শিরোনাম
◈ বিদেশে ইউনূস-আখতার-বাঁধনসহ বাংলাদেশিদের হেনস্তা, প্রশ্নের মুখে দূতাবাসের ভূমিকা ◈ চাকরির প্রলোভনে রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ, ৩০ বাংলাদেশির ২০ জনের মৃত্যু ◈ ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন ট্রেন, ভারত থেকে আসছে ২০০ কোচ; প্রথম চালানে এল ১৮টি, থাকছে বেবি কেয়ার রুম ও প্রার্থনাকক্ষ ◈ ভিউ-লাইক আর টাকার লোভে অন্যকে অপমান, বিবেক কোথায় আমাদের? এমনটা যদি আপনার মা কিংবা বোনের সঙ্গে ঘটত: মেহজাবীন চৌধুরী ◈ পশু জবাই নিয়ে বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি, দুঃখ প্রকাশ জবি প্রশাসনের ◈ হালান্ডের রেকর্ডের রাতেও ইতিহাদে পিএসজির জয় ◈ এক পদে দুই বেতন, ফিফা সভাপ‌তি ইনফান্তিনোকে ঘিরে নতুন বিতর্ক ◈ নারীদের প্রতি বৈষম্যের প্রতিবাদে আফগান লিগ ছাড়লেন তিন ইংলিশ ক্রিকেটার ◈ ধরা পড়ে কিশোররা, আড়ালে থেকে যায় ‘বড়ভাইয়েরা’: অপরাধ থামবে কীভাবে ? ◈ চট্টগ্রাম বন্দরে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে চায় নেদারল্যান্ডস

প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ দুপুর
আপডেট : ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৫ দুপুর

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা রুটে নতুন ট্রেন, ভারত থেকে আসছে ২০০ কোচ; প্রথম চালানে এল ১৮টি, থাকছে বেবি কেয়ার রুম ও প্রার্থনাকক্ষ

টাইমস অব ইন্ডিয়া: বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহের চুক্তির আওতায় প্রথম চালানে ১৮টি কোচ পাঠিয়েছে ভারত। গত ১২ অক্টোবর ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে কোচগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়।

ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক সার্ভিসেস লিমিটেডের (রাইটস) সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের ২০০টি লিংকে-হফম্যান-বুশ (এলএইচবি) ব্রডগেজ কোচ সরবরাহের চুক্তি হয় ২০২৪ সালের ২০ মে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৯ অক্টোবরের মধ্যে কোচগুলোর সরবরাহ, পরীক্ষণ ও চালুর কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

রাইটস জানিয়েছে, প্রথম চালানে পাঠানো ১৮টি কোচের মধ্যে ১১টি শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন শোভন চেয়ার কার, তিনটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত চেয়ার কার, দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্লিপার কার এবং দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পাওয়ার কার রয়েছে। পাওয়ার কার দুটিতে গার্ডের জন্য আলাদা কক্ষ ও মালপত্র রাখার জায়গা রয়েছে।

বাংলাদেশের উপযোগী করে তৈরি কোচ

Advertisement

ভারতের কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে নির্মিত এসব কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালনাগত চাহিদা ও যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। কোচগুলোতে বেশ কিছু নকশাগত পরিবর্তন ও আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

যাত্রীদের আরামের জন্য রয়েছে একাধিক অবস্থানে হেলানো যায় এমন বিশেষ আসন। আসনগুলোতে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পা রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কোচে পাখা, সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি, জরুরি সংকেত দেওয়ার ব্যবস্থা এবং আংশিক খোলা যায় এমন জানালা রাখা হয়েছে।

যাত্রীদের বাড়তি সুবিধার জন্য কোচগুলোতে শিশুর যত্ন নেওয়ার আলাদা কক্ষ ও প্রার্থনার কক্ষও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং পরিবেশবান্ধব বায়ো-টয়লেটের সঙ্গে ইলেকট্রো-নিউম্যাটিক চাপযুক্ত ফ্লাশিং ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য

কোচগুলোর কাঠামোতে স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে। এগুলো ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতিতে চলার উপযোগী করে নকশা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংঘর্ষের সময় যাত্রীদের সুরক্ষা বাড়াতে কোচগুলোর মূল কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইউরোপীয় মানদণ্ড ইএন ১৫২২৭ অনুসরণ করে সংঘর্ষজনিত অভিঘাত মোকাবিলার উপযোগী নকশা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের রেলপথে পরিচালনাগত পরিস্থিতি বিবেচনায় কোচগুলোর ছাদও অতিরিক্ত ভার বহনের উপযোগী করে মজবুত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে বাংলাদেশের জন্য তৈরি কোচগুলো ৪১৫ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চলার উপযোগী করা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের প্রচলিত কোচে সাধারণত ৭৫০ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়।

কোথায় চলবে নতুন কোচ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশের গেদে-দর্শনা আন্তদেশীয় রেল সংযোগ দিয়ে কোচগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। পরে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে হস্তান্তরের পর ভারতীয় রেলওয়ের একটি কারিগরি দল সৈয়দপুর ওয়ার্কশপে কোচগুলোর প্রস্তুতি ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারে।

নতুন কোচ সরবরাহের ভিত্তিতে ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা ব্রডগেজ রুটে দুটি নতুন আন্তনগর ট্রেন চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে যমুনা সেতু-পাবনা, ঢাকা-পদ্মা সেতু এবং খুলনা-মোংলা রেলপথসহ কয়েকটি রেলপথ চালু হয়েছে। তবে ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের সংকটের কারণে এসব পথে পর্যাপ্ত ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়নি। নতুন ২০০টি কোচ যুক্ত হলে নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলে রেল যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছিলেন, একটি প্রকল্পের আওতায় ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। কোচগুলো দেশে আসার পর নতুন ট্রেনের রুট নির্ধারণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশে রাইটসের আগের সরবরাহ

বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে রাইটসের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে ৩০টি এবং ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর আরও ১০টি ব্রডগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সরবরাহ করে। পরে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ভারতের রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে বাংলাদেশ ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ পায়। এসব লোকোমোটিভ ও কোচ ভারত সরকারের ঋণসহায়তার আওতায় সরবরাহ করা হয়েছিল।

রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ২৮০টির বেশি রেল ইঞ্জিন এবং ১ হাজার ৮৫টির বেশি কোচ সরবরাহ করেছে। এ ছাড়া ডিজেলচালিত একাধিক ইউনিটের ট্রেনসেটও সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

নবরত্ন মর্যাদাপ্রাপ্ত ভারতের এই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়াসহ বিশ্বের ৫৫টির বেশি দেশে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।