শিরোনাম
◈ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ থেকে ‘সাদা মহিষ’, নাম ও বানান বিতর্কে পদ হারালেন জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ◈ যশোরের রাজারহাটে চামড়ার দাম নিয়ে হতাশা, আবারও বাজার ধসের শঙ্কা ◈ বাংলাদেশসহ বিশ্বের আকাশে আজ রাতে দেখা মিলতে পারে বিরল ‘ব্লু মুন' ◈ ১০ মিটারের মধ্যে এলেই 'নীরব মৃত্যু' : ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীকে কোণঠাসা করছে ঘাতক রোবট ◈ শেখ হাসিনা পদত্যাগপত্র লিখেছিলেন কিন্তু তিনি জমা দিয়ে যেতে পারেন নাই, ভ্যানিটি ব্যাগে করে নিয়ে গেছেন: মতিউর রহমান চৌধুরী ◈ চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন থেকে বঞ্চিত করে যেভাবে অভিবাসীদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প ◈ নতুন জীবনের খোঁজে দেশ ছাড়ছেন আমেরিকানরা, পরামর্শ নিতে খরচ করছেন শত শত ডলার ◈ বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে অমিত শাহর ‘ব্লুপ্রিন্ট’, কী আছে পরিকল্পনায়? ◈ রোবটের শক্তিতে পাল্টে যাচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়া পড়েছে রক্ষণাত্মক অবস্থানে (ভিডিও) ◈ নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার: ডিএনএ পরীক্ষায় স্তন ক্যানসারের অনেক রোগীর আর লাগবে না কেমোথেরাপি

প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২৬, ১২:৩২ রাত
আপডেট : ৩১ মে, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কাঁধে স্ত্রীর লাশ, বুকে সন্তানের নিথর দেহ; কান্নারত মেয়ের হাত ধরে বাবার অসহায় ছুটে চলার দৃশ্য কাঁদালো সবাইকে

কাঁধে স্ত্রীর লাশ, বুকে সন্তানের নিথর দেহ নিতে দেখা যায় দিনমজুর সুজন মিয়াকে। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত।

ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো গভীর শোকে। নরসিংদী রেলস্টেশনে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন এক মা ও তার দুই বছরের শিশুসন্তান। আর দুর্ঘটনার পর স্ত্রীকে কাঁধে ও সন্তানের নিথর দেহ বুকে নিয়ে বাবার হাসপাতালের দিকে ছুটে যাওয়ার হৃদয়বিদারক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সবার চোখে জল এনে দিয়েছে।

জানা যায়, দিনমজুর সুজন মিয়া ঈদের কেনাকাটার জন্য স্ত্রী সাথী বেগম, দুই বছরের ছেলে হাছেন এবং পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে গত বুধবার (২৭ মে) নরসিংদী শহরে এসেছিলেন। কেনাকাটা শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা নরসিংদী রেলস্টেশনে পৌঁছান।

বাড়ি ফেরার জন্য রেললাইন পার হওয়ার সময় তারা দেখতে পান ঢাকাগামী আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে। অন্য অনেক যাত্রীর মতো তারাও একটি বগির এক পাশ দিয়ে উঠে অন্য পাশ দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় সাথী বেগমের কোলে ছিল ছোট ছেলে হাছেন। ঠিক তখনই দ্রুতগতিতে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল আন্তঃনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস। ট্রেনটির ধাক্কায় সাথী বেগম ও তার কোলে থাকা শিশু হাছেন ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পরপরই সুজন মিয়া আহত স্ত্রীকে কাঁধে তুলে নেন, বুকে জড়িয়ে নেন রক্তাক্ত সন্তানকে এবং অন্য হাতে ছোট মেয়ের হাত ধরে ছুটতে থাকেন নরসিংদী জেলা হাসপাতালের দিকে। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল।

এ ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই পরিবারের এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে শোক প্রকাশ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক পোস্টে লেখা হয়, ‘কাঁধে স্ত্রীর লাশ, বুকে সন্তানের নিথর দেহ, আর হাতে কান্নারত মেয়ের হাত—নিমিষেই একটি পরিবারের ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে।’

আরেকজন লেখেন, ‘এক জীবনে এত কষ্ট কীভাবে সহ্য করা সম্ভব? এই দৃশ্য যে কাউকে নাড়া দেবে।’

স্ত্রী ও সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুজন মিয়া। তিনি বলেন, ‘চোখের সামনেই আমার স্ত্রী আর ছেলেকে হারালাম। ট্রেন আসতে দেখে চিৎকার করছিলাম, আটকানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুই করতে পারিনি।’

নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক জানান, স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা মহানগর এক্সপ্রেসের বগি দিয়ে পারাপারের সময় কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়