প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] চাপ বাড়ছে হাসপাতালে

আমাদের সময় : [২] করোনা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগের কারণে ঢাকার অধিকাংশ হাসপাতালে জ্বর, হাঁচি, কাশি, মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের রোগীর চাপ বেড়েছে। বাড়তি চাপ সামলাতে রাজধানীর সরকারি হাসপাতালগুলোকে এখন অতিরিক্ত ব্যবস্থাও নিতে হচ্ছে। এ ধরনের রোগীকে অন্য রোগে আক্রান্তদের কাছ থেকে আলাদা করে চিকিৎসা দিতে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

[৩] এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, এ ধরনের অসুস্থতায় চিকিৎসা নিতে আসা কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তা যেন হাসপাতালের অন্য রোগীদের মধ্যে ছড়াতে না পারে। অবশ্য এ ব্যবস্থা সরকারি হাসপাতালগুলো কতটা অনুসরণ করছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। ফলে হাসপাতাল থেকেও করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

[৪] চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের আঁতুড়ঘর চীনে এই রোগ (কোভিড-১৯) শনাক্ত হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই দেশটির সরকার জ্বর জাতীয় যেসব উপসর্গ করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে দেখা দেয় সেগুলোর ওষুধ ফার্মেসি থেকে সরিয়ে ফেলে। যেন মানুষ প্রয়োজনে হাসপাতালে যায় ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে উপযুক্ত চিকিৎসা নেয়। কারও মধ্যে করোনার উপস্থিতি পেলে তাকে আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে সেখানে। বাংলাদেশের মানুষ সাধারণত ঠা-া-জ্বর, মাথাব্যথার মতো অসুস্থতায় ফার্মেসি থেকেই ওষুধ নিয়ে সেবন করতেন। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে এখন মানুষ জ্বর, হাঁচি, কাশি হলেই দৌড়াচ্ছেন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে। ফলে হাসপাতালগুলোয় এখন এ ধরনের রোগীর চাপ বেড়েই চলেছে।

[৫] ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতালসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে জ্বর, হাঁচি, কাশি, মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের রোগীর বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা গেছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের উপসর্গগুলো এখন বেশি দেখা যাচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। আবার করোনা সংক্রমিত হলে এ ধরনের উপসর্গ দেখা যায় বলে রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

[৬] দেশের সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে মূল ভবনের সামনের খোলা জায়গায় বিশেষ শেড দিয়ে জ্বর, হাঁচি, কাশি, মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

[৭] হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, শনিবার থেকে সম্প্রসারিত শেডে জ্বর, হাঁচি, কাশি, মাথাব্যথা ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হবে। সেখানে মেডিসিন, নাক-কান-গলা ও শিশু রোগের চিকিৎসা করা হবে। বাড়তি চিকিৎসকও নিয়োগ করা হবে। তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এখন এ ধরনের রোগ একটু বেশি হচ্ছে। ফলে হাসপাতালে কিছুটা চাপ বেড়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্দেশ দিয়েছে এ ধরনের রোগীদের যেন আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি।

এ ধরনের রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসা দিতে গত মঙ্গলবার একটি ইউনিট গঠন করেছে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। বহির্বিভাগের মাধ্যমে এ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. খাইরুল আলম। অন্যান্য সময়ের তুলনায় এ ধরনের রোগীদের এখন একটু চাপ বেশি বলে জানান তিনি।

[৮] ডা. খাইরুল আলম বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠন করা হয়েছে করোনা ভাইরাস ট্রিটমেন্ট সেন্টার। আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাইডলাইন অনুযায়ী আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় দুটি ওয়ার্ডে (করোনা নিশ্চিত ওয়ার্ড ও করোনা সন্দেহভাজনক ওয়ার্ড) একসঙ্গে ১২০ জনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে অক্সিজেন ও অন্যান্য সুবিধাসহ আমাদের বিভিন্ন সেকশনের সিনিয়র-জুনিয়র চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীর জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) সিনিয়র চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে খালি রাখা হয়েছে ৫টি বেড। পর্যাপ্ত না হলেও আমাদের পারসোনাল প্রটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) রয়েছে। এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে রোগ শনাক্তকরণ কিট, মাস্ক, হ্যান্ডগ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও এন্টিভাইরাল ওষুধ যেন সংকট না হয় সেদিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত মুগদা হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন কোনো রোগী আসেনি বলেও জানান তিনি।

সর্বাধিক পঠিত