প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মৌলভিবাজারের জুড়ীতে ১৭৮ হেক্টর জমিতে ১৪৬টি কমলা বাগান

ইনকিলাব : দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। এখনই কমলার উৎপাদন মৌসুম। চাষিরা সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। গাছে কমলা ঝুলতে দেখে বাগানগুলোর মালিকরাও দারুণ খুশি। জুড়ি উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের রূপছড়া, লালছড়া, হায়াছড়া, শুকনাছড়া ও কচুরগুলসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে এসব কমলা চাষ হয়ে আসছে। সিলেটের পাশাপাশি দেশজুড়ে এই কমলার সুনামও রয়েছে।

চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জুড়ীতে দুই ধরনের কমলার চাষ বেশি হয়। এর মধ্যে নাগপুরী ও খাসি। তবে খাসি কমলার চাষ এখানে বেশি। নাগপুরী কমলাগুলো আকারে বড় আর খাসিগুলো আকারে কিছুটা ছোট। সরেজমিন বেশ কয়েকটি কমলার বাগান ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা বিক্রির জন্য গাছ থেকে পাকা কমলা সংগ্রহ করছেন।

বাগান থেকে বাড়িতে নিয়ে উঠানে বসে পরিবারের সবাই মিলে বিভিন্ন আকার অনুসারে কমলা বাছাইয়ের মাধ্যমে আলাদা করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এসব কমলা ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর জন্য পাকা, আধা পাকা, ছোট ও বড়গুলো আলাদা আলাদা করে বাশের তৈরি খাচায় গুছিয়ে রাখা হয়।

মৌলভীবাজার জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১৭৮ হেক্টর জমিতে কমলার বাগান হচ্ছে ১৪৬টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় জুড়ী উপজেলায় ৯২ হেক্টর জমিতে, বড়লেখায় ৬০ হেক্টর, কুলাউড়ায় ২০ হেক্টরে। কমলা চাষের সাথে জড়িত রয়েছেন ১৪৬ জন। গত বছর প্রতি হেক্টরে কমলার উৎপাদন ছিল চার থেকে সাড়ে চার টন। চলতি বছর প্রতি হেক্টরে উৎপাদন ৬ মেট্টিক টন ধরা হয়েছে।

উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের লালছড়া এলাকার কমলা বাগানের মালিক জয়নুল ইসলাম জানান, তার বাগানে কমলা গাছ রয়েছে এক হাজার ২০০টি। চলতি বছর কমলার বাম্পার ফলন ভালো হয়েছে। তবে পোকামাকড়ের আক্রমনে কিছু কমলা নষ্ট হচ্ছে। হেমন্ত ঋতু শুরু প্রায় দেড় সপ্তাহ আগেই প্রায় ২ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেছেন। তিনি আশা করছেন শীতের সময় প্রায় ৫ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করবেন।

অপরদিকে কমলা চাষিরা ভারতীয় কমলা আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তাদের কথা, আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের কমলার জন্য স্থানীয়ভাবে বাগানে উৎপাদিত কমলার সঠিক দাম পাওয়া যায় না। ভারতীয় কমলা দামে কম ও কিছুটা মিষ্টি হওয়ায় গ্রাহকদের চাহিদা বেশি। তবে দেশি কমলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে ভারতীয় কমলা আসা বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কেননা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কমলা দিয়েই দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব। আশা করা যাচ্ছে আগামী বছর কমলার আগাম চাষ সম্ভব হতে পারে। অনুলিখন : তন্নীমা আক্তার

সর্বাধিক পঠিত