শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ৮৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ ◈ ফেরদৌসী মিষ্টির আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন যে ৬৭ নারী নেত্রী ◈ দীপকের আটক ঘিরে নেতৃত্বের সংকট, বিকল্প পরিকল্পনা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত সিজেপির ◈ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ওঠা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কাভার্ডভ্যান চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা যেভাবে উদ্ধার হলো ◈ মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানত না ঢাকা, তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি ◈ হাসিনা-কামালসহ হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চাইবে বাংলাদেশ, ভারতকে কনস্যুলার সংলাপে চাপ ◈ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, ৮-১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন-উত্তর বিক্রি: গ্রেপ্তার ৭ ◈ জামায়াত কার্যালয়ে হামলা: কুমিল্লা মহানগর কমিটি বিলুপ্ত, তদন্ত কমিটি গঠন ◈ ভারতে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন শাহিদাদের

প্রকাশিত : ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:০১ বিকাল
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বেক্সিমকো টেক্সটাইল ফের চালু, ২৫ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের আশা

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বেক্সিমকোর টেক্সটাইল উৎপাদন আবার চালু হতে যাচ্ছে। জাপান-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগ রিভাইভাল গ্রুপ লিজ নিয়ে কারখানাগুলো চালু করবে। এর ফলে জীবিকা হারানো শ্রমিকদের জন্য আবার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হলো। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনাবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবীদের প্রতিষ্ঠান ‘ইকোমিলি’ এই উদ্যোগে অর্থায়ন করছে। আজ রোববার (১৬ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

তিন দশকের বেশি সময় ধরে সফলভাবে চলা বেক্সিমকো টেক্সটাইল ‘ঋণখেলাপির কারণে’ বন্ধ হয়ে গেলে হাজারো শ্রমিক রাতারাতি বেকার হয়ে পড়েন, ছোট ব্যবসাগুলো ভেঙে পড়ে এবং পুরো শিল্পাঞ্চলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। রিভাইভালের দীর্ঘমেয়াদি লিজের সিদ্ধান্ত সেই পরিবারগুলোর জন্য নতুন আশার বার্তা নিয়ে এসেছে।

গত ৮ অক্টোবর রিভাইভাল প্রজেক্টস লিমিটেড, বেক্সিমকো ও জনতা ব্যাংকের মধ্যে এ বিষয়ে খসড়া চুক্তি হয়। আগামী মঙ্গলবার জনতা ব্যাংকের বৈঠকে খসড়া চুক্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এটি পাস হলে এই মাসেই আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে রিভাইভাল ও ইকোমিলির শীর্ষ প্রতিনিধিরা ঢাকায় আসতে পারেন।

রিভাইভালের সিইও ও সহপ্রতিষ্ঠাতা হুদা মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, ‘এটি শুধু একটি কারখানা চালুর ঘটনা নয়; এটি হাজারো পরিবারের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের যাত্রা।’

Advertisement

২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, লক্ষ্য ১০০ মিলিয়ন

প্রথম ধাপে রিভাইভাল ও ইকোমিলি মিলে ২০ মিলিয়ন ডলার ব্যাক টু ব্যাক এলসি (ঋণপত্র) সহায়তা দেবে, যা পরে ১০০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়ানো হবে। ডিসেম্বরের মধ্যেই কারখানা ফের চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ২৫ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজে ফিরতে পারেন।

রিভাইভাল বলছে, ২০২৭ সালের মধ্যে প্রতিবছর ৫০০ কোটি টাকা লাভ করতে পারবে বেক্সিমকো টেক্সটাইল। এটি পুরোনো ঋণ শোধে সহায়তা করবে এবং ব্র্যান্ডকে দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীল করবে।

ইকোমিলির প্রেসিডেন্ট ফারহান এস করিম বলেন, ‘এটি ব্রেইন ড্রেন নয়—ব্রেইন গেইন। দেশের অর্থনীতির সঙ্গে আমাদের হৃদয়ের বন্ধন জড়িয়ে আছে।’

জাপানি ব্যবস্থাপনায় এই পুনঃউৎপাদনে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারখানা পুরোপুরি চালু হলে আগের ব্যবস্থাপনা দলকে ফিরিয়ে আনা হবে, পুরো শ্রমিক বাহিনীকে ফিরিয়ে আনা হবে এবং জাপানের অভিজ্ঞ সি-সুইট কর্মকর্তারা এসে পুরো পদ্ধতি বাস্তবায়ন করবেন।

এ ছাড়া স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানের একটি শীর্ষস্থানীয় অডিট প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হবে।

স্থানীয় নকশায় বিশ্ব জয়

রিভাইভালের পরিকল্পনা হলো—বেক্সিমকো টেক্সটাইলকে আবার আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে যুক্ত করা এবং নতুন বৈশ্বিক অংশীদারত্ব তৈরি করা। তাদের দর্শন— দেশে নকশা, বিদেশে বিক্রি, যার লক্ষ্য সস্তা পণ্যকে উন্নতমানের নকশানির্ভর বৈশ্বিক ব্র্যান্ডে পরিণত করা।

তরুণ ডিজাইনারদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামও চালু করা হবে।

বেক্সিমকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওসমান কায়সার চৌধুরী জানান, ৩২টি কারখানার নামে ঋণ নেওয়া হলেও বাস্তবে ১৬টি কারখানা ছিল। আর্থিক সংকটের পরেও তাঁরা যন্ত্রপাতি সচল রেখেছিলেন, যাতে সুযোগ পেলে মুহূর্তেই পুনরায় উৎপাদন শুরু করা যায়।

বেক্সিমকোর শিল্পপার্কে অস্থিত্বহীন প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে ২৯ হাজার ৯২৫ কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয়েছিল, যার ১২ হাজার কোটি টাকা জনতা ব্যাংকের। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বেক্সিমকো শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়; ১৬টি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও শ্রম মন্ত্রণালয় একাধিক বৈঠক করে।

বেক্সিমকো টেক্সটাইলের প্রধান গ্রাহকদের মধ্যে ছিল জারা, মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার, টার্গেট, আমেরিকান ইগল, পুল অ্যান্ড বেয়ার, বেস্ট সেলার ইত্যাদি।

কারখানা চালুর পর প্রথম তিন মাসের অপারেশনাল খরচ মেটাতে নতুন অর্থায়ন প্রয়োজন হবে। কোম্পানির হিসাব অনুযায়ী, মাসে ১০০ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয় লাগবে।

রিভাইভাল বলছে, জাপানের নিখুঁত পরিকল্পনা, যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা ও বাংলাদেশের শ্রমিকদের দৃঢ়তা—এই তিন শক্তির সমন্বয়ে বেক্সিমকো টেক্সটাইলের পুনর্জাগরণ বাংলাদেশের শিল্প পুনরুদ্ধারের প্রতীক হয়ে উঠবে। উৎস: আজকের পত্রিকা।

 

  • সর্বশেষ