ইলন মাস্কের এক্স অ্যাকাউন্ট, দ্য উইক: বাংলাদেশে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মার্কিন ধনকুবের ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক। একই সময়ে ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম এখনো শুরু করতে না পারায় দেশটির নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝেড়েছেন তিনি। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় স্টারলিংকের কার্যক্রমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে বাংলালিংকের মাধ্যমে স্টারলিংক মোবাইল চালু হওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক্সে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মাস্ক। তিনি লিখেছেন, Starlink Mobile now available in Bangladesh! যার অর্থ বাংলাদেশে এখন স্টারলিংক মোবাইল পাওয়া যাচ্ছে! এর মাধ্যমে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থাকা এলাকাতেও সামঞ্জস্যপূর্ণ মোবাইল ফোনে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংযোগ পাওয়া যাবে।
বাংলালিংক জানিয়েছে, বাংলাদেশই দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ যেখানে স্টারলিংক-চালিত স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল সেবা চালু হয়েছে। এ সেবা ব্যবহার করতে আলাদা স্যাটেলাইট ডিশ বা বিশেষ কোনো হ্যান্ডসেটের প্রয়োজন নেই। একটি ৪জি মোবাইল ফোন ও বাংলালিংকের সিম থাকলেই মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা এলাকায় নির্দিষ্ট সেবা ব্যবহার করা যাবে।
প্রাথমিকভাবে এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে কাজে আসবে সমুদ্র ও প্রত্যন্ত এলাকায় থাকা মানুষ, জেলে, পর্যটক এবং উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকা কিংবা মোবাইল টাওয়ারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে যোগাযোগের সুযোগ থাকবে।
বাংলালিংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চালুর প্রথম মাসে যে কোনো ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেলের সঙ্গে স্টারলিংক ইন্টারনেট বিনামূল্যে দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট মাসিক ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেলের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই এই সুবিধা পাওয়া যাবে। প্রতি মাসে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য পাঁচটি এসএমএসও বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ভারতে স্টারলিংকের কার্যক্রম এখনো আটকে আছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগের লাইসেন্স পেয়েছে, বাণিজ্যিক সেবা চালুর আগে নিরাপত্তা যাচাই ও স্পেকট্রাম বরাদ্দসহ কয়েকটি নিয়ন্ত্রণমূলক প্রক্রিয়া শেষ হওয়া বাকি।
এই বিলম্ব নিয়েই বুধবার (৭ অক্টোবর) ভারত সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন মাস্ক। তিনি অভিযোগ করেন, ‘কিছু অলিগার্ক’ ভারতীয় বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশ ঠেকিয়ে নিজেদের ‘একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ’ ধরে রাখতে চাইছে। এমনকি তিনি এটিকে ‘ভারতের মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ’ বলেও মন্তব্য করেন।
মাস্ক কারও নাম উল্লেখ না করলেও তার মন্তব্যকে ভারতের বড় টেলিকম কোম্পানিগুলো- রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেলের দিকে ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে মাস্ক কোনো প্রমাণ দেননি। ভারত সরকারও তার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বলেছে, দেশটির স্যাটেলাইট যোগাযোগের নিয়ন্ত্রক কাঠামো ‘ন্যায্য ও বৈষম্যহীন’। স্টারলিংকসহ তিনটি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে প্রায় একই ধরনের নিয়ন্ত্রক পর্যায়ে রয়েছে এবং সবার ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা যাচাই চলছে। এসব যাচাই শেষ হওয়ার পরই স্পেকট্রাম বরাদ্দের প্রক্রিয়া এগোবে।
এদিকে, ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশ বিলম্বিত হওয়ার মধ্যেই প্রতিবেশী বাংলাদেশে সরাসরি মোবাইল ফোনে স্যাটেলাইট সংযোগ চালু হওয়াকে স্টারলিংকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে, দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল বাজার ভারতের আগে বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি চালু হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে বাংলাদেশে চালু হওয়া সেবাটি এখনই প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক বা পূর্ণাঙ্গ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের বিকল্প নয়। মূল লক্ষ্য হলো যেখানে মোবাইল টাওয়ারের সংকেত নেই, সেখানে সীমিত পরিসরে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় সংযোগ নিশ্চিত করা।