শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ৮৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ ◈ ফেরদৌসী মিষ্টির আসনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম নিলেন যে ৬৭ নারী নেত্রী ◈ দীপকের আটক ঘিরে নেতৃত্বের সংকট, বিকল্প পরিকল্পনা ‘প্ল্যান বি’ প্রস্তুত সিজেপির ◈ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা এলেই নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা ওঠা জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কাভার্ডভ্যান চুরি হওয়া ক্রিকেটারের টাকা যেভাবে উদ্ধার হলো ◈ মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানত না ঢাকা, তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি ◈ হাসিনা-কামালসহ হাদী হত্যা মামলার আসামিদের ফেরত চাইবে বাংলাদেশ, ভারতকে কনস্যুলার সংলাপে চাপ ◈ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, ৮-১০ লাখ টাকায় প্রশ্ন-উত্তর বিক্রি: গ্রেপ্তার ৭ ◈ জামায়াত কার্যালয়ে হামলা: কুমিল্লা মহানগর কমিটি বিলুপ্ত, তদন্ত কমিটি গঠন ◈ ভারতে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন শাহিদাদের

প্রকাশিত : ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৩ রাত
আপডেট : ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানত না ঢাকা, তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় একটি মসজিদে ‘অনৈতিক’ কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি আগে থেকে জানত না বাংলাদেশ। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি জানতে পারে ঢাকা। 

এরপর ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একটি সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে ঘটনার বিস্তারিত জানতে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠায় জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য নিশ্চিত করে। জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ওই দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।

Advertisement

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সৌদি নিরাপত্তাবাহিনী তাদের গ্রেফতার করেছিল। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। শরিয়াহ আইনের অধীনে ‘তাআজির’ বা বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তির বিধান অনুযায়ী আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। মসজিদের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন করা এবং অপরাধ সংঘটনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিচারক এ শাস্তির আদেশ দেন বলে জানানো হয়েছে। পরে উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখলে তা চূড়ান্ত হয়। এরপর রাজকীয় আদেশে দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ জারি করা হয়।

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পবিত্র মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ধর্মীয় পবিত্রতা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শরিয়াহ আইন কার্যকরের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে পবিত্র স্থানে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

সৌদি আরবের বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে জেদ্দার আদালতে এ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলছিল। এ সময় বাংলাদেশের দুজন ব্যক্তি দোভাষী হিসেবে সহযোগিতা করেছেন। 

প্রসঙ্গত, কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা সনদের পক্ষভুক্ত দেশ বাংলাদেশ ও সৌদি আরব। সনদের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক বিদেশে গ্রেফতার হলে বন্দির অনুরোধে আটককারী দেশকে অবিলম্বে তার দেশের কনস্যুলেটকে বিষয়টি জানাতে হয়। একই সঙ্গে বন্দিকে কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগ দিতে হয়। তবে এ ক্ষেত্রে ওই দুই বাংলাদেশি কনস্যুলেটকে বিষয়টি জানানোর অনুরোধ করেছিলেন কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ দুই বাংলাদেশিকে আটক করে খুব দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে, এমনটা হওয়ার কথা নয়। আটক দুই বাংলাদেশির পক্ষে কেউ বাংলাদেশ মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি কেন, সেটিও রহস্যজনক।

ওই দুই বাংলাদেশির সৌদি আরবে অবস্থানের ধরন ও মেয়াদ, বিচারপ্রক্রিয়ায় তারা কোনো আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কিনা, কিংবা আপিলের সুযোগ নিয়েছিলেন কিনা, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ