শিরোনাম
◈ অ্যাপস ভিত্তিক রাইড পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের তথ্য চুরির দাবি, মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে ৪ লাখ ডলার ◈ শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো, ডিসেম্বরে চূড়ায় উঠতে পারে; প্রভাব থাকতে পারে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ◈ ‘বাবা, তারা আমাকে আটকে রেখেছে উদ্ধার করো, না হলে ওরা মেরে ফেলবে’—শেষ ফোনের কয়েক ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার ◈ বিশ্বের সেরা দুই শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাকৃবির ১৬ গবেষক ◈ ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভের আগে ভারতজুড়ে কর্মী-সমর্থকদের আটক করা হচ্ছে, ‘আরও মানুষ রাজপথে নামবে’: অভিজিৎ দীপকে ◈ বাংলাদেশে ফ্রি ট্রেড জোন ও রেলভিত্তিক আইসিডিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ◈ বাংলাদেশে স্টারলিংকের মোবাইল সেবা চালু নিয়ে উচ্ছ্বাস ইলন মাস্কের, ক্ষোভ ঝারলেন ভারতের ওপর ◈ রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটির অনুমোদন, গ্রিডে বিদ্যুৎ আসতে আরও দুই ধাপ ◈ ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের আহ্বান বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ◈ জানুয়ারি থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সোমবার

প্রকাশিত : ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৭ রাত
আপডেট : ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘বাবা, তারা আমাকে আটকে রেখেছে উদ্ধার করো, না হলে ওরা মেরে ফেলবে’—শেষ ফোনের কয়েক ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

বাবা, তারা আমাকে আটকে রেখেছে। তুমি এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাও। না হয় ওরা আমাকে মেরে ফেলবে বাবা…’—মোবাইল ফোনে জান্নাতুত তাজমীনের এটাই ছিল বাবার সঙ্গে শেষ কথা। আকুতিভরা সেই শেষ ফোনের কয়েক ঘণ্টা পরই লালমাইয়ে মিলল তার নিথর দেহ।

কুমিল্লায় লালমাই উপজেলায় ফসলি জমি থেকে স্কুলছাত্রী জান্নাতুত তাজমীনের (১৫) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর (মানুমুড়া) এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জান্নাতুত তাজমীন রেনাটা পিএলসি কুমিল্লায় কর্মরত আবদুল আলীম ও কেয়া আক্তার দম্পতির মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামে। বাবার চাকরির সুবাদে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত তাজমীন। সে কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

Advertisement

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার দিন আগে বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমীন। পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে সে কক্সবাজারে বেড়াতে যায়। সেখান থেকে বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়।

পথিমধ্যে রাতে বাবা আবদুল আলীমকে ফোন করে তাজমীন কাঁদতে কাঁদতে বলে, দুর্বৃত্তরা তাকে আটকে রেখেছে এবং দ্রুত উদ্ধার না করলে মেরে ফেলবে। তবে ঠিক কোন স্থানে তাকে আটকে রাখা হয়েছে, সেই তথ্য সে দিতে পারেনি। এর কিছুক্ষণ পর বাবা মেয়ের ফোনে একাধিকবার কল করলেও তা আর রিসিভ হয়নি। এতে পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠায় পড়েন। মেয়ের সন্ধানে ব্যাকুল বাবা রাতেই খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং বৃহস্পতিবার ভোরে লালমাই থানায় গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ধানখেতে এক তরুণীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা পুলিশে খবর দেন। লাশের অদূরেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। খবর পেয়ে লালমাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

জান্নাতুত তাজমীনের বাবা আবদুল আলীম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মেয়েটি রাতে ফোনে কেঁদে কেঁদে উদ্ধারের আকুতি জানিয়েছিল। কিন্তু কোথায় আছে বলতে পারেনি। সকালে এসে থানায় আমাকে মেয়ের লাশ দেখতে হলো।

ফরিদা বিদ্যায়তনের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ জানান, তাজমীন তাদের বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত এবং হাজিরা খাতায় তার রোল নম্বর ছিল ৩০। তবে গত মার্চ থেকে সে অন্য একটি স্কুলে ভর্তি হয়।

লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডের ক্লু এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করেছে।

  • সর্বশেষ