প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনা ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যে শঙ্কার বার্তা দিয়ে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু, আক্রান্ত ৪৮ জন

বাংলাদেশ প্রতিদিন: করোনা মহামারীর মধ্যে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতালে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ জন। বর্তমানে রাজধানীর হাসপাতালে ৪৮ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। করোনা ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যে শঙ্কার বার্তা দিয়ে চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। সাধারণত এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুর মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্যে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ২০ জন। বর্তমানে ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪৮ জন। এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ২৩৫ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮৭ জন। তবে এখনো ডেঙ্গুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। ২০১৯ সালে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন। সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১৭৯। ২০২০ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ হাজার ৩৯২ জন, মারা গিয়েছিলেন তিনজন। গত বছর থেকে করোনার প্রকোপে বিপন্ন হয়েছে জনজীবন। গতকাল পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৬১ হাজার ১৫০ জন এবং মারা গেছেন ১৩ হাজার ৭০২ জন। প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান। এর মধ্যে গত মাস থেকেই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। বৃষ্টির মৌসুম শুরু হতেই জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করতে শুরু করেছে এডিস মশা। এ পরিস্থিতিতে গত ৯ মে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেছিলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় এডিস মশার লার্ভার যে উপস্থিতি দেখা গেছে তা আশঙ্কাজনক বলে মনে করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ভার্চুয়াল বিফ্রিংয়ে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি হতে শুরু করেছে। এই করোনাকালে ডেঙ্গু যেন আমাদের নতুন করে বিপদগ্রস্ত না করে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ৩২ নম্বর ওয়ার্ড (লালমাটিয়া ও ইকবাল রোড) ও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে (সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী) অনেক বেশি পরিমাণে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া, ডিএনসিসির ১৩, ৩১, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু এলাকায় লার্ভার ঘনত্ব অনেক বেশি পরিমাণে পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মালিবাগ, গুলবাগ, শান্তিবাগ, মিন্টো রোড, বেইলি রোড, কাকরাইল, সিদ্দিক বাজার, ওসমান গণি রোড, শাঁখারীবাজার, আরকে মিশন রোড, অভয় দাশ লেন, মিল ব্যারাক এলাকায় অনেক বেশি পরিমাণে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করতে পেরেছি। প্লাস্টিকের পাত্র, পানির ট্যাংক, ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবন, লিফটের গর্তে অত্যন্ত আশঙ্কাজনকভাবে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর কারণে যে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে, সেটি যদি এই করোনাকালে হয় তাহলে মৃত্যুর মিছিল বাড়াবে কি না বরাবরই সে আশঙ্কা থেকে যায়।’

মশক নিধনে দুই সিটি করপোরেশনে নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি মাঝে মাঝে চলছে বিশেষ চিরুনি অভিযান। গত ১২ জুন এডিস মশার লার্ভা নিধনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ২১টি মামলায় ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে মশার লার্ভা ও উপযুক্ত পরিবেশ নষ্ট করা হয়।

মশক নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক প্রধান কীটতত্ত্ববিদ মো. খলিলুর রহমান বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টি এডিস মশার বংশবিস্তারে প্রভাব ফেলতে পারে। বৃষ্টির জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে মশা বংশবিস্তারের সুযোগ পায় এবং লার্ভার ঘনত্ব বেড়ে যায়। লার্ভার ঘনত্বের কারণে কিছু কিছু এলাকা ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। নির্মাণাধীন ভবন, খালি কনটেইনারে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এসব থেকে সতর্ক থাকতে হবে। বালতি, বোতলে কিংবা কোনো পাত্রে পানি যেন জমতে না পারে এ জন্য কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের খেয়াল রাখতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত