স্পোর্টস ডেস্ক : ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপের একটি মন্তব্য ঘিরে উত্তপ্ত চিনের ক্রীড়াঙ্গন। চিনের সাবেক নেতা মাও জেদংকে ‘একনায়ক’ বলায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। একাধিকবার ক্ষমা চেয়েও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি তিনি। চিনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তাঁর বিজ্ঞাপনী প্রচারও। এরই মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার ম্যাচের সম্প্রচার বন্ধ হওয়ায় বড় আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় পড়েছে স্পেনের ফুটবল লিগ লা লিগা। ক্ষতির পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। --- সংবাদপ্রতিদিন
মিম থেকে বিতর্কের সূত্রপাত
ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি মিমকে কেন্দ্র করে। চিনের সাবেক নেতা মাও জেদংয়ের ছবিতে এমবাপের মুখ বসিয়ে তৈরি মিমটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। সেখান থেকেই ফরাসি তারকার সঙ্গে জুড়ে যায় ‘ডিক্টেটর’ বা ‘একনায়ক’ তকমা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমবাপে জানান, মিমটি তাঁরও বেশ পছন্দের। তবে মাও জেদংয়ের নাম মনে করতে না পেরে তাঁকে চিনের একজন একনায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। আর এতেই শুরু হয় বিতর্ক। এমবাপের মন্তব্যকে ভালোভাবে নেয়নি চিনের একটি অংশ। বিষয়টি দ্রুতই গড়ায় রাজনৈতিক বিতর্কে।
ক্ষমা চেয়েও মেলেনি রেহাই
পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেয় এমবাপে, তাঁর ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং লা লিগা কর্তৃপক্ষ। এমনকি লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস স্পেনে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও বৈঠক করেন। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে এত কিছুর পরও বিতর্কের অবসান হয়নি।
চিনে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী প্রচার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এমবাপের ছবি। বাতিল হয়েছে তাঁর বিজ্ঞাপনী চুক্তিও। ফলে মাঠের বাইরেও আর্থিক ও বাণিজ্যিক চাপের মুখে পড়েছেন এই ফরাসি তারকা।
বড় ক্ষতির মুখে লা লিগা?
এমবাপেকে ঘিরে বিতর্কের প্রভাব পড়েছে লা লিগার সম্প্রচারেও। রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার ম্যাচের সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে চিনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে দেশটিতে লা লিগার সম্প্রচার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তেমনটা হলে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
চিনের মতো বড় বাজারে সম্প্রচার বন্ধ হয়ে গেলে শুধু লা লিগার আয়ই নয়, স্পেনের ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে লিগ কর্তৃপক্ষ।
বিতর্কে রাজনীতির ছায়া?
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মাও জেদংকে নিয়ে চিনের সাধারণ মানুষের মনোভাব সব সময় একরকম নয়। তবে দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কাছে মাওয়ের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তাঁকে নিয়ে অবমাননাকর হিসেবে বিবেচিত কোনো মন্তব্য সহজেই রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, এমবাপের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় চিনের এমন কঠোর অবস্থান কি কেবল মাও জেদংকে ঘিরে আবেগের বহিঃপ্রকাশ, নাকি এর পেছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ?
তবে এমবাপের মন্তব্যের জেরে চিনের পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে, এমন দাবির পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ নেই। আপাতত এই বিতর্কের প্রভাব পড়ছে ফুটবল, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কে। আর সংকট দীর্ঘায়িত হলে সবচেয়ে বড় আর্থিক ধাক্কা সামলাতে হতে পারে লা লিগাকেই।