজগুলো বাইপাস রুট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং যানজট নিরসন করবে।
সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়েরুল আলম, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিবুল হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর হুমায়ুন কবির, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব হোসেনসহ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় সোসাইটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।