প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সর্বশেষ দরেই গ্রামীণফোন ও রবিকে তরঙ্গ দিচ্ছে বিটিআরসি

নিউজ ডেস্ক : গ্রামীণফোন ও রবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিটিআরসি অপারেটর দুটিকে তরঙ্গ (স্পেক্ট্রাম) বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এজন্য নতুন করে কোনও নিলাম অনুষ্ঠান হবে না। ২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সর্বশেষ তরঙ্গ নিলামের দরেই অপারেটর দুটিকে তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হবে। বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে। বাংলা ট্রিবিউন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘সর্বশেষ নিলাম অনুষ্ঠানের দিন আমরা অপারেটরগুলোকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম— ছয় মাসের মধ্যে কোনও অপারেটর তরঙ্গ নিতে চাইলে নিলামের দামেই তরঙ্গ দেওয়া হবে। সেই সময় সীমার মধ্যে কোনও অপারেটর আগ্রহ দেখায়নি।’

পরবর্তী সময়ে এসে গ্রামীণফোন ও রবি তরঙ্গ বরাদ্দের জন্য আবেদন জানায় বিটিআরসিতে। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখলাম আবারও নিলাম করতে গেলে অনেক জটিলতা হবে, কালক্ষেপণ হবে। তাই সেদিকে না গিয়ে আমরা সর্বশেষ নিলাম প্রাইসে অপারেটর দুটিকে তরঙ্গ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ’

তিনি উল্লেখ করেন, সর্বশেষ নিলামের দরে তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনও নিতে হবে না। অপারেটর দুটি এখন যেকোনও সময় তরঙ্গ নিতে পারবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে বিটিআরসি গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকে চিঠি দিয়েছে। বাংলালিংক তরঙ্গের জন্য আবেদন না করলেও তারা যদি নিতে চায় বা নিতে পারে, সেজন্য এই অপারেটরটিকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, টু-জি’র ৯০০ ও ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড এবং থ্রি-জি’র ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের মিলিয়ে গ্রামীণফোনের মোট তরঙ্গ এখন ৩৭ মেগাহার্টজ। রবি ও এয়ারটেল একীভূত হওয়ার পর রবির তরঙ্গের পরিমাণ এখন ৩৬ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ। এছাড়া বাংলালিংকের তরঙ্গ বর্তমানে ৩০ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ। আর রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটকের হাতে রয়েছে ২৫ দশমিক ২০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ। ২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিলাম প্রক্রিয়ার আগে ৪৬ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গ ছিল। নিলামে ১৫ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ বিক্রি হয়। বিটিআরসি’র কাছে এখন তরঙ্গ রয়েছে ৩০ দশমিক ৮ মেগাহার্টজ। এর আগে ২০১৩ সালে থ্রি-জি’র নিলাম হয়।

জানা গেছে, ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে গ্রামীণফোন ০.৪ মেগাহার্টজ ও রবি ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ পাওয়ার জন্য বিটিআরসিতে আবেদন করে। বিটিআরসির ২৪৮তম কমিশন সভায় বলা হয়, গ্রামীণফোনের সেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ আছে। তাদের সেবার মান উন্নত করতে ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে আরও বেশি তরঙ্গ থাকা প্রয়োজন। যদিও গ্রামীণফোন ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডেও ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেছে। অপরদিকে রবি ২৬০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডেও তরঙ্গ বরাদ্দ পেতে আবেদন করেছে। তবে বাংলালিংক ও টেলিটকের কাছ থেকে বিটিআরসি তরঙ্গ বরাদ্দের কোনও আবেদন পায়নি।

এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, অবরাদ্দকৃত ৭.৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গ দুই অপারেটরকে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে। আর যে ২০ হার্টজের মতো তরঙ্গ অন্য ব্যান্ডে রয়েছে, সেখান থেকে ৫ মেগাহার্টজ করে দুই অপারেটরকে দিয়ে দেওয়া যাবে। আমার তো আর দুটো অপারেটর রয়েছে, তারা যদি চায়, তাদেরকেও তো তরঙ্গ দিতে হবে।’

কমিশন সভায় বলা হয়, বর্তমানে করোনা ভাইরাসজনিত মহামারির কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি বেসরকারি অফিস, আদালতের কার্যক্রমসহ সব ধরনের সেবামূলক কাজ অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় মোবাইল ফোনের কলড্রপ বেড়েছে, ইন্টারনেটের গতি কমেছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর ক্রমান্বয়ে আরও চাপ বাড়ছে। মোবাইল নেটওয়ার্কে ট্রাফিক যে পরিমাণে বাড়ছে, সেই তুলনায় তরঙ্গ ব্যবহারের পরিমাণ না বাড়ায়, মোবাইল ফোন সেবার মান আরও খারাপ হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের মতো বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য যে পরিমাণে তরঙ্গ দরকার, সে তুলনায় তরঙ্গ ব্যবহার অত্যন্ত কম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত