প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন: পুরস্কার বা অ্যাওয়ার্ড কেন দেওয়া হয়?

কামরুল হাসান মামুন: পুরস্কার বা অ্যাওয়ার্ড কেন দেওয়া হয়? কোন একটা ক্ষেত্রে ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পুরস্কার দেওয়ার রীতি পৃথিবীর প্রায় সকল সভ্য সমাজের একটা রীতি হয়ে গিয়েছে। পুরস্কারের মাধ্যমে সমাজকে দেখিয়ে দেওয়া হয় যে, দেখ ভালো কাজ করলে মানুষ তোমাকে স্বীকৃতি দেয়, সম্মান দেয় আর সাথে টোকেন স্বরূপ কিছু অর্থও দেয়। আমাদের দেশেও অ্যাওয়ার্ড বা পুরস্কারের রেওয়াজ আছে কিন্তু সরকারিভাবে exclusively শিক্ষায় বা গবেষণায় কোন অ্যাওয়ার্ড নাই বললেই চলে। একটা আছে ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড।

ভারতে এই সংস্কৃতি বেশ ভালোভাবেই আছে। তাদের আছে যেমন Shanti Swaroop Bhatnagar award, ইন্ডিয়া সাইন্স অ্যাওয়ার্ড, G. D. Birla Award for Scientific Research! এছাড়া তারা শিক্ষাবিদরা পদ্মশ্রী অ্যাওয়ার্ডও পায় যা সকল ক্যাটাগরির জন্য উম্মুক্ত। আমি নিজে দুইজন শান্তিস্বরূপ ভাতনগর পুরস্কার পেয়েছেন এইরকম দুইজন পদার্থবিদকে আমি খুব ভালোভাবে চিনি একজন হলো টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ সেন্টারের দীপক ধর আর অন্যজন হলেন নন-লিনিয়ার ডিনামিক্সের খ্যাতিমান গবেষক Professor Muthusamy Lakshmanan! Shanti Swarup Bhatnagar Prize হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ভারতের সেরা পুরোস্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম।

বিজ্ঞান ও গবেষণায় উৎসাহ জোগানোর জন্য বাংলাদেশে কেন আজ পর্যন্ত এইরকম পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয় না যার মাধ্যমে ভবিষ্যত প্রজন্ম বড় বিজ্ঞানী ও বড় গবেষক হতে উৎসাহবোধ করবে। ইউরোপ আমেরিকার প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর নানা ক্যাটাগরিতে সেরা শিক্ষক সেরা গবেষকের পুরস্কারের ব্যবস্থা আছে। আমেরিকায় আছে প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড সহ আরো নানাবিধ পুরস্কার। প্রত্যেকটা পুরস্কারই অনেক সম্মানের এবং ঢাকঢোল পিটিয়ে দেওয়া হয়। উদ্যেশ্য মানুষ যেন জানে। আমাদের একাডেমিয়াতে এই পরিবেশটাই নাই। এই অভাবটা আমাদের কোন সরকারই আজ পর্যন্ত বুঝতে পারেনি। আগেতো বুঝতে হবে তারপরই না এর পেছনে কাজ করবে।

কিছু কিছু পুরস্কার আছে বটে। তবে অন্যসব কিছুর মত এইগুলোকেও আমরা রাজনীতিকরণ করে ফেলেছি। এইটা যেন আমাদের রেওয়াজ হয়ে গেছে যখন যেই দল ক্ষমতায় যাবে কেবল সেই দলের শিক্ষক গবেষকরাই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবে। অন্যরা যত ভালোই হউক না কেন বিবেচনাতেই রাখা হবে না। আমাদের এমনও পুরস্কার পদ্ধতি আছে যেখানে পুরস্কার প্রার্থীদের কাছ থেকে দরখাস্ত আহবান করা হয় যা আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়। তারপর আবার দলকানা পুরস্কার। গত ১৫-২০ বছরের শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অ্যাওয়ার্ড, ২১-শে পদক বা অন্যান্য সকল পদক প্রাপ্তিদের একটা লিস্ট নিয়ে বসলেই বুঝতে পারা জলবৎ তরলং হয়ে যাবে যে যেই দল ক্ষমতায় সেই দলের না হলে কোন পুরস্কার পাওয়া যাবে না। আমরা এই লেভেলের অসভ্য একটা জাতিতে পরিণত হয়েছি। ভারতের কত কিছুই আমাদের মত তবে একাডেমিয়াকে তারা মোটামোটি দলান্ধতা থেকে মুক্ত থাকতে পেরেছে। এখনো সত্যিকারের বিজ্ঞানী বা গবেষকের মূল্যায়ন ওই দেশে হয়।

একটি দেশের শিক্ষা ও গবেষকদের উৎসাহিত করার জন্য অনেক কিছু করা যায়। কয়েকদিন আগে দেখলাম বুয়েট তার একজন সেরা বিজ্ঞানী জামিলুর রেজা চৌধুরীর নামে তাদের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ভবনের নাম রেখেছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক হলের নাম, একাডেমিক ভবনের নাম পর্যন্ত রাজনীতিবিদদের। অথচ হওয়া উচিত ছিল উল্টো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মোঃ শহীদুল্লাহ হল ছাড়া কয়টা হলের নাম একাডেমিকদের নামে আছে? সত্যেনবোসের নামে কোন ভবন আছে? কাজী মোতাহার হোসেনের নামে কোন হল আছে? জামাল নজরুল ইসলামের নামে কি কোন হল আছে? এইরকম অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যাবে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি তাদের স্কলারদের মূল্যায়ন না করে তাহলে কে করবে? এই ক্ষেত্রে বুয়েটকে আমি ধন্যবাদ দেই যে তারা জামিলুর রেজা চৌধুরীর নামে একটি ভবন করেছে। এইরকম আরো অনেকের নামে ভবনের নামকরণ করা উচিত। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত