প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজম খান: জনতা বিএনপি-জামায়াতের ডাকে আন্দোলনে নামে না কেন?

আজম খান: আরব বসন্তের একটা বড় দুর্বলতা- বোকা জনতার কোনো সুস্পস্ট ধারণা ছিল না ক্ষমতাসীনকে হটিয়ে তারা কাকে ক্ষমতায় বসাবে। যে কারণে আরব বসন্ত আরবের মানুষের জীবন ভালো করার চাইতে আরো মন্দ চাপিয়ে দিয়েছে। এই ভুল আরবরা দেখে করছে। বাকিরা করে নাই। মোটামুটি সবাই আগে পরের নেতৃত্ব নিশ্চিত করেছে। মানুষ আওয়ামী লীগের উপরে বিরক্ত, ক্ষুব্ধ। এটা আমি ৬ হাজার মাইল দূরে বসেও টের পাই। কিন্তু জনগণ তার ক্রোধ প্রকাশ করার আগে তার জীবন আরো ভালো না হোক, অন্তত এখন যতটুকু স্থিতিশীলতা আছে সেইটুকু অক্ষুণ্ন থাকবে তা নিশ্চিত হতে চায়। উপযুক্ত নেতৃত্ব পারে সেই নিশ্চয়তা জনতাকে দিতে। তারপরেই জনতা নামবে। এইটা হইলো সরকার উৎখাতের একেবারে সাধারণ রসায়ন। জনতা বিএনপি-জামায়াতের ডাকে নামে না। কারণ তারা ১৯৯১-১৯৯৬, ২০০১-২০০৬ সময় থেকে শিখেছে জানে এরা ক্ষমতায় আসলে তার জীবন এখন যা আছে তাই থাকবে। তাইলে টিয়ার গ্যাস আর পুলিশের লাঠির বাড়ি ফাও কেন খাবে। এরপরে বিএনপি-জামায়াত আমলে গ্রেনেড আর ৬৩ জেলায় বোমা ফুটার ঘটনা তো আছেই।

বিশে^র কাছে নিজেরে কালিমা লিপ্ত করে কেন তারা নিজের রপ্তানি মুখী অর্থনীতির গলা টিপে ধরবে। আজকাল এই গুলোন গার্মেন্টসের ছেলে মেয়েরাও বুঝে। বাম গুলার একাংশ পাঁড় বদমাশ, সাম্প্রদায়িক (যেইটা তারা লুকানোর আপ্রান চেষ্টা করে)। এদের লোকে বামাতি ডাকে। তারপরের ঘরানায় আছে সিপিবি ভাইলোগ। জলি আপা কয়দিন আগেই অনশনে বসছিল দলের মধ্যে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে। বিচার পাইছে কিনা জানা যায় নাই। কিন্তু গলার রগ ফুলায়া এখন যে ভাব এরা নিতেছে, তাতে মনে হইতে পারে এরা দুধে ধোয়া তুলসি পাতা, স্বর্গ থেকে নেমে আসা দেবশিশু। বামাতি ঘরানার এক সংগীত শিল্পী ফুলকলি না কি যেন নাম ঘরের কাজের মেয়ে পিটায়ে ধরা খাইছিল কয়েক বছর আগে। মেহনতি, গরিব-দুঃখীদের বন্ধু বামাতিরা যে নির্লজ্জ্ব ভাবে ফুলকলির পক্ষ নিলো সেইটা দেখে আমার উল্টা মনে হইছিল কাজের মেয়েটাই বুঝি নির্যাতন করেছিল। তো এই প্যাকেজ গুলাই এখন সরকারের পতন চায়। কিন্তু বাস্তবতা হইলো, আওয়ামী লীগের পতন বিএনপি-জামায়াত, বাম, নূরা ভিপি কারো হাতেই হবে না। হওয়া সম্ভব না। এই গুলান সব আওয়ামী লীগের জন্য পরীক্ষার কমন প্রশ্ন। কোনো কিছুর শুরু থাকলে তার শেষও আছে। তবে আওয়ামী লীগের শেষ এদের হাতে হবে না। হবে আমাদের চিন্তার, এমনকি আওয়ামী লীগেরও চিন্তার বাইরে এমন কারো হাতে। এইটা অনেকটা সিলেবাসের বাইরে থেকে আসা প্রশ্নের মতন। যার উত্তর আওয়ামী লীগের হাতে থাকবে না। কিন্তু আমি একটা গ্যারান্টি দিতে পারি। আওয়ামী লীগ যদি এভাবেই দেশ চালাতে থাকে এবং ক্ষমতায় আরও ১০-১৫ বছর থাকে। তবে আওয়ামী লীগের নাম নিশানা হয়তো বাংলাদেশ থেকে অনেক দশকের জন্য, হয়তো চিরতরে হারিয়ে যাবে। আমি আওয়ামী লীগের চরম শত্রু হইলে আওয়ামী লীগকে আরো ১০ বছর ক্ষমতায় থাকতে দিতাম। এইটাই হইতো আমার সেরা চাল। হয়তো কেউ এখন এই চালটাই দিয়ে বসে বসে হাসছে আর গ্যালারিতে পপকর্ন আর কোক নিয়ে বসে আছে। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত