আন্তর্জাতিক ডেস্ক: স্কুলের বেহাল দশা, শিক্ষকসংকট ও সরকারি বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে উত্তাল ফ্রান্স। দুই সপ্তাহের আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়েছেন অন্তত ৬ হাজার ৫০০ জন। তাঁদের বড় অংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার দেশজুড়ে রাস্তায় নামেন প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার মানুষ। এর মধ্যেই আন্দোলনকে ঘিরে বিস্ফোরক মন্তব্য করে উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ফরাসি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে রয়েছে ‘অনিয়ন্ত্রিত গণ-অভিবাসন’ এবং ‘একটি ঐতিহ্যবাহী দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য ইসলামের চেষ্টা’। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ফরাসি প্রশাসন ও আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, আন্দোলনের সঙ্গে ধর্মীয় রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। -- আনন্দবাজার
প্যারিস, মার্সেই, স্ত্রাসবুর ও লিলসহ বিভিন্ন শহরে মঙ্গলবার ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। রাজধানী প্যারিসেই অংশ নেন প্রায় ৫৬ হাজার মানুষ। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করেছে পুলিশ। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন শত শত মানুষ। সরকারের দাবি, আহত পুলিশ সদস্যের সংখ্যা অন্তত ৭১৫।
পুলিশি দমন-পীড়ন নিয়ে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায়। সোমবার পুলিশের ছোড়া গ্রেনেডে তার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ পুলিশের পদক্ষেপকে ‘সংগত’ বলে দাবি করেছেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ফ্রান্সের অনেক স্কুলে ভাঙাচোরা শ্রেণিকক্ষ, অপর্যাপ্ত শীতাতপব্যবস্থা, শিক্ষকসংকট এমনকি ইঁদুরের উপদ্রবও রয়েছে। বাজেট ছাঁটাই ও দীর্ঘ পাঠ্যসূচির চাপেও ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতির কারণে মঙ্গলবার প্রায় ৮৯১টি স্কুলে আংশিক বা পুরোপুরি পাঠদান বন্ধ ছিল।
ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বৈষম্য ও সামাজিক খাতে সরকারি ব্যয় কমানোর ক্ষোভও যুক্ত হয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সরকারের ওপর বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ। এর মধ্যেই বিক্ষোভের আঁচ পড়েছে বেলজিয়ামেও; লিয়েজে সংঘর্ষের পর অন্তত ৩০ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে আগামী বৃহস্পতিবার ফের দেশ অচল করার ডাক দিয়েছে ফরাসি ছাত্র সংগঠনগুলো।