প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থসম্পদ আটকেই রাখছে যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ ডেস্ক: তালেবান কাবুল দখলের পর আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় হাজার কোটি ডলারের যে সম্পদ জব্দ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা শিগগিরই ছেড়ে দেওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। চরম সংকটে পড়া আফগান অর্থনীতি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে এবং দেশটিতে জরুরি ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন বলে জোর তাগিদ দিচ্ছে বিভিন্ন সংগঠন। তারপরও যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই মত বদলাবে বলে মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। জাগো নিউজ ২৪

গত ১৫ আগস্ট তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাড়ে নয়শ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগ। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তার বরাতে ব্লুমবার্গ জানায়, মার্কিন রাজস্ব বিভাগের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় এখনো নাম রয়েছে তালেবানের। এ কারণে তারা আফগানিস্তানে সরকার গঠন করলেও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো সম্পদ বা সম্পত্তির নাগাল পাবে না।

প্রায় একই সময় আফগানিস্তানের জন্য নতুন করে বরাদ্দ ৪৪ কোটি ডলারসহ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সবধরনের সম্পদে আফগানদের প্রবেশাধিকার সাময়িক নিষিদ্ধ করা হয়। আইএমএফের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, তালেবান কাবুল দখলের পর আফগানিস্তানের সরকার নিয়ে ‘স্বচ্ছতার অভাব’ থাকায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন রাজস্ব বিভাগের চাপেই আফগানিস্তানের জন্য বরাদ্দ অর্থ আটকানোর ঘোষণা দিয়েছে আইএমএফ। তহবিলের একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে যুক্তরাষ্ট্র। তারা চায়, আইএমএফের ‘স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস’ বা এসডিএফ বরাদ্দের অর্থ যেন তালেবানের হাতে না পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগান ব্যাংকের জব্দ করা অর্থ ছাড় হতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। বিপুল এ অর্থ আটকে রেখে তালেবানের ওপর প্রভাব খাটানো বা কোনো বিষয়ে বাধ্য করার চেষ্টা করতে পারে মার্কিনিরা।

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, রাজস্ব বিভাগ, হোয়াইট হাউস, জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলসহ অন্যান্য সংস্থার কর্মকর্তারা আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে নিয়মিত আলোচনায় করছেন। তহবিল ছাড়ার যেকোনো সিদ্ধান্তে বিভিন্ন বিভাগের উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারেন, কিন্তু শেষপর্যন্ত পুরো বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ওপরই নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আফগানিস্তানে এরই মধ্যে খাদ্য ও জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। বিদেশি সাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি খরার কারণে সেখানে মানবেতর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা দ্রুততম সময়ে আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা এখনই তালেবানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করছেন না বা বৈশ্বিক ব্যবস্থা থেকে গোষ্ঠীটির হাতে অর্থ পৌঁছানোয় বিধিনিষেধও শিথিল করছেন না।

আইএমএফের সাবেক উপ-পরিচালক আদনান মাজারেই বলেছেন, আফগানিস্তানে যতক্ষণ না বৈধ সরকার গঠিত হচ্ছে, ততক্ষণ বৈধভাবে আফগান সম্পদ ছাড়তে পারে না যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রক্রিয়ায় বহু মাস লেগে যেতে পারে। অন্যদিকে, সরকার স্বীকৃতি পেলেও আইএমএফ তার পর্ষদ ভোট না দেওয়া পর্যন্ত কোনো কাজ করতে পারবে না।

মার্কিন রাজস্ব বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ব্রায়ান ও’টুলের মতে, শুধু এসব তহবিল ছাড়লেই আফগান অর্থনীতির সব সমস্যা মিটে যাবে না। তার কথায়, এতে শুধু তালেবানের হাতে শত শত কোটি ডলার তুলে দেওয়া হবে। আমার মনে হয় না যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের কোনো ইচ্ছা রয়েছে বা থাকা উচিত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত