শিরোনাম
◈ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ৩৪৩০ জন নিয়োগের অনুমোদন ◈ সরকার গঠনের লড়াইয়ে বিপাকে নেতানিয়াহু, জোট ছাড়ার ঘোষণা কট্টরপন্থি ইহুদি দলের ◈ এলডিসি উত্তরণে আরও ৩ বছর সময় পেল বাংলাদেশ, জাতিসংঘের অনুমোদন ◈ আয়ারল‌্যা‌ন্ডের ডাবলিন বিমানবন্দরে সাঙ্গাকারাকে হেনস্থা, পরিবারকে হুমকি ◈ মাও' মন্ত‌ব্যে ক্ষমা চেয়েও রেহাই নেই এমবাপের, চীনে হোর্ডিং থেকে সরছে ছবি ◈ মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট সংযোজনের সময় বাড়াল বিআরটিএ, শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর ◈ লন্ডনে ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে হুলিয়া, ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার পাউন্ড পুরস্কার ◈ সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নতুন সিদ্ধান্ত, ১ নভেম্বর ওয়েবসাইট নিবন্ধন শুরু হলেও জাহাজ চলবে ৩-৪ নভেম্বর থেকে ◈ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপির মির্জা ফয়সল বিজয়ী ◈ সরকারি কর্মচারীদের বাসা সাবলেট বন্ধের নির্দেশ, ভাড়াটিয়া সরানোর শেষ সময় ৩১ অক্টোবর

প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৬ দুপুর
আপডেট : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ৩৪৩০ জন নিয়োগের অনুমোদন

দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার জনবল নিয়োগ দেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে অস্থায়ী ভিত্তিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ২ হাজার ২৬ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ১ হাজার ৪০৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। মূলত বর্জ্য অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এই ৩ হাজার ৪৩০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। দুই সিটিতে এই নিয়োগের প্রস্তাবে ১২ অক্টোবর অনুমোদন দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

তবে এই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে দুই সিটি করপোরেশনকে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। চিঠিতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, নিয়োগে কোনো অনিয়ম হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।

দুই সিটি করপোরেশনকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, জরুরি প্রয়োজনে প্রকৃত চাহিদার আলোকেই কেবল দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ করতে হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনোভাবেই জনবল নিয়োগ দেওয়া যাবে না। এ ছাড়া অনুমোদিত সংখ্যার (যেমন দক্ষিণ সিটিতে ২ হাজার ২৬ জন) অতিরিক্ত কোনো জনবল নেওয়া যাবে না। চিঠিতে আরও বলা হয়, কোনো অবস্থাতেই মাসিক ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া যাবে না, অবশ্যই দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করাতে হবে। নতুন এই কর্মীদের মজুরি দিতে হবে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব বাজেট থেকে; এ জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে বাড়তি কোনো অর্থ চাওয়া যাবে না। নিয়োগে কোনো অনিয়ম দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষই দায়ী থাকবে। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের মজুরির ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের জারি করা নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।

অর্থ বিভাগের ‘দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ’ নীতিমালা অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরির হার ৮০০ টাকা। সে হিসাবে মাসে একজন শ্রমিকের মজুরি দাঁড়াবে ২৪ হাজার টাকা। নীতিমালায় অন্য বিভাগীয় শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৭৫০ টাকা এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা আছে।

Advertisement

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিদ্যমান জনবল দিয়ে দুই সিটি করপোরেশনের দৈনন্দিন সেবা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আরও কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে। তবে অতীতে দুই সিটিতেই জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর নজির রয়েছে। রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিজেদের পছন্দের লোক ঢোকানোর চেষ্টা করেন। এমনকি চাকরি স্থায়ী করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেকের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও ওঠে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিপুলসংখ্যক এই জনবল কোন প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত করেনি দুই সিটি করপোরেশন। এত দিন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে আউটসোর্সিং বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মী নেওয়া হতো। তবে গত ২১ সেপ্টেম্বর ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবা গ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫’ সংশোধন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সংশোধিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলো সরাসরি লোক নিয়োগ করতে পারবে। এ ছাড়া কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগ চাইলে অর্থ বিভাগের অনুমোদিত বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান আইআইএফসির (ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি) মাধ্যমেও নিয়োগ দিতে পারবে।

গত সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণবিষয়ক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার জানান, সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা সংস্থাগুলো চাইলে নিজেরাও সরাসরি এই জনবল নিয়োগ দিতে পারবে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খয়বর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, কী প্রক্রিয়ায় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন পুরোপুরি সতর্ক রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী কাজ করবে সিটি করপোরেশন।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের পর্যাপ্ত জনবলের তীব্র প্রয়োজন রয়েছে। অনেক আগেই বাড়তি জনবলের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে মন্ত্রণালয় অনুমোদিত নথিটি এখনো তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকায় প্রতিদিন যে পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয়, তা দ্রুত অপসারণ করতে আরও জনবল প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করতেও লোকবল বাড়ানো জরুরি। তবে এই নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর পরামর্শ, দুই সিটি করপোরেশনের উচিত একটি শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা, যারা প্রভাবমুক্ত থেকে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করবে।

সূত্র : প্রথম আলো

  • সর্বশেষ